ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতন। দুদিনেও দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেনি নতুন কোনো সরকার। রাজনৈতিক এ অস্থিরতা ও শূন্যতার প্রভাব পড়েছে শিল্পোৎপাদনে। সর্বশেষ দুদিন বন্ধ ছিল বস্ত্র ও পোশাক খাতের উৎপাদন। পুনরায় তা শুরু হলেও কারখানা খোলা রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগে রয়েছেন উদ্যোক্তরা। বাংলাদেশের এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে তুলার আন্তর্জাতিক বাজারেও। বিশ্ববাজারে দাম কমছে পণ্যটির।
বৈশ্বিক তুলা ভোগ বা ব্যবহারে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। বস্ত্র ও পোশাক খাতবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফাইবার টু ফ্যাশনের এক প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে, বিশ্ববাজারে তুলার দামকে চাপে ফেলছে দুটি বিষয়—মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে আশঙ্কা ও বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অনিশ্চিত পরিস্থিতি।
বাজারসংশ্লিষ্টরা আরো জানান, বিশ্বব্যাপী তুলার চাহিদা কমে যাওয়ার কারণেও দাম কমছে। এমনকি ডলারের নিম্নমুখী বিনিময় হারও তুলার মূল্যপতন ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) গতকাল অক্টোবরে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি পাউন্ড নম্বর ২ তুলা ৬৬ দশমিক ২০০ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছে, যা চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এদিন ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ছিল ৬৭ দশমিক ২৫০ সেন্ট, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক শূন্য ৭৪ সেন্ট কম।
এছাড়া আগামী বছরের মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি পাউন্ড তুলা গতকাল ৬৮ দশমিক ৮৪০ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় দাম কমেছে দশমিক ১৬০ সেন্ট। এদিন জুলাইয়ে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ছিল ৭১ দশমিক শূন্য ৭ সেন্ট। আগের দিনের তুলনায় দাম কমেছে দশমিক শূন্য ১৪ সেন্ট। আগামী বছরের ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ছিল ৭০ দশমিক ৩৮০ সেন্ট। আগের দিনের তুলনায় দাম কমেছে শূন্য ১৪ সেন্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা বৈশ্বিক তুলার চাহিদা ও সরবরাহের গতিবিধির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ব্যবসায়ীরা এ দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে গত সোমবার আইসিই মার্কেটে তুলার সরবরাহ চুক্তি বেচাকেনা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫৮০টি, যা স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। শুক্রবার এ পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৮৬৯টি। এছাড়া আইসিইর তথ্যানুযায়ী, এদিন বাজারটির সরবরাহযোগ্য নম্বর ২ তুলার ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তির মজুদ ছিল ১৮ হাজার ৯৯১ বেল।










