ন্যূনতম মজুরি বাড়ার কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার ফাস্ট ফুড রেস্তোরাঁগুলোয় কর্মী ছাঁটাই বা কর্মঘণ্টা কমানোর হার বেড়েছে। সম্প্রতি এ খাতে প্রায় ১০ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। মার্কিন অঙ্গরাজ্যটির ট্রেড গ্রুপ ক্যালিফোর্নিয়া বিজনেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যালায়েন্স (সিএবিআইএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আরটি।

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেটিক গভর্নর গেভিন নিউজম গত সেপ্টেম্বরে এবি ১২২৮ বিলে স্বাক্ষর করেন। সেখানে ওই অঙ্গরাজ্যের সর্বনিম্ন মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ১৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ ডলারে উন্নীত করা হয়। আইনটি গত এপ্রিলে কার্যকর হওয়ার পর অনেক কোম্পানি খাবারের দাম বৃদ্ধি বা কর্মচারীদের ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়।

এ বিষয়ে সিএবিআইএর প্রেসিডেন্ট টম মানজো বলেন, ‘আইন প্রণেতারা যদি মনে করেন যে মজুরি বৃদ্ধিতে কড়াকড়ি শ্রমিক ও ব্যবসাকে সাহায্য করবে, তবে তারা কল্পনায় বসবাস করছেন।’

তার মতে, দাম বৃদ্ধি বাস্তবসম্মত হতে হবে। কারণ এরও একটি সীমা রয়েছে। ক্রেতারা একটি বিগম্যাক বার্গারের জন্য ২০ ডলার খরচ করতে রাজি হবেন না।

টম মানজো বলেন, ‘ফাস্ট ফুড শিল্প কখনই দীর্ঘমেয়াদি বা উচ্চ বেতনের চাকরি নয়। এটাকে ভালো ক্যারিয়ার গড়ার আগে কর্মীরা শুরু হিসেবে নেন।’

গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে পূর্ণ পৃষ্ঠা বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে সিএবিআইএ। সেখানে নতুন ন্যূনতম মজুরি আইন বাস্তবায়নে ক্ষতিগ্রস্ত রেস্তোরাঁগুলোকে বিদ্রূপ করা হয়। এসব রেস্তোরাঁর মধ্যে ছিল পিৎজা হাট, সাবওয়ে, বার্গার কিং, ম্যাকডোনাল্ডস ও সিনাবনের মতো জনপ্রিয় চেইন।

সংগঠনটি জানায়, ব্যবসার খরচ বেড়ে যাওয়ায় টাকো চেইন রুবিওস ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪৮টির মতো আউটলেট বন্ধ করে দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪০টি বার্গার কিং ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক ঘোষণা দিয়েছেন, কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেবেন ও নতুন ন্যূনতম মজুরি আইনের প্রভাব কাটাতে সেলফ সার্ভিস পরিষেবায় কিছু পরিবর্তন আনবেন। একই পদক্ষেপ নিচ্ছে ম্যাকডোনাল্ডস। প্রতিষ্ঠানটি খাবারের মূল্য তালিকায় সংশোধন আনার কথা জানিয়েছে।

ব্যাপক মূল্যস্ফীতির কারণে কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের রেস্তোরাঁগুলো ধীরে ধীরে খাবারের মূল্য বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। মে মাসে এক জরিপে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ ভোক্তারা এখন ফাস্ট ফুডকে বিলাসী কেনাকাটা বলে মনে করেন। কারণ এটি এখন ব্যয়বহুল খাতে পরিণত হয়েছে।