ব্যাংকিং সেক্টরে বিদ্যমান খেলাপি ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অর্থঋণ আদালতে মামলাধীন। অনেক খেলাপি ঋণের বিপরীতে ঋণগ্রহীতা কর্তৃক সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বা আপিল বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার বিপরীতে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ব্যাংকের আইন বিভাগ বা লিগ্যাল টিমকে অধিকতর শক্তিশালী করা হলে তা বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। ফলে একদিকে যেমন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমবে, অন্যদিকে সুষ্ঠু ঋণ ব্যবস্থাপনা ও খেলাপি ঋণ আদায়ের মাধ্যমে শ্রেণীকৃত ঋণের হার হ্রাস পাবে। পাশাপাশি ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। এমন প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যাংক খাতের জন্য ঘোষিত কর্মকৌশলের পথনকশা বাস্তবায়ন এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ব্যাংকের লিগ্যাল টিমের জন্য বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
নির্দেশনায় ব্যাংকের আইন বিভাগের কাঠামো প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে একজন চিফ লিগ্যাল অফিসারকে পদায়ন করতে হবে। তিনি ঋণসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় নীতি, কৌশল ও পদ্ধতি প্রণয়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন।
চিফ লিগ্যাল অফিসারকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আইন বিভাগে ন্যূনতম পাঁচ বছর কাজের অভিজ্ঞতাসহ সংশ্লিষ্ট মামলা পরিচালনায় ন্যূনতম ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
অর্থঋণ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বা আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা এবং এর বিপরীতে অনাদায়ী অর্থের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে আইন বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ জনবল থাকতে হবে। অধিকন্তু লিগ্যাল টিমে বহালকৃত ন্যূনতম এক-তৃতীয়াংশ কর্মকর্তাকে আইন বিষয়ে ডিগ্রিধারী এবং ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে।
ঢাকা ও চট্টগ্রামে মামলাধীন ঋণের সংখ্যা ও পরিমাণের আধিক্য বিবেচনায় অঞ্চল দুটির জন্য একজন সার্বক্ষণিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে। বিচারাধীন মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন মাসিক ভিত্তিতে চিফ লিগ্যাল অফিসার কর্তৃক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করতে হবে। এছাড়া ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে লিগ্যাল টিম কর্তৃক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে।
ব্যাংকের মামলাধীন ঋণসংক্রান্ত কেসগুলো নিষ্পত্তির জন্য ষাণ্মাসিক ভিত্তিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে এবং লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, প্যানেল আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বা সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ থাকতে হবে।
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনাকারী দক্ষ আইনজীবীদের অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। দেওয়ানি, ফৌজদারি, দেউলিয়া বিষয়ক আদালত বা অর্থঋণ আদালতে মামলা পরিচালনায় কমপক্ষে তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
শ্রেণীকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশ বা ততোধিক রয়েছে এরূপ ব্যাংক কর্তৃক প্যানেল আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ প্যানেল আইনজীবীর এর আগে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
কোনো আইনজীবীকে সর্বোচ্চ দুই বছর মেয়াদের জন্য প্যানেলভুক্ত করা যাবে। ফৌজদারি অপরাধে এক বছর বা ততোধিক সময়ের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আইনজীবী প্যানেলভুক্তির যোগ্য হবেন না।










