দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সংস্কারের দাবি উঠেছে। ভোটের মাধ্যমে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে এ সংগঠনকে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল বিকালে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের বলরুমে ‘দেশের বর্তমান সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয়’ বিষয়ে ব্যবসায়ী সম্মেলনে এমন দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান। 

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘আমি বিএনপি ও আওয়ামী লীগ দুই আমলেই এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি ছিলাম। কাউকে বলিনি অমুক বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত করে। সবাইকে নিয়ে সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে। খাতভিত্তিক সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারকে চাপ প্রয়োগ করাই এ সংগঠনের কাজ। এখানে কে বিএনপি, আওয়ামী লীগ বা জামায়াত করে তা দেখার প্রয়োজন নেই। ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি না হয় সেজন্য আজকের সভা।’

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের একত্রে থাকতে হবে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভেদ থাকা যাবে না। এফবিসিসিআই রিফর্ম করা দরকার। এটিকে সবাই মিলে ব্যবসায়ীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে তৈরি করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম হায়দার বলেন, ‘এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এগুলো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব করে না। নমিনেটেড প্রথা বাদ দিতে হবে। নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হোক। এফবিসিসিআইয়ের প্রতি অনাস্থা জানাই। লুটেরাদের আইনের আওতায় আনা হোক।’

বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এসএম ফজলুল হক বলেন, ‘ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি রাজনীতি ছাড়া হয় না, এটা সত্যি। চলুন সবাই মিলে একত্রিত হয়ে চোরদের বাদ দেই, সে যে দলেরই হোক। দিনের ভোট যেন রাতে না হয়।’

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, ‘আমরা যারা বিদেশে রফতানি করি সেসব দেশ আতঙ্কিত। দুইবার কারফিউ হয়েছে, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছে তাই তারা আতঙ্কিত। তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে তোমাদের নির্বাচন কবে। আমি বলেছি তোমরা তোমাদের পণ্য ঠিকভাবে পাবে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তোমাদের পণ্য সঠিকভাবে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবে।’

তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘তার (ড. ইউনূস) সঙ্গে দেখা করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে একটি মেসেজ দেয়া দরকার। আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা ঠিক আছে, বিদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো আছে। রফতানিতে কোনো অসুবিধা হবে না। আইন-শৃঙ্খলা রিস্টোর করা দরকার। আপনারা জরুরি ভিত্তিতে উপদেষ্টার কাছে সব তুলে ধরেন। যেসব চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন আছে আমরা বসে সেগুলোর সমস্যার সমাধান করব।’

বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘তালি আর তেল মারাটা কমাতে হবে। সত্যিকারের প্রতিনিধি হলে বুক ফুলিয়ে কথা বলতে হবে। ট্যাক্স বেশি নিতে পারলে ইনটেনসিভ দেয়া হয় সরকারি কর্মকর্তাদের। তাদের বেতন বাড়ানো হোক, ইনটেনসিভ কেন দেবে। এটা নিয়ে দরকার হলে হাইকোর্টে যাব।’

ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সবুর খান বলেন, ‘এখন সময় এসেছে সবাইকে এক হওয়ার। যাতে ব্যবসায়ীদের ওপর আঘাত এলে প্রতিবাদ করতে পারি। গত সরকারের আমলে ব্যবসায়ীদের ওপর হেনস্তা করার কারণে আমার ট্যাক্স ফাইল পাঁচবার খোলা হয়েছিল। এখন যারা সুবিধাভোগী, তাদের ট্যাক্স ফাইল খোলার আহ্বান জানাব। কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে যেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়, প্রয়োজনে যেন সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়।’

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দীন, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল হোসেন, আব্দুল হাসান, আবদুল ওয়াহেদ, স্কয়ার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহসভাপতি হাবিবুল্লাহ ডন, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান প্রমুখ। সভায় দেশের সব খাতের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যবসায়ী এবং আঞ্চলিক চেম্বারগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।