সদ্যসমাপ্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। পাশাপাশি এ সময়ে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কিছুটা কমিয়েছে সংস্থাটি। সম্প্রতি এডিবি প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) জুলাই ২০২৪ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জিডিপি প্রবৃদ্ধির বিষয়ে এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে গত এপ্রিলে সংস্থাটির প্রকাশিত প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অর্জনের দিকে রয়েছে অঞ্চলটি। ২০২৪ সালে অঞ্চলটির ৬ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। ২০২৪ সালে ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বেড়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কিছুটা কমেছে। মূলত শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমার কারণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। অন্যদিকে নির্মাণ খাতের শ্লথগতির পাশাপাশি মৎস্য খাতে প্রত্যাশার চেয়ে কম প্রবৃদ্ধির কারণে মালদ্বীপের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমেছে।
মূল্যস্ফীতির বিষয়ে এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ২০২৪ সালে ৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি থাকবে। এক্ষেত্রে ভুটান, ভারত ও পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে সংস্থাটির এপ্রিলের পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার পরও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১১ মাসে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি দুই অংকের কাছাকাছি ছিল। খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে মূল্যস্ফীতির এ ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত থাকতে পারে।
সদ্যসমাপ্ত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এর আগের ২০২২-২৩ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুসারে, বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। এর মধ্যে জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক ৪২ শতাংশ ও খাদ্য বহির্ভূত পণ্যে হয়েছে ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। গত মে মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
এডিবির গত এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের ৬ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলেও জানিয়েছিল সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক
মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মূল্যায়নেও বাংলাদেশের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জের বিষয়টি উঠে এসেছে। সংস্থাটির ঋণ কর্মসূচির আওতায়
দ্বিতীয় রিভিউ মিশন শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে মূল্যস্ফীতির বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যেসব সংস্কার বাস্তবায়ন করছে সেটি কঠিন বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির
স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে পথ চলতে সাহায্য
করবে। তবে যদি বহিঃস্থ ও মূল্যস্ফীতির চাপ
আরো তীব্র হয়ে ওঠে তাহলে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে পরবর্তী সময়ে আরো কঠোর নীতি গ্রহণের জন্য তৈরি থাকতে হবে বলেও মনে করছে আইএমএফ।










