দেশের চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা যেন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা অনুভব না করেন সেটি নিশ্চিতে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ধরে রাখতে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। আজ বেলা ১১টায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আয়োজনে এ সভায় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সংগঠন, চেম্বার অব কমার্স, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতায় সারা দেশে নারী ও শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ও সরকারের দেয়া ‘কারফিউ’তে গত দুই সপ্তাহ ধরে স্থবির অবস্থায় রয়েছে গোটা দেশ। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও পুরোপুরি ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব এখনো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের নানারকম আশ্বাস, সাহস ও সহায়তা দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় নানা দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে দেশে দেশে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স শাটডাউনের আহ্বান জানানোর ফলে উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করেছে প্রবাসী আয়ও। আন্দোলনের কয়েকদিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বন্ধ ছিল আমদানি-রফতানিসহ সব ধরনের বৈদেশিক বাণিজ্য, পণ্য আমদানি-রফতানিসহ সার্বিক যোগাযোগ।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এ সম্পর্কে তিনি বণিক বার্তাকে জানান, গত ১৫-২০ দিন ধরে ব্যবসায়ীদের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়তে হয়েছে। অনেকের কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল, বিশেষ করে ইন্টারনেট না থাকায় বন্দরগুলোতে কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ফলে নানা রকম ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। এগুলোর বিষয়ে আমরা সরকারের বক্তব্য শুনব। তিনজন মন্ত্রী থাকবেন বৈঠকে। তাদের বক্তব্য ও ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনব। এরপর বিষয়গুলো নিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় সরকারের পক্ষে উপস্থিত থাকবেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে। এছাড়া বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এমসিসিআই, ফিকিসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। বর্তমান পরিস্থিতে অর্থনীতিকে সচল রাখাই এ আলোচনার মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।