গাজায় ইসরায়েলি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্য বাজারে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জায়ান্ট কোম্পানিগুলো গত বছরের শেষ প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) থেকে প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভাটা দেখছে। এর বিপরীতে নির্দিষ্ট কিছু বাজারে বিকল্প পণ্যগুলো ভোক্তাদের মনোযোগ কেড়েছে। তেমনই একটি কোমল পানীয় ব্র্যান্ড প্যালেস্টাইন কোলা। তিন সুইডিশ সহোদর গত মার্চে ব্র্যান্ডটি প্রতিষ্ঠা করেন। 

দ্য ন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়েছে, পশ্চিমা জায়ান্টগুলোকে বয়কটের কারণে নির্দিষ্ট বাজারে অনেকের কাছে পেপসি ও কোকা-কোলার বিকল্প হয়ে উঠেছে প্যালেস্টাইন কোলা। উদ্যোক্তারা জানান, নতুন এ ব্র্যান্ডকে বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন তারা।

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত তিন সহোদর হুসেইন, মোহাম্মদ ও আহমেদ হাসুন সুইডেনের মালমোয় বসবাসকারী সফল ব্যবসায়ী। ছয় মাস আগে পেপসি ও কোকা-কোলার বিকল্প কোমল পানীয় বাজারে আনার উদ্যোগের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

প্যালেস্টাইন ড্রিংকসের উদ্যোক্তারা নতুন পণ্যটির জন্য নির্দিষ্ট ভোক্তা বাজারের সন্ধান পেয়েছেন। সুইডেনে এমন কিছু রেস্তোরাঁ রয়েছে যেখানে ইসরায়েলের প্রতি ইউরোপের সমর্থনের কারণে মার্কিন ব্র্যান্ডগুলো তারা বিক্রি করতে চায় না। ফলে সেসব রেস্তোরাঁয় প্যালেস্টাইন ড্রিকংসের চাহিদা বেড়েছে।

প্যালেস্টাইন কোলা অল্প সময়ের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায়ও ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। এছাড়া পণ্যটি মজুদ করার জন্য বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তথ্য বলছে, মাত্র দুই মাসের মধ্যে পানীয়টির বিক্রি প্রায় ৪০ লাখ ক্যানে পৌঁছেছে।

ব্র্যান্ডটির ক্যানে ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক স্মারক স্থান করে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—জলপাইয়ের শাখা ও ফিলিস্তিনি কেফিয়াহ নকশা। এছাড়া ‘ফ্রিডম ফর অল’ নামে ট্যাগ লাইন যোগ করা হয়েছে ক্যানের গায়ে। এর মাধ্যমে জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে প্রত্যেকের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে বলে বার্তা দেন প্রতিষ্ঠাতারা।

উদ্যোক্তারা জানান, তাদের লক্ষ্য ফিলিস্তিন সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করে এমন দাতব্য সংস্থার প্রতি সমর্থন জানানো।

প্যালেস্টাইন কোলার অন্যতম উদ্যোক্তা হুসেইন হাসুন বলেন, ‘আমরা গাজার শিশুদের ওপর বিশেষ মনোযোগ দিয়ে ফিলিস্তিনিদের সাহায্যার্থে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের উদ্যোগের সঙ্গে একটি দাতব্য সংস্থা জড়িত রয়েছে। এটি দুজন নিবেদিতপ্রাণ আইনজীবী দ্বারা পরিচালিত। তাদের লক্ষ্য হলো, ফিলিস্তিনের জনগণ, বিশেষ করে গাজার জনগণের কাছে সরাসরি সাহায্য সরবরাহ করা।’"

প্যালেস্টাইন ড্রিংকসের প্রতিষ্ঠাতারা সুইডেনে দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছেন, যার নাম হবে সাফাদ ফাউন্ডেশন। এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা তহবিল ফিলিস্তিনের সাহায্য প্রকল্পগুলোয় দান করা হবে।

প্রসঙ্গত, ফাউন্ডেশন ও প্যালেস্টাইন ড্রিংকসের মূল কোম্পানি সাফাদ ফুডের নামকরণ হয়েছে টাইবেরিয়াস হ্রদের উত্তরে গ্যালি শহরের নামানুসারে। ফিলিস্তিনের এ অঞ্চল থেকে তিন ভাইয়ের দাদা ও চাচারা ১৯৪৮ সালে পালিয়ে লেবাননে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে তারা লেবানন থেকে বিতাড়িত হয়ে সুইডেনে চলে যান।

উদ্যোক্তা তিন ভাই সুইডেনে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে উঠেছেন। প্রায় ২৫ বছর আগে তারা গাড়ির যন্ত্রাংশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রপার্টি খাতেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন।

সাফাদ ফুডের জনসংযোগ বিভাগের ডিরেক্টর মোহাম্মদ কিসওয়ানি বলেন, ‘আমরা গাড়ি, টায়ার, রিম ও গাড়ির যন্ত্রাংশ নিয়ে কাজ করছি।"আমাদের ব্যবসা বেশ ভালো চলছে। আবাসন খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছি এবং এ খাত থেকেও প্রচুর সাড়া পাচ্ছি।’"