চা উৎপাদনে সিলেট অঞ্চলের পরপরই সীমান্তঘেঁষা জেলা পঞ্চগড়ের নাম আসে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী সংকটের কারণে এ অঞ্চলে চা চাষ হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ও চা শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে অংশীজনদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল পঞ্চগড় চেম্বার ভবনে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার সহযোগিতায় স্মল টি গার্ডেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এ সভার আয়োজন করে।
এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আমিরুল হক খোকন। এ সময় পঞ্চগড় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান শেখ, চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের উন্নয়ন কর্মকর্তা আমির হোসেনসহ চা চাষী, কারখানা মালিক, ব্রোকার হাউজের মালিক, বায়ার ও বিডাররা তাদের মতামত তুলে ধরেন।
সভায় ক্ষুদ্র চা চাষীরা দাবি করেন, ২০২০ সাল থেকে পঞ্চগড়ে কাঁচা চা পাতার দরপতন শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত কর্তন করায় উৎপাদন খরচও মিলছে না চাষীদের। এ অবস্থার নিরসন না হলে, ভবিষ্যতে চা বাগান উপড়ে ফেলা ছাড়া চা চাষীদের কোনো উপায় থাকবে না।
বাগান মালিক ও অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, বহুবার আমরা সভা করেছি। কিন্তু কারখানা মালিকরা কালোবাজারে অবাধে চা বিক্রি করছেন। এক্ষেত্রে প্রশাসন, চা বোর্ড ও জেলা কাস্টমস ভ্যাট কর্তৃপক্ষকে যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। প্রয়োজনে পঞ্চগড়ের কারখানাগুলো থেকে নিলাম বাজারে চা পাঠানোর সময় অ্যাসোসিয়েশনের চালান ব্যবহারের দাবি তুলেছেন তারা।
এ সময় সাজেদা রফিক টি ফ্যাক্টরির মালিক আরিফুজ্জামান সুমন বলেন, ‘নিলাম বাজারে চা পাঠানো হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ চা বিক্রি হওয়া নিয়ে শঙ্কা থাকে। তাছাড়া প্রতিদিন চা চাষীদের ক্রয়কৃত কাঁচা চা পাতার মূল্য পরিশোধ করতে হয়। এজন্য কারখানা মালিকদের পুঁজি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়।’ নিলাম বাজারে চা পাঠানোর ১৫ দিনের মধ্যে বিক্রির নিশ্চয়তা দাবি করেন তিনি।
সভায় পঞ্চগড় অনলাইন নিলাম বাজারের বায়ার বিডার ও ব্রোকার হাউজের মালিকরা জানান, তারা এখন গভীর সংকটে পড়েছেন। সরকারের বেঁধে দেয়া সর্বনিম্ন ১৬০ টাকা কেজি দরে চা ক্রয় করলে ভ্যাটসহ ১৮৫ টাকা দাঁড়ায়। অথচ সিলেট-মৌলভীবাজারে ১৪০ টাকায় নিলাম ছাড়াই পাওয়া যাচ্ছে। ওয়্যার হাউজগুলোয় চা পড়ে আছে, বিক্রি হচ্ছে না। দ্রুত কারখানা মালিকদের কালোবাজারে চা বিক্রি বন্ধের দাবি জানান তারা।
চা বোর্ডের কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, ‘এ শিল্পের নানা সংকট রয়েছে। তবে প্রশাসনের সহযোগিতায় চা বোর্ড সংকট উত্তরণে কাজ করে যাচ্ছে।’
এ সময় তিনি আরো জানান, পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন ১৬০ টাকা ঠিক রেখে সিলেট, মৌলভীবাজার ও চট্রগ্রামে চায়ের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব লিখিতভাবে বাংলাদেশ চা বোর্ডকে জানানো হয়েছে।










