গৃহযুদ্ধের কারণে অস্থির মিয়ানমারে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ শতাংশ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। 

গতকাল এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছে, ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, কর্মী ঘাটতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে গেছে।

এর আগে গত অর্থবছরে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। ২০২৪-এর মার্চে গত অর্থবছর শেষ হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জুনের প্রতিবেদন বলছে, আগের অর্থবছরের চেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস নিম্নগামী দেখানোর কারণ মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতির স্থায়িত্ব, কর্মী সংকট, বৈদেশিক মুদ্রা ও বিদ্যুৎস্বল্পতা।

গত বছর থেকেই গৃহযুদ্ধের চাপের মুখে দেশটির জান্তা সরকার। দেশটির অধিকাংশ এলাকা স্থানীয় সশস্ত্র বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। এ কারণে দেশটির দারিদ্র্যের হার ২০১৫ সালের স্তর ৩২ দশমিক ১ শতাংশে ফিরে গেছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিদ্রোহীদের প্রতিরোধের মুখে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে জান্তা সেনাবাহিনী। যে কারণে জান্তা সরকার দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতের যোগদানের নির্দেশ দেয়। 

বিশ্বব্যাংক বলছে, এ ঘোষণার পর শহর থেকে বহু লোক গ্রামীণ এলাকায় চলে গেছে বা বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে। এ কারণে শিল্প ক্ষেত্রে শ্রমিকের অভাব দেখা দিচ্ছে।

জান্তা সরকার প্রতিবেশী চীন ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্থল সীমান্তেরও নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে, ফলে স্থল বাণিজ্যও অনেকটা কমেছে।

বিশ্বব্যাংকের এ প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য মিয়ানমারের জান্তার এক মুখপাত্রকে ফোন দিয়েছিল রয়টার্স, কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।