গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের জমি দখল, আদিবাসী নারীকে মারধর এবং বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানায় ভূমি, আদিবাসী ও মানবাধিকার সংস্থা।

গত মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ১৭টি ভূমি ও মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বক্তারা।

এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

তারা আরও বলেন, জেলাপ্রশাসকের মাথায় আদিবাসীদের জমিতে ইপিজেড করার ভূত চেপে আছে। এটি কখনই সম্ভব নয়। পূর্ববর্তী রেজিমের পুনরাবৃত্তি কখনো সম্ভব হবে না বলে সাবধান করেন। এসব বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা যে দাবিগুলো তুলে ধরেন তা হলো-

২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জের বাগদা ফার্মের সাঁওতাল পল্লীতে আক্রমণের কারণে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আদিবাসীদের যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে এ ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পুলিশকে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে রফিকুল ইসলামকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করতে হবে। এ ছাড়া সাঁওতাল নারীদের মারধর, শ্লীলতাহানির ঘটনায় গ্রেফতার চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গে সম্পৃক্ত সব অপরাধীদের দ্রুত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

দোষীদের শাস্তির পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে সাঁওতালদের পৈতৃক জমি চেয়ারম্যান থেকে উদ্ধার করে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। চেয়ারম্যানের অবৈধ দখলে রাখা খাস পুকুর উদ্ধার করে সাঁওতাল আদিবাসীদের লিজ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সাঁওতাল আদিবাসীদের কবরস্থান উদ্ধার করে তাদের ফিরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা এবং উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্থায়ী দেয়াল নির্মাণ করতে হবে।

গাইবান্ধার বর্তমান জেলা প্রশাসককে সাঁওতাল আদিবাসীদের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ প্রদর্শন, ক্ষমতার দম্ভ প্রদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় নীতির তোয়াক্কা না করে ৪ ফসলি জমিতে ইপিজেড করার চক্রান্তে লিপ্ত হবার জন্য অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

ভূমি প্রশাসনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং আদিবাসীদের ভূমির সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

গোবিন্দগঞ্জের রাজাহারের রাজাবিরাটে গত ৩ জানুয়ারি আদিবাসীদের ভোগদখলীয় জমিতে ইউপি চেয়ারম্যান ও সমর্থকদের মাটি ভরাট নিয়ে এক আদিবাসী নারীকে মারধর এবং রাতে তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় নাগরিক সমাজ ও জাতীয় পর্যায়ের ভূমি ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা গত সপ্তাহে ঘটনার তথ্যানুসন্ধানে সেখানে যান। সেসব তথ্যসংবলিত প্রতিবেদন সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন এএলআরডির ম্যানেজার অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ সিরাজী।

সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, লেখক-গবেষক পাভেল পার্থ, সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, ব্লাস্টের আইন উপদেষ্টা এসএম রেজাউল করিম, কাপেং ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক হিরন মিত্র চাকমা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনের আয়োজক ছিল এএলআরডি, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, কাপেং ফাউন্ডেশন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, নিজেরা করি, মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন, বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী-বাঙালি ঐক্য পরিষদ, পিইউপি, রোপ, স্বপ্ন, পেইস্ট, ছিন্নমূল, পল্লী উন্নয়ন অগ্রগতি, নিত্যবিকাশ কেন্দ্র ও তরণী।