কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার কারণে ব্যবসায়ীদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা লিখিতভাবে জানাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুনরায় এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী সাতদিনের মধ্যে কারফিউ উঠে যাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ভবনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সালমান এফ রহমান। এদিন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে অন্তত ২ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সালমান এফ রহমান ও এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের যে সমস্যাগুলো হচ্ছে সেগুলো আমরা গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি খাতের ব্যবসায়ীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি আলোচনার জন্য। উনাদের কাছ থেকে আমরা ভালো ভালো পরামর্শ পেয়েছি। সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব। উনাদের যে সমস্যা আমরা দেখেছি সেখান থেকে পাঁচটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু সমস্যা আমরা পেয়েছি। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে এর সমাধান করব।’
সালমান এফ রহমান জানান, এনবিআর নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। এসব সমস্যা বাজেটের আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা উত্থাপন করে আসছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘তৃতীয় মিটিংটি আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে করতে চাই। কারণ ব্যাংকে অনেক সমস্যা হচ্ছে। তারপর তারা বলেছে আইসিটি নিয়ে। বিশেষ করে ব্রডব্যান্ড নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। আমাদের ডাক, টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে ছিলেন, সেটিও আমরা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি।’
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি এড়াতে ভবিষ্যতে আলাদা ইন্টারনেট চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা—এ কথা জানিয়ে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘ইন্টারনেটের জেনারেল সিস্টেমটা যদি নষ্ট হয়ে যায়, কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ব্যবসায়ীদের জন্য স্ট্যান্ডবাই সিস্টেম করা যায় কিনা, এমন পরামর্শ ব্যবসায়ীরা দিয়েছেন। যাতে ব্যবসাটা চলতে পারে। নিজস্ব একটা ইন্টারনেট তৈরি করা যায় কিনা, সেটির একটা সাজেশন এসেছে। আমরা সেটি বিবেচনা করব। এটি ভালো প্রস্তাব।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেক ই-কমার্স, এফ কমার্স এবং ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের কিছু বিষয় বৈঠকে উঠে এসেছে। এগুলোও আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধান করার চেষ্টা করব। সব শেষে বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে কিছু বিষয় ছিল। এগুলো আগেও ছিল, সেটি আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে কার্যক্রম হাতে নেব।’
বৈঠকে শেষে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাওয়া হয়েছে। এটি হিসাব করে আশা করি কাল-পরশুর মধ্যে পাব। আমরা চেষ্টা করব আগামী কেবিনেট মিটিংয়ে এটি উত্থাপন করতে। তবে আমাদের সাপ্লাই চেইনে কোনো সমস্যা হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরসহ বিভিন্ন স্থলবন্দরে ম্যানুয়ালি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠান শেষে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট চেম্বার অব কমার্সের (ফিকি) প্রেসিডেন্ট জাভেদ আখতার একটি লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করেন। এতে দাবি করা হয়েছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের বিদেশী বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়েছে।










