এ কঠিন বাস্তবতা মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে ২০২৫ সালে ‘অপরাজেয় দেশ’ কর্মসূচি চালু করে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মোংলা ও রামপাল এ চার উপজেলায় পরিচালিত কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। মূলত পানি, কৃষি ও পরামর্শসেবাকে কেন্দ্র করে চলছে অঞ্চলে ‘অপারেজয় দেশ’-এর কার্যক্রম। ব্র্যাক ব্যাংক গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে।

অপারেজয় দেশ কর্মসূচির আওতায়, লবণাক্ত ও অনাবাদি জমিকে উৎপাদনশীল করে তুলতে পরিবেশবান্ধব কৃষি উদ্যোগ হিসেবে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কৃষক জলবায়ু সহনশীল বীজ, জৈব সার ও বায়োপেস্টিসাইড পেয়েছেন। ৩০টি উচ্চমূল্যের প্রদর্শনী প্লটে দেখানো হচ্ছে অভিযোজনযোগ্য কৃষির বাস্তব প্রয়োগ। সূর্যমুখী, সরিষা, ভুট্টা, ডাইক সবজি ও বাড়ির আঙিনার ফসল সবই চাষ হচ্ছে কম্পোস্ট, ফেরোমন ট্র্যাপ ও ইয়েলো স্টিকি ট্র্যাপ ব্যবহার করে। এছাড়া তিনটি কমিউনিটি সাইটে স্থাপিত সৌরচালিত সেচ পাম্প কমিয়েছে ডিজেল-নির্ভরতা, উৎপাদন ব্যয় ও কার্বন নিঃসরণ।

শরণখোলার ৩৩ বছর বয়সী গৃহিণী সুমি বেগম, নিজের পাঁচ শতাংশ জমিকে রূপ দিয়েছেন সবজির বাগানে। তিনি আগে কখনো চাষাবাদ করেননি । প্রথম মৌসুমেই সুমি বেগম আয় করেছেন প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এখন তিনি জমি ও ফসল দুটোই বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।

মোরেলগঞ্জের ৪৫ বছর বয়সী রেণুকা রানী মিস্ত্রি ছিলেন একসময়ের প্রশিক্ষিত ধাত্রী। তিনি এক মৌসুমেই প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ব্রকলি, স্কোয়াশ, বিটসহ নানা ধরনের ফসল চাষ করে। এখন তিনি জলবায়ু সহনশীল কৃষি নিয়ে অন্য নারীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘অপরাজেয় দেশ’ উদ্যোগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ‘অ্যাডাপটেশন ক্লিনিক’, যা স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি মোবাইল সেবার মাধ্যমেও কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। চার হাজারের বেশি কৃষক এখানে পাচ্ছেন ফসলের রোগবালাই, মাটির যত্ন ও পোকামাকড় দমন সম্পর্কে তাৎক্ষণিক পরামর্শ। পাশাপাশি, কৃষকদের মোবাইলে পাঠানো হচ্ছে আবহাওয়া ও জোয়ার-ভাটার তথ্যভিত্তিক ভয়েস এসএমএস, যাতে তারা সময়মতো চাষাবাদ পরিকল্পনা করতে পারেন।

রামপালের ক্ষুদ্র কৃষক কাজী জালালউদ্দিন অ্যাডাপটেশন ক্লিনিকের পরামর্শ নিয়ে সমন্বিত পোকা দমন ও মাটির যত্নের কৌশল প্রয়োগ করে ভুট্টার ফলন বাড়িয়েছেন, কমিয়েছেন রাসায়নিকের ব্যবহার।

কমিউনিটির সদস্যরাই পানি ব্যবস্থাপনা, ফসল পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চার দায়িত্ব নিচ্ছেন, ফলে নিশ্চিত হচ্ছে স্থানীয় সংযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা। পাশাপাশি ‘আমার বন’ এগ্রোফরেস্ট্রি উদ্যোগের আওতায় ৪৫টি কমিউনিটি প্লট ও ৩০টি হোমস্টেড প্লটে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

ব্র্যাক ব্যাংক বলছে, ‘অপরাজেয় দেশ’ উদ্যোগ দেখিয়েছে যে জলবায়ু অভিযোজন কোনো কল্পনাতীত বিষয় নয়, বরং এটি বাস্তব এবং পরিমাপ ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য।