টানা চার কার্যদিবস উত্থানের পর গতকাল দর সংশোধন হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। এদিন সূচক ও লেনদেন দুই কমেছে। এর মধ্যে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটিতে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকাল সূচক ও লেনদেন কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, টানা চার কার্যদিবস উত্থানের কারণে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে থাকা শেয়ারের দাম বেড়েছে। ফলে অনেকেই এ মুনাফা তুলে নেয়ার জন্য শেয়ার বিক্রি করেছেন। বিশেষ করে সিরামিক, সেবা, প্রকৌশল ও চামড়া খাতের শেয়ার বিক্রির চাপ ছিল সবচেয়ে বেশি। এতে গতকাল পুঁজিবাজারে দর সংশোধন হয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরু থেকেই শেয়ার বিক্রির চাপে পয়েন্ট হারাতে থাকে সূচক। লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত এ নিম্নমুখিতা অব্যাহত ছিল। ফলে গতকাল দিন শেষে ডিএসইএক্স ৮৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৯৩২ পয়েন্টে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৬ হাজার ১৬ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৭১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ২৮৫ পয়েন্ট। গতকাল নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস ৩০ প্রায় ৩১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ২ হাজার ১৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৮৪ পয়েন্ট।
গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারের। এ পাঁচ কোম্পানির দরপতনে সূচক কমেছে ২৭ দশমিক ৮ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গতকাল ১ হাজার ১৪৩ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১০ কোটি টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে মোট ৪০৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৫৩টির, কমেছে ৩৩৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির বাজারদর।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে মোট লেনদেনের ২৪ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে ছিল ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেন ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে। আর ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে টেলিযোগাযোগ খাত। এছাড়া বস্ত্র খাতে ৭ দশমিক ৭ ও খাদ্য খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে কেবল টেলিযোগাযোগ ও জীবন বীমা খাতে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল সিরামিক, সেবা ও প্রকৌশল খাত।
সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৮৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০ হাজার ৩৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১০ হাজার ৪১৯ পয়েন্ট। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ১২৫ পয়েন্ট বা দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১৭ হাজার ১৫৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৭ হাজার ২৮২ পয়েন্ট। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৬৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৮টির, কমেছে ১৮৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ২০ কোটি ১৭ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৩০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।










