জাপানের তিনটি বৃহত্তম ব্যাংকিং গ্রুপ সর্বশেষ অর্থবছরে সম্মিলিতভাবে বড় অংকের মুনাফা আশা করছে, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত বিদেশে উচ্চ সুদহারে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা এ মুনাফা তৈরিতে অবদান রেখেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া। 

দেশটির ব্যাংক খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি ইউএফজে, সুমিতোমো মিতসুই ও মিজুহো মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে জন্য প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ১ হাজার ৯৩০ কোটি ডলার সম্মিলিত নিট মুনাফা রেকর্ড করার পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ২০২৩ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। 

২০০৫ অর্থবছরে জাপানের ব্যাংক খাত একীভূতকরণের মধ্য দিয়ে যায়। এর পর থেকে এটিই হবে ব্যাংক তিনটির জন্য সর্বোচ্চ সম্মিলিত নিট মুনাফা। 

শিগগিরই মিতসুবিশি ইউএফজে ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ, সুমিতোমো মিতসুই ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ এবং মিজুহো ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ পুরো বছরের আয় প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। এর আগে ঘোষিত মুনাফার প্রাক্কলন ছিল ২ দশমিক ৮৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন।

জাপানে ১৭ বছর ধরে কম সুদহার থাকার ফলে ব্যাংকগুলোর আয়ের ওপর প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য ব্যাংকের শাখা নেটওয়ার্কগুলোর একীভূতকরণ ও করপোরেট ঋণ কার্যক্রম থেকে আয় বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করেছে। এর মাঝে ২০২১ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত প্রত্যাশিত উচ্চ মুনাফা টানা চতুর্থ বছরের মতো বেড়েছে।

তবে চূড়ান্ত প্রকাশের হিসাবে, এখন পর্যন্ত ব্যাংক তিনটি সম্মিলিতভাবে ২০১৪ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে, এর পরিমাণ ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন।

ক্রমবর্ধমান মার্কিন সুদহার বিদেশী কার্যক্রমে মুনাফা বাড়িয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বাড়ায় ব্যাংকগুলোর বিদেশী কার্যক্রমের জন্য ঋণের সুদহার ও তহবিল ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান আরো বেড়েছে। এতে তাদের বিদেশ থেকে সুদভিত্তিক আয়ও বেড়েছে। এদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে জাপানি কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ঋণের চাহিদা জোরালো রয়েছে। এছাড়া জাপানি কোম্পানিগুলো দক্ষতা উন্নত ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে সক্রিয়ভাবে মূলধন ব্যয়ের জন্য তহবিল চেয়েছে। একত্রীকরণ ও অধিগ্রহণ কার্যক্রমও ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করেছে। 

ডাটা ও অ্যানালিটিকস এলএসইজির তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে জাপানে এমঅ্যান্ডএ চুক্তি পাঁচ বছরের সর্বোচ্চ প্রায় ২৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি।

তবে মুনাফা বাড়লেও অভ্যন্তরীণ ঋণের উচ্চ সুদহারের প্রভাব অন্তত ২০২৫ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরের আগে দেখা যাবে না বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের। কারণ ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) মাস দু-এক আগে অর্থাৎ গত মার্চে নেতিবাচক সুদহার নীতি থেকে সরে এসেছে। চলতি বছরে সুদহার আরো বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় জাপানি ব্যাংকগুলো ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উৎসাহ পেতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।