জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে ‘সুলতানার স্বপ্ন অবারিত: তরুণীর অগ্রযাত্রা’ বিষয়ে পাঁচ নারী পর্বতারোহীর সঙ্গে আলাপচারিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। আলাপচারিতায় অংশগ্রহণ করেন পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার, ইয়াছমিন লিসা, মৌসুমী আক্তার এপি এবং অনলাইনে যুক্ত হন তাহুরা সুলতানা রেখা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার, ইয়াছমিন লিসা, মৌসুমী আক্তার এপিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ফওজিয়া মোসলেম। এ সময় পাচঁ পর্বতারোহীর পর্বতারোহণের ভিডিওচিত্র ‘অভিযাত্রী’ প্রদর্শন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নিজের কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সুলতানার স্বপ্ন সবসময় অবারিত, এটিকে ইউনেস্কো সম্পদ হিসেবে ভেবেছে যা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, সকল প্রতিকূলতাকে মোকাবেলা করে নারীদের শক্তিকে একত্রিত করে তাদের ভবিষ্যতে এগিয়ে নিয়ে যেতে সুলতানার স্বপ্ন অবারিতভাবে আমাদের পথ দেখাবে। নারীর জয় হোক সর্বত্র।

স্বাগত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, রোকেয়ার লেখা সুলতানার স্বপ্ন নারী পর্বতারোহীদের দূর্গম যাত্রা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে একটি অন্যতম অনুপ্রেরণার উৎস। ১৮৮০ সালে রংপুরে এক রক্ষণশীল সমাজে তার জন্ম হয়েছিলো, যেখানে নারীরা সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলো। সেই সময়ে তিনি পরিবারে থেকে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলার নারী সমাজকে পিতৃতন্ত্রের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করার আকাঙ্খা পূরণে কাজ করেছেন। তার এই আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেছে সুলতানার স্বপ্ন বইটি রচনার মধ্য দিয়ে। তিনি আরো বলেন, প্রচলিত জেন্ডার বিভাজিত রোলের পরিবর্তন হলে কিভাবে নারী সফলভাবে তার ভূমিকা পালন করতে পারবেন সেই বিষয়টিও রোকেয়া দেখিয়েছেন। অনেক প্রতিূকূলতাকে মোকাবেলা করে আজকে পাচঁজন নারীপর্বতারোহী যে নিজ লক্ষ্যে পৌঁছেছেন তা এদেশের অনেক তরুণীকে নিজ স্বপ্নপূরণে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

আলাপচারিতায় অংশগ্রহণ করে পর্বতারোহী নিশাত মজুমদার বলেন, ২০১২ সালের জুন মাসে প্রথম পর্বত জয়ের পর দেশে ফিরে সকলের কাছে যে সম্মান পাই তা অকল্পনীয়। তিনি বলেন, আমার অনুপ্রেরণার উৎস আমার মা। তিনি তার এই জয়ের মাধ্যমে নারীরা সবকিছু পারলেও তাদের মনে ‘আমি কি পারবো’- এই ট্যাবুটি ভাঙতে চেয়েছেন। তিনি জানাতে চেয়েছেন পাহাড় সম কঠিন বা পাহাড় কে জয় করা কঠিন কিছু নয়।

পর্বতারোহী ইয়াছমিন লিসা বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা সুযোগ পেলে সকলেই হিমালয় জয় করতে পারে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে মেয়েরা বড় হয়। আমাদের হিমালয় যাত্রার সঙ্গে রোকেয়ার সুলতানার স্বপ্নকে যুক্ত হতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অবদান আছে উল্লেখ করে বলেন মেয়েরা ঐক্যবদ্ধ হলে যেকোনো কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়। সাধারণ নারীরা যারা জীবন সংগ্রামে তৎপর তারাই আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস।

পর্বতারোহী মৌসুমী আক্তার এপি বলেন, রোকেয়া যেভাবে সবাইকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন নিশাত মজুমদার ও পর্বত জয়ের জন্য আমাদের সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন। টিমের জন্যই এতদূর যেতে পেরেছি।

পর্বতারোহী তাহুরা সুলতানা রেখা বলেন, আমরা প্রত্যেকেই একেকজন সুলতানা। আমরা প্রত্যেকেই প্রত্যেককে স্বপ্ন দেখাই, পাহাড় থেকে ফিরে প্রতিবারই নিজেকে নতুন রুপে আবিষ্কার করি।

আলাপচারিতা শেষে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার নাজনীন আখতার, দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার রাবেয়া বেবী এবং গ্রিন ভয়েজ বহ্নিশিখার ফাহমিদা ইয়াসমিন তিথি।

আলাপচারিতায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা কমিটির নেত্রী, সম্পাদক, কর্মকর্তা, তরুণী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ প্রায় ১৫০ জন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ফজিলা খাতুন লতা। বিজ্ঞপ্তি