চুক্তি নিয়ে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, এটি কোনো উন্নত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক চুক্তি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) হিসেবে বিশেষ সুবিধার ওপর নির্ভরতা থেকে সরে এসে নিয়মভিত্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রবেশের পথ তৈরি করছে।

আইসিসির বুলেটিনে বলা হয়েছে—এ চুক্তি শুধু একটি সাধারণ বাণিজ্য চুক্তি নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি পরিকল্পনা, যা এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলতে সহায়তা করবে। এ চুক্তির মূল সুবিধাগুলো খুবই সরাসরি এবং স্পষ্ট। বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত (ডিউটি-ফ্রি) প্রবেশাধিকার দিয়েছে জাপান। এতে বাংলাদেশের মোট রফতানির প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্য অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাকও রয়েছে।

আইসিসি মনে করে, এটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটি এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পথে রয়েছে। সাধারণত এলডিসি থেকে বের হলে বিভিন্ন দেশে রফতানির ওপর শুল্ক আরোপ হয়। কিন্তু এ চুক্তির মাধ্যমে জাপানের মতো বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে বাংলাদেশ আগের মতোই সহজ শর্তে পণ্য রফতানি করতে পারবে। ফলে এলডিসি উত্তরণের পর যে বড় ঝুঁকিটি ছিল রফতানিতে শুল্ক বেড়ে যাওয়ার—বাংলাদেশ অনেকটাই তা কমাতে পেরেছে।

সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে, শুল্ক সুবিধার বাইরে এ ইপিএ চুক্তিটি অনেক বিস্তৃত ও আধুনিক। এতে শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, সেবা খাত, বিনিয়োগ, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা, মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) ও ডিজিটাল বাণিজ্য—এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য ১২০টি সেবা খাত খুলে দিয়েছে জাপান, আর জাপানের জন্য ৯৭টি খাত উন্মুক্ত করেছে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীরা—বিশেষ করে আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কেয়ারগিভিং খাতে—জাপানে কাজের নতুন সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত উদাহরণ তৈরি করেছে বলে সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আসিয়ান দেশগুলো এবং যুক্তরাজ্যের মতো বড় অর্থনীতির সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্ত হবে। সরকারের নীতিনির্ধারক এবং বেসরকারি খাত—দুই পক্ষই এ চুক্তিকে ভবিষ্যতের অন্যান্য ইপিএ ও ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্টের জন্য একটি মডেল হিসেবে দেখছে।

আইসিসির বুলেটিনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও জাপানের ইপিএ শুধু একটি মাইলফলক নয়, একটি বার্তা। এ চুক্তি দেখায় যে বাংলাদেশ এখন এলডিসি পরিচয়ের বাইরে গিয়ে একটি শক্তিশালী ও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে প্রস্তুত। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ চুক্তির মাধ্যমে শিল্প খাতে উন্নয়ন, রফতানির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে আরো গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো এ বড় সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক গতি বজায় রাখা এবং একই ধরনের চুক্তি অন্যান্য উন্নত দেশের সঙ্গে করা।