সামুদ্রিক খাবার প্রস্তুতকারী জাপানি পরিবেশকরা থাইল্যান্ডের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। এর আগে জাপানি এসব খাদ্যপণ্যের বড় বাজার ছিল চীন। কিন্তু জাপানি সামুদ্রিক খাবার আমদানিতে বেইজিংয়ের নিষেধাজ্ঞার পর বিকল্প বাজার সন্ধানে ছিলেন জাপানি পরিবেশকরা। এর অংশ হিসেবে থাইল্যান্ডের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছেন তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, জাপানি সি ফুডের পরবর্তী বৃহৎ বাজার হতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড। খবর নিক্কেই এশিয়া।
ইয়োকোহামাভিত্তিক কোম্পানি স্প্রাউট ইনভেস্টমেন্ট জাপানের তাজা সামুদ্রিক খাবার প্রদর্শনের জন্য এপ্রিলের শেষের দিকে ব্যাংককে একটি টেস্টিং ইভেন্টের আয়োজন করেছিল। থাইল্যান্ড ও জাপান উভয় দেশের রেস্তোরাঁ মালিকরা বোনিটো, ম্যাকরেল ও আরো কিছু সামুদ্রিক মাছের তৈরি জনপ্রিয় খাবার সাশিমি উপভোগ করেন সেখানে।
ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী এক থাই নাগরিক বলেন, ‘আমি বোনিটো ও ম্যাকেরেলের গুণমান দেখে অবাক হয়েছি। আমি এগুলো আমার রেস্টুরেন্টে পরিবেশন করতে চাই।’
জাপানে ২০টির বেশি ইজাকায়া পাব (স্ন্যাকস ও পানীয়র দোকান) পরিচালনা করে স্প্রাউট। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাংককেও একটি ইজাকায়া পাব খুলেছে কোম্পানিটি। চলতি বছরের আগস্টের প্রথম দিকে থাইল্যান্ডে সামুদ্রিক খাবারের পাইকারি বিপণন করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে কোম্পানিটি।
স্প্রাউটের প্রতিনিধি পরিচালক নাওকি ইতো বলেন, ‘আমরা এখানে একটি উচ্চ সম্ভাবনা দেখটি পাচ্ছি।’ তিনি জানান, এখানকার ব্যবসার মাধ্যমে প্রধানত চিবা প্রিফেকচারের বোসো উপদ্বীপ থেকে পাওয়া সামুদ্রিক খাবার কেনা হবে এবং থাইল্যান্ডের খাবারের দোকানগুলোয় সরবরাহ করা হবে।
ইতো বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য মাঝারি দামে তাজা ও মানসম্পন্ন মাছ সরবরাহ করা। ৷
টোকিওভিত্তিক সি ফুড ডিস্ট্রিবিউটর উওরিকি গত অক্টোবরে গৃহীত পরিকল্পনার অধীনে পাঁচ বছরের মধ্যে থাইল্যান্ডে ১০০টি আউটলেট করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার কথা জানিয়েছে।
কোম্পানিটির প্রেসিডেন্ট মাসায়ুকি ইয়ামাদা বলেন, ‘থাইল্যান্ড একটি ‘‘ব্লু ওশান’’ বা তুলনামূলকভাবে স্বল্প প্রতিযোগিতামূক বাজার।’
২০২৩ সালের এপ্রিলে থাই কংগ্লোমারেট চারোয়েন পোকফান্ড গ্রুপের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগ গঠন করেছে উওরিকি। উদ্যোগটি অক্টোবরে তাদের প্রথম আউটলেটগুলো চালু করেছে।
জাপানি খাবার থাইল্যান্ডে একসময় বিলাসিতা হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু দেশটির সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধির সঙ্গে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জাপানি সামুদ্রিক খাবার থাইল্যান্ডের মন্থর সরবরাহ চেইনকে আরো শক্তিশালী করেছে।
সম্প্রতি ক্রমবর্ধমান থাই বাজার জাপানের জন্যও একটি আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। কারণ চীন একসময় জাপানি সামুদ্রিক খাবারের বৃহত্তম আমদানিকারক ছিল। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য সমুদ্রে ফেলার পর জাপান থেকে সামুদ্রিক মাছ আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে বেইজিং প্রশাসন।
গত ২৬ মে সিউলে ত্রি-পক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে, জাপানি কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেয়ার জন্য চীনকে আহ্বান জানায়। যদিও তাতে সাড়া দেয়নি বেইজিং। এরপর জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের ব্যাংকক অফিসের প্রেসিডেন্ট জুনিচিরো কুরোদা বলেন, ‘রফতানি গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্যমন্ত্রী তেতসুশি সাকামোতো মে মাসের প্রথম দিকে ব্যাংকক সফর করেন। সেখানে একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘চীন তাদের সিদ্ধান্ত থেকে নড়ছে না। ফলে থাইল্যান্ডে সামুদ্রিক খাবার রফতানি বাড়াতে চায় জাপান।’










