বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন দুই দেশের ব্যবসায়ী নেতারা।

আজ সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে দ্য ফেডারেশন অব পাকিস্তান চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফপিসিসিআই) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এফবিসিসিআই আয়োজিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান বিজনেস ফোরাম শীর্ষক সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান।

এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছরে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে অগ্রগতি হলেও কৃষি, বস্ত্র, ওষুধ, আইসিটি প্রভৃতি খাতে বিশাল সম্ভাবনা এখনো অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে। যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এ খাতগুলোতে বাণিজ্য বহুগুণে বাড়ানো সম্ভব।

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাকে (ওআইসি) কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য সম্পর্ককে আরো মজবুত করা যেতে পারে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও গবেষণার মতো খাতে দুই দেশ নিবিড়ভাবে কাজ করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এফপিসিসিআইয়ের সভাপতি আতিফ ইকরাম শেখ বলেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে কৃষি, চামড়া, ওষুধ, মেশিনারি, কেমিক্যাল ও আইসিটি খাতে বড় ধরনের বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে। তবে অবকাঠামো, বন্দর ও লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এফপিসিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাকিব ফায়াজ মাগুন বলেন, কৃষি খাতে যৌথ উদ্যোগ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সভায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরো মজবুত করার লক্ষ্যে এফবিসিসিআই ও এফপিসিসিআইয়ের মধ্যে একটি জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাওসার চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী (খোকন), এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীরসহ উভয় দেশের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।