প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য মাসিকের সময় স্যানিটারি পণ্যের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়াটার এইড বাংলাদেশ এবং কিম্বার্লি ক্লার্ক-এর সহযোগিতায় বি-স্ক্যান আয়োজন করেছে ‘প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সহজলভ্য ও নিরাপদ স্যানিটারি পণ্য উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ২০২৫’।
এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মিলনায়তনে একটি অনাড়ম্বর আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজনে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও এমএইচএম প্লাটফর্মের সভাপতি হাসিন জাহান বলেন, প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সহজলভ্য ও নিরাপদ পণ্য উদ্ভাবন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমার অনেক দিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। বড় একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য স্যানিটারি পণ্য তৈরির অনুরোধ করি। তখন আমি বুঝতে পারি যে উদ্ভাবনের কাজটি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে আসতে হবে। বি-স্ক্যানকে এ উদ্যোগের প্রস্তাব করলে তারা এগিয়ে আসে। ভালো প্রস্তাব পেলে আমরা তিনের অধিক প্রতিষ্ঠানকে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য প্রস্তুত আছি।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মনির হোসেন বলেন, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন ম্যানেজমেন্ট (এমএইচএম) এখনো পর্যন্ত প্রতিবন্ধী নারীদের প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে আলোচিত। সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানে আসা সম্ভব—যেখানে কাউকে পেছনে ফেলে রাখা হবে না। বাজেট ও কর্মসূচির আলোকে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়াও তিনি বিদ্যমান কর্মসূচির মধ্যে এই প্রতিযোগিতাকে সম্পৃক্ত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান বলেন, একজন নারী গড়ে জীবনের প্রায় ৩ হাজার দিন মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় কাটান। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে যদি অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার হন, তবে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্থিতিশীলতাও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সহজলভ্য ও নিরাপদ পণ্য উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা-২০২৫ একটি চমৎকার সুযোগ—যার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে আমরা সহজলভ্য, নিরাপদ ও সম্মানজনক মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারি। বি-স্ক্যানের মতো ক্যাটালিস্টরা আরো সামনে আসুক, যেন আমরা সম্মিলিতভাবে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে পারি।
সভায় উপস্থিত বক্তা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ বলেন, বাস্তবে না থাকলেও আমাদের পণ্যের ডিজাইন এক্সেসিবল হতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, এ সৃজনশীল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভালো উদ্যোগগুলো তুলে আনা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন বিভিন্ন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ, সহযোগিতা ও সাহসিকতা। জুলাই আন্দোলনের পর নতুন নতুন উদ্ভাবণী ধারনা আমাদের আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এরপর তিনি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করে এর সাফল্য কামনা করেন।
বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুবের সঞ্চালনায় আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফ, ঋতু, সেভ দ্য চিলড্রেন, স্কয়ার ফার্মা, সাইটসেভার্স, হিউমিনিটি ইনক্লুশন (এইচআই), এসপিইউএস, ডিসিএফ, আইসিডিডিআরবিসহ বিভিন্ন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনজিও কর্মী, সিভিল সোসাইটি সংগঠন, উন্নয়ন অংশীদার, যুব উদ্ভাবক, পণ্য ডিজাইনার, প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ প্রতিনিধি ও প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীরা।
এছাড়াও সার্বিক পরিস্থিতি এবং প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন বি-স্ক্যানের সহযোগী সমন্বয়কারী শাওনি ইমাম। এর পূর্বে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র দেখানো হয়। মুক্ত আলোচনায় অংশ নেয়া প্রতিবন্ধী নারীরা বলেন, ঋতুকালীন সময় তাদের জন্য উপযোগী, নিরাপদ ও সহজলভ্য পণ্যের এখনো ঘাটতি রয়েছে। তারা জানান, মাসিককালীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় এখনো নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। কথা বলার পাশাপাশি তারা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হন, তা তুলে ধরেন।
বি-স্ক্যানের পরিচালক ইফতেখার মাহমুদ বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্ভাবন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা করলে তা প্রান্তিক মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়ে উঠবে। মাসিক বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও পণ্য সমতল থেকে পাহাড় পর্যন্ত পৌছে দিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা ভিন্ন ভিন্ন। সভায় বেশিরভাগ নারী স্যানিটারি প্যাডের উচ্চমূল্য নিয়ে কথা বলেন।
উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উদ্ভাবিত পণ্যগুলো মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় প্রতিবন্ধী নারীদের চাহিদা পূরণে একটি কার্যকর সমাধান হয়ে উঠবে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই মডেল হিসেবে কাজ করবে। —বিজ্ঞপ্তি










