বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনে নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহের ভালুকায় কয়েকটি পোশাক কারখানায় হামলা, ভাংচুর ও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের সব তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। পাশাপাশি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) অনুরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গতকাল রাতে ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পাঠানো পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বণিক বার্তার নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, এদিন সকালে জেলার প্রায় সব পোশাক ও কলকারখানা খুললেও পরে আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন মালিকরা। সকাল ৮টায় বিসিক শিল্পনগরী, ফতুল্লা শিল্প এলাকা, সিদ্ধিরগঞ্জ ইপিজেডসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত পোশাক কারখানাগুলোয় কাজ শুরু করেন শ্রমিকরা। কিন্তু সকাল ৯টার দিকে নগরীর কায়েমপুরে অবস্থিত ফকির নিটওয়্যার ও ফতুল্লায় অবস্থিত ইউরোটেক্স গার্মেন্টসে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় মালিক পক্ষ কারখানা দুটি বন্ধ করে দেন।
বেলা পৌনে ১০টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মালিকানাধীন এমবি নিটসহ অবন্তি কালার, মহসিন নিটওয়্যারসহ চার-পাঁচটি পোশাক কারখানায় হামলা চালায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিসিকে অবস্থিত পোশাক কারখানাগুলোর মালিকরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে একযোগে সব কারখানা বন্ধ করে শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেন। এ সময় কয়েক হাজার শ্রমিক মিছিল সহকারে চাষাঢ়ায় গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বিসিকসহ বিভিন্ন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সব কারখানা বন্ধ করে দিই। তবে এভাবে পোশাক কারখানা বন্ধ থাকলে বায়াররা আমাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, আমার বাজার হারাব। এমনিতেই গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট, ডলার সংকটসহ নানা কারণে আমরা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ শিল্পের লাখ লাখ শ্রমিকের স্বার্থে আন্দোলনকারীদের অনুরোধ জানাব, তারা যেন গার্মেন্ট শিল্প ও বন্দরকে অসহযোগ আন্দোলনের বাইরে রাখেন। নইলে অনেক গার্মেন্টসই মাস শেষে শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবে না। আবার সব শ্রমিক বেতনে কাজ করে তাও নয়, অনেকেই প্রডাকশনে কাজ করে তারাও সংকটে পড়বে।’
এদিকে বণিক বার্তার ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনে গতকাল ভালুকায় বেশ কয়েকটি কারখানায় ভাংচুর ও একটি ট্রাক ও দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া শ্রমিকদের বহনকারী প্রায় ৪০টি গাড়িসহ শিল্পপুলিশের একটি কাভার্ড ভ্যান ভাংচুর ও একটি মিনি বাসে আগুন দেয়া হয়। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে চার-পাঁচজন শিল্প পুলিশ আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিকালে উপজেলার মাস্টারবাড়ী এলাকায় দুর্বৃত্তরা বাদশা গ্রুপের মালিকানাধীন একটি কারখানার মূল ফটকসহ ভেতরে ভাংচুর চালায় ও আগুন লাগিয়ে দেয়। তাছাড়া কোকা-কোলা, আরিফ টেক্সটাইল, পিএনিট কম্পোজিট ও নোমান গ্রুপের কারখানায় ভাংচুর চালানো হয়। এ সময় পিএ নিট কারখানার ভেতর চার-পাঁচটি কাভার্ড ভ্যান ভাংচুর করা হয়। তাছাড়া মাস্টারবাড়ী এলাকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রমিক বহনকারী স্কয়ার ফ্যাশন লিমিটেডের ২০-২৫টিসহ প্রায় ৪০টি গাড়ি ও শিল্পপুলিশের একটি কাভার্ড ভ্যান ভাংচুর চালানো হয়। এছাড়া এনভয় গ্রুপের একটি কারখানার সামনে একটি মিনিবাসে আগুন দেয়া হয়।
ময়মনসিংহ শিল্প জোন-৫-এর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, আন্দোলনকারীরা তাদের দুটি গাড়ি ভাংচুর করেছে। তাছাড়া ইটপাটকেলের আঘাতে চার-পাঁচজন পুলিশ আহত হয়েছেন।










