কৃষি বালাইনাশক উৎপাদন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি কর্মশালা করেছে বাংলাদেশ অ্যাগ্রোকেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বামা)। আজ শনিবার (১৭ মে) ঢাকার ফার্মগেটে কটন ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সভাকক্ষে ‘উৎপাদন পরিপালন ও নিয়ন্ত্রক পরিপালন’ শীর্ষক দিনব্যাপী এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (এপিবিপিসি) এ কর্মশালার অর্থায়নে সহায়তা করেছে।
এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল অ্যাগ্রোকেমিক্যাল উৎপাদন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় করা, উৎপাদন পরিবেশের মান বাড়ানো, আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির সুযোগ তৈরি করা এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এপিবিপিসির উপপরিচালক জনাব আনিসুর রহমান খান। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের কৃষি উপকরণ শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এর জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। অ্যাগ্রোকেমিক্যাল শিল্প শুধু কৃষি খাতের জন্যই নয়, দেশের অর্থনীতির সার্বিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বামার সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, তাদের অন্যতম লক্ষ্য হলো কৃষি উপকরণ শিল্পে ‘বাংলাদেশে তৈরি’ মার্কাকে শক্তিশালীভাবে প্রতিষ্ঠা করা। দেশীয় প্রযুক্তির উৎকর্ষতা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে তারা সেই লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বামার সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অ্যাগ্রোকেমিক্যাল শিল্প কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড মেনে উৎপাদন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো থাকা অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে অবশ্যই গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) অনুসরণ করতে হবে।
কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু নোমান ফারুক আহমেদ। তিনি অ্যাগ্রোকেমিক্যাল উৎপাদনে গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি), স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি), গবেষণাগার পরীক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়ন (আর অ্যান্ড ডি) এবং আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষার গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন অ্যাগ্রোকেমিক্যাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ৩৫ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন কারখানা ব্যবস্থাপক, গুণমান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রক বিষয়ক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নীতি নির্ধারণ পর্যায়ের পেশাজীবীরা। তারা আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিরাপদ উৎপাদন, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা, শ্রমিক সুরক্ষা ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বামা জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বিভাগীয় পর্যায়েও এমন কর্মশালা নিয়মিত আয়োজন করা হবে, যাতে স্থানীয় উৎপাদকরা উপকৃত হন এবং দেশব্যাপী একটি মানসম্পন্ন ও রফতানিযোগ্য অ্যাগ্রোকেমিক্যাল শিল্প গড়ে তোলা যায়। —বিজ্ঞপ্তি










