দেশের পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোয় রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত যেসব ব্যক্তি রয়েছেন তাদের অপসারণের দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। পাশাপাশি তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনেরও (বিএসইসি) সংস্কার দাবি করেছে। গতকাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘২০১০ সালে পুঁজিবাজার পতনের কারণ ও দোষীদের খুঁজে বের করতে তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর প্রয়াত ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা বাজার কারসাজিতে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আজও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে সেই কারসাজি চক্র আরো সক্রিয় হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে তুলে নিয়ে যায়।’
২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৪ বছর ধরে ড. এম. খাইরুল হোসেন ও অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসির) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ দীর্ঘ সময়ে তাদের অপেশাদার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে বাজারের কোনো উন্নতি হয়নি, বরং বিনিয়োগকারীদের আস্থা তলানিতে এসে পৌঁছায়। বাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং বন্ধ করা, কারসাজি রোধে বাজারে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, ভালো মানের আইপিও এনে বাজারে বিনিয়োগকারীর আস্থা ফিরিয়ে আনা, প্লেসমেন্ট বাণিজ্যের মতো ভয়াবহ অরাজকতা বন্ধ করা, কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার নিয়ে তারা বাজারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তা পূরণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এসব অনিয়মে তাদের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা পরিলক্ষিত হয়েছে, যা আপনারা সবাই অবগত।’
বিএসইসির বিভিন্ন অপকর্মের ক্ষেত্রে ব্রোকারদের কেউ কেউ সহযোগীর ভূমিকায় ছিলেন। তাছাড়া আইপিও প্রক্রিয়ায় কোম্পানির শেয়ারদর নির্ধারণের ক্ষেত্রে অতিমূল্যায়নের অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রেও ব্রোকাররা অংশগ্রহণ করেছেন। সম্মিলিতভাবে তারা এগুলো প্রতিরোধ কিংবা অংশগ্রহণ থেকে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন জানিয়ে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের দায় রয়েছে সেটি অস্বীকার করছি না। অনেক সময় পরিস্থিতির কারণে আমাদের পক্ষে সবকিছু বলা ও করা সম্ভব হয়নি। তবে যারা অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের মধ্যে আমাদের সদস্য থাকলে তার বিরুদ্ধেও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হোক।’
ডিবিএর সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ফ্লোর প্রাইসের মতো একটি অযৌক্তিক ও ক্ষতিকর নিয়মের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। এর কারণে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীর একটি বড় অংশ পুঁজিবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ডিএসই, সিএসইসহ সিডিবিএল ও সিসিবিএলের পর্ষদে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমন ব্যক্তিদের এখনো উপস্থিতি রয়েছে। তাদের অনভিজ্ঞতা ও অদূরদর্শিতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করেছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া এসব ব্যক্তিকে সরিয়ে যোগ্য ও অভিজ্ঞ পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় সংগঠিত করা হোক। সংবাদ সম্মেলনে দেশের পুঁজিবাজার সংস্কারে ৩০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।










