নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) আইন বিভাগের উদ্যোগে ‘বিশ্ব বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি দিবস’ উপলক্ষে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। আজ বুধবার (৩০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের মুট কোর্ট রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাকোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক নিলুফার স্যালভাদুরাই। বিশেষ বক্তা হিসেবে আলোচনা করেন সেন্টার ফর লার্নিং ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টির পরিচালক মহুয়া জহুর ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন এনএসইউর কোষাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব খান।
অধ্যাপক নিলুফার স্যালভাদুরাই বলেন, পেটেন্ট আইনের মূল উদ্দেশ্য উদ্ভাবনকে সমর্থন করা। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্ভাবকদের স্বীকৃতি দিতে বর্তমান পেটেন্ট আইন ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আইন প্রণেতাদের এ বিষয়টি বিবেচনা করে নতুন নীতিমালা তৈরির সুপারিশ করেন।
বিশেষ বক্তা মহুয়া জহুর কপিরাইট আইন ২০২৩-এর গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং লোকসঙ্গীত ও সঙ্গীত শিল্পের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি অডিও-ভিজুয়াল সম্পাদনাকারীদের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন।
অ্যাডভোকেট সাকিব রহমান ট্রেডমার্ক আইনের একটি জটিল দিক ‘ট্রেডমার্কের অস্পষ্টতার মাধ্যমে ক্ষতিসাধন’ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আদালত এখনো এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। তাই ২০০৯ সালের ট্রেডমার্ক আইনে এটি অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি বলে জানান তিনি।
এনএসইউ উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি আইন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে উৎসাহিত করেন। ভারপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব খান বলেন, আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতা রক্ষায় বুদ্ধিবৃত্তিক আইন অপরিহার্য।
আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ইশতিয়াক আহমেদ স্বাগত বক্তব্য দেন এবং ড. মো. রিজওয়ানুল ইসলাম বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের সুরক্ষার ওপর জোর দেন যাতে দেশীয় সৃজনশীলতা উৎসাহিত হয় ও বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়। —বিজ্ঞপ্তি










