দেশের পুঁজিবাজারে গতকাল বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারে দরপতন হয়েছে। এর প্রভাবে সূচক ও লেনদেনও নিম্নমুখিতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ কমেছে প্রায় ৩২ শতাংশ। দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সেচেঞ্জে সূচক কমলেও দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল দিনভর সূচকে অস্থিরতা পরিলক্ষিত হয়েছে। দিন শেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস ৩০ আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩৩ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৩৪ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), ব্র্যাক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।
ডিএসইতে গতকাল মোট ৭২৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক্সচেঞ্জটির লেনদেন কমেছে ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে মোট ৩৯৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ১০২টির, কমেছে ২৫৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টির বাজারদর।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, গতকাল পুঁজিবাজারে দর সংশোধন দেখা গেছে। সতর্ক বিনিয়োগকারীদের অনেকেই শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিয়েছেন। এদিন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনা ও বেচা দুই ধরনের প্রবণতাই দেখা গেছে। তবে এর মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা ছিল লক্ষণীয়। পাশাপাশি পুঁজিবাজারের বিগত সময়ের অনিয়ম, দুর্নীতি ও কারসাজির ঘটনা তদন্তে নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদ্যোগের বিষয়টিও বাজারের গতিপ্রকৃতির ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলে সেদিকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক দৃষ্টি ছিল।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেন ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাতের। আর ১২ দশমিক ৯ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। এছাড়া প্রকৌশল খাতে ৮ দশমিক ২ ও বস্ত্র খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে ইতিবাচক রিটার্নে শীর্ষ ছিল প্রকৌশল, পাট এবং কাগজ ও মুদ্রণ খাত। এ তিন খাতে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে যথাক্রমে ১ দশমিক ৮, ১ দশমিক ৮ ও দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নের শীর্ষে ছিল জীবন বীমা, সাধারণ বীমা ও বস্ত্র খাত। এ তিন খাতেই ১ দশমিক ৪ শতাংশ হারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।










