বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে গত সোমবার শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের প্রায় সব শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিজিএমইএ ও সেনাবাহিনীর টাস্কফোর্সের সহযোগিতায় গত বুধবার থেকে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানা পুনরায় সচল হয়। এ সময় পোশাক কারখানাগুলোর কোনো ক্রয়াদেশ বাতিল হয়নি বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএর পরিচালক ও স্প্যারো অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বিজিএমইএ ও সেনাবাহিনীর টাস্কফোর্সের সহযোগিতায় গত বুধবার থেকে মোটামুটি কারখানা চালু হয়েছে। ওই সময়ে ৮১ শতাংশ কারখানা খোলা ছিল। তবে বৃহস্পতিবার শতভাগ কারখানা খোলা হয়। যাদের শিপমেন্ট দরকার ছিল, তারা গত শুক্রবারও খোলা রেখেছিলেন। আজও (শনিবার) বিজিএমইএতে খবর নিয়ে জানা গেছে, শতভাগ প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে, উপস্থিতিও শতভাগ। এত বড় সংগ্রামের পর আমরা শিল্প-কারখানা খুলতে পেরেছি।’
এ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আরো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ক্রয়াদেশ বাতিলের খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের ইমেজ কাজে লাগিয়ে গার্মেন্টস শিল্পে বিশ্বে ১ নম্বরে চলে যাব, কোনো শঙ্কা নেই। আমরা এখন পর্যন্ত কোনো অর্ডার বাতিলের খবর পাইনি। বিদেশী বায়াররা (ক্রেতারা) সবাই পজিটিভ।’
জানা গেছে, গতকাল থেকে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত শিল্প-কারখানাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। তারা বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশও কাজ করছে। এজন্য তৈরি করা হয়েছে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত টাস্কফোর্স।
এদিকে সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের কর্মকর্তা কর্নেল আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিন গতকাল গাজীপুর মহানগরীর লক্ষ্মীপুরা এলাকায় স্প্যারো অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানা পরিদর্শনে যান। এ সময় ওই কারখানার কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
এ সময় স্প্যারো অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম ও সিওও শরিফুল রেজা, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত সচিব মনসুর খালেদ ও শিল্পোদ্যোক্তা তামান্না ফারুকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সরজমিনে দেখা গেছে, শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন চলছে, বিভিন্ন ইউনিটে কাজ করছেন শ্রমিকরা। তবে সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গত কয়েকদিন উৎপাদন ব্যাহত হলেও এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। শুরুতে মালিকরা নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শিল্প-কারখানা চালু করেন। তবে সার্বিক নিরাপত্তায় গতকাল থেকে কাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনীর সমন্বিত টাস্কফোর্স। কর্নেল আবু মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স গাজীপুর, আশুলিয়াসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তায় নিশ্চিতে কাজ করছে।










