জাপানে মে মাসে করপোরেট দেউলিয়াত্বের আবেদন এক হাজার ছাড়িয়েছে। ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় আবেদন বেড়েছে ৪২ দশমিক ২ শতাংশ। ক্রেডিট রিসার্চ ফার্ম টোকিও শোকো রিসার্চ সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর দ্য জাপান টাইমস।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যখন পাওনাদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয় তখন ওই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় দেউলিয়া হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণত আদালতের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়া হয়। গত মাসে জাপানে এ ধরনের আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ৯টি।

প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৩ সালের জুলাইয়ের পর এ প্রথম জাপানে করপোরেট দেউলিয়াত্ব আবেদন কোনো মাসে এক হাজার ছাড়াল। এমন সময় খবরটি সামনে এল যখন জাপানের অনেক কোম্পানি ক্রমবর্ধমান মূল্য ও শ্রমিক সংকটে ভুগছে।

প্রতিবেদনে দেউলিয়াত্বের আবেদন করা এমন সব প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ করা হয়েছে যেগুলোর দায় ১ কোটি ইয়েন বা তার চেয়েও বেশি। অবশ্য গত বছরের হিসাবে মে মাসে দেউলিয়াত্বের আবেদন করা কোম্পানিগুলোর দায়ের পরিমাণ কমেছে। মোট দায় ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১৩ হাজার ৬৭৭ কোটি ইয়েনে দাঁড়িয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, গত বছর একটি কোম্পানির দায়ই পুরো করপোরেট খাতের পতনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিল।

ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে দেউলিয়া হওয়া কোম্পানির সংখ্যা ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে মে মাসে ৮৭-এ পৌঁছেছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই উৎপাদন ও পরিবহন খাতের কোম্পানি। এছাড়া রয়েছে অনেকগুলো সাবকন্ট্রাক্টর কোম্পানি। অনেক ছোট কোম্পানিও উচ্চ খরচের কারণে কঠিন সময় পার করছে।

কভিড-১৯ মহামারীজনিত সুদ ও জামানতমুক্ত ঋণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দেউলিয়াত্বের আবেদনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। এমন কোম্পানির সংখ্যা ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৬৭-এ পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্ট খাতের তথ্য অনুসারে, পরিষেবা খাতে দেউলিয়াত্বের আবেদনের মাসিক সংখ্যা রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩২৭টিতে পৌঁছেছে। এর পেছনে শ্রমিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান শ্রম ব্যয়কে কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। 

নয় মাসে প্রথমবারের মতো নয়টি অঞ্চলে দেউলিয়াত্বের আবেদন বেড়েছে। টোকিও শোকো রিসার্চ সতর্ক করে জানিয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি ও ডলারের বিপরীতে বিনিময় হারের দুর্বলতার কারণে এ প্রবণতা আরো বাড়তে পারে।