বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় টানা চারদিন বন্ধ ছিল রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব বিপণিবিতান ও মার্কেট। তবে গতকাল থেকে শঙ্কা কাটিয়ে খুলতে শুরু করেছে এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এদিকে রাজধানীসহ সারা দেশের মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোর নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সরেজমিনে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, ঢাকা নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, বলাকা ও চাঁদনী চক মার্কেট, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট, গ্লোব শপিং মল, নূরজাহান মার্কেটসহ বেশির ভাগ বিপণিবিতানই এদিন খোলা থাকতে দেখা গেছে। এ সময় শঙ্কা কাটিয়ে ব্যবসায়ীরা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসলেও, ক্রেতার সংখ্যা ছিল কম। দুপুর পর্যন্ত ক্রেতা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হলে, ক্রেতারা আসবেন।

এদিকে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, আইটিসি ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে সেনা সদর দপ্তরে সেনা কর্মকর্তাদের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কলকারখানা, মার্কেট ও বিপণিবিতানের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধানে কাজ করা হবে বলে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে বঙ্গভবনে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত সোমবার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কার্যত তিনদিন দেশ সরকারশূন্য ছিল।