কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে এসএমই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি ) উদ্যোক্তাদের ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। এটি কমিয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছে এসএমই ফাউন্ডেশন। আজ মঙ্গলবার (১৩ মে) ইআরএফ (ইকোনোমিক রিপোটার্স ফোরাম) ও এসএমই ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ‘এসএমই সেক্টরের বাজেট প্রস্তাবনা’ বিষয়ক এক কর্মশালার আয়োজন করে।

ইআরএফের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মো. মুসফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং পরিচালক ও বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমেদ।

মূল প্রবন্ধে এ প্রস্তাবনার কথা তুলে ধরে এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা এ পর্যন্ত ৫৫৭টি প্রস্তাবনা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে ৮৫টি প্রস্তাবনা আংশিক ও পুরোপুরিভাবে গৃহীত হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১৪০টি প্রস্তাব এনবিআরকে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, যাদের বাৎসরিক টার্নওভার ১ কোটি, তাদের ভ্যাট আওতার বাইরে রাখা, ১-২ কোটি বার্ষিক টার্নওভারে মাসিক ৩৫ হাজার টাকা, ২-৩ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভারে মাসিক ৭৫ হাজার টাকা এবং ৩-৫ কোটি টাকা বার্ষিক টার্নওভারে মাসিক ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা।

এছাড়া আদর্শ মূসক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, উৎপাদনমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যাদের বার্ষিক আমদানির পরিমাণ ৫ কোটি টাকার কম তাদের আগাম কর ৩ শতাংশের পরিবর্তে ১ শতাংশ করা, কিছু কিছু কৃষি যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে আগাম কর অব্যাহতি দেয়া এবং নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে যাদের বার্ষিক বিক্রি ৭০ লাখ টাকা, তাদের ভ্যাটের আওতার বাইরে রাখা।

মুসফিকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের অবদান বাড়ানোর লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এসএমই নীতিমালা ২০২৫ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। আমাদের আশা, ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান ৩৫ শতাংশে উন্নতি করতে এবং এই নীতিমালা শতভাগ বাস্তবায়নে এসএমই ফাউন্ডেশনসহ বাস্তবায়ন সহযোগী মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের অনুকূলে নিয়মিত অর্থ প্রয়োজন।

সংগঠনটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান উন্নত দেশগুলো, এমনকি প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায়ও অনেক কম। পাকিস্তানে এই হার ৪০ শতাংশ , শ্রীলঙ্কায় ৫২ শতাংশ, চীনে ৬০ শতাংশ ও ভারতে ৩৭ শতাংশ । বাংলাদেশে এই হার দেশের প্রত্যাশার তুলনায় খুবই কম। ২০১৩ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসারে বাংলাদেশের সিএমএসএমই উদ্যোক্তা ৭৮ লাখ ১৩ হাজারের বেশি। জুলাই বিপ্লবের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এসএমই নীতিমালা ২০২৫-কে ঘিরে দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা আশা করছেন, এই নীতিমালা শতভাগ বাস্তবায়নে সরকার এসএমই ফাউন্ডেশনসহ বাস্তবায়ন সহযোগী মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো অনুকূলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেবে, যা এ খাতকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া দেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে আরো বেশি উদ্যোক্তাকে ঋণের আওতায় আনা, এসএমই নীতিমালা ২০২৫ বাস্তবায়ন এবং এসএমই খাত ও উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে কর্মসূচিসমূহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতি অর্থবছরের বাজেটে এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আগামী অর্থবছরের বাজেটে অন্তত ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে ফাউন্ডেশনটি।