উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ খাবার সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যক। আবার সে খাবার উৎপাদন স্থান, উপকরণ, প্রক্রিয়াকরণ, বিতরণ, ভোগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত যে সামগ্রিক প্রবাহ আছে তা হবে জন বাস্তুস্বাস্থ্যবান্ধব। কারণ কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা প্রজন্মের পর প্রজন্ম সচল ও স্থিতিশীল রাখাও অত্যাবশ্যক। এটা প্রতিষ্ঠিত যে খাদ্য হলো সব রোগের প্রতিষেধক, আবার দেহে রোগ সৃষ্টির উৎস—এটা নির্ভর করছে তার পুষ্টি ও নিরাপত্তা গুণাগুণের ওপর। আমাদের জাতীয় চাহিদা হলো পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদ খাবার ও একটি স্থায়িত্বশীল কৃষির মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। একটি প্রশ্ন প্রায়ই উচ্চারণ হয় যে আমরা যা খাচ্ছি তা কি সত্যিই কোনো উপকারে আসছে, নাকি শুধু উদর ভরার কাজ করছে। অংশীজনদের কেউই তা নিশ্চিত করতে পারছেন না।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র খামারির দেশ এবং হাজার বছরের মিথস্ক্রিয়ায় ফসল-প্রাণী-মৎস্যসম্পদের প্রার্চুযে একটি স্থায়িত্বশীল কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। কিন্তু এটা অনভিপ্রেত যে তিন-চার দশকব্যাপী দেশের কৃষিখাদ্য ব্যবস্থাসংক্রান্ত বিজ্ঞানভিত্তিক যেসব তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ হয়েছে, তাতে ইতিবাচকের চেয়ে নেতিবাচকের পাল্লাই ভারী। ফলে সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বাংলাদেশে প্রচলিত কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা দেশের জনস্বাস্থ্য ও বাস্তুস্বাস্থ্যের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কারণ আমাদের যে কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তা মাঠ ও পাত পর্যন্ত কৃত্রিম রাসায়নিক সার ও বালাইনাশকনির্ভর, আবার প্রাণিসম্পদ ও মাছ চাষে অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ আইসিডিডিআর,বির সূত্রমতে, বাংলাদেশের মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ ভাগের জন্য অসংক্রামক রোগ দায়ী। আবার প্রতি পাঁচজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে। প্রায় ১ দশমিক ৫ কোটি মানুষ ডায়াবেটিস রোগে ভুগছে এবং ২০২১ সালে ডায়াবেটিসের কারণে প্রায় ৭৫ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ডাউনি সিনড্রোম, অটোইমিউন ডিজিজসহ আরো অজানা রোগের তো সীমা নেই এবং এর সবই কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার জন্য দায়ী। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ২০১৭ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সংস্থাটির হাসপাতালে যত পুরুষ রোগী ভর্তি হয়েছে তাদের মধ্যে ৬৪ শতাংশই নানাভাবে কৃষিকাজে জড়িত ছিল। আর নারী-পুরুষ মিলিয়ে যত ক্যান্সার রোগী ভর্তি হয়েছে তাদের ৩৪ শতাংশই কৃষি পেশায় সম্পৃক্ত ছিল। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে ২০৩০ সালে প্রতি ঘরে একজন ক্যান্সার রোগী বা ডিজঅ্যাবল শিশু থাকবে। তাহলে উৎপাদক থেকে ভোক্তা কেউই বর্তমান কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার বিধ্বংসী নেতিবাচক প্রভাব থেকে কোনো অবস্থাতেই মুক্ত নয়। কৃষি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কৃত্রিম রাসায়নিক সার ও কীটনাশক খাদ্যশৃঙ্খলে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি ক্রমাগতভাবে বাড়িয়ে তুলছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। 

কিছুদিন আগে এক বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে দেশে প্রধান খাবার ধানে ক্যাডমিয়াম নামক ভারী ধাতুর মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি। সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রধান সবজি বেগুন ও তার জমিতে ভারী ধাতুর ক্ষতিকর উপস্থিতির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বর্তমান ব্যবস্থার ভয়াবহতা আরেকবার প্রকাশ পেয়েছে। শুধু কি ভারী ধাতু, মাটির ওপরে ও নিচের পানির নাইট্রেটের ঘনত্ব বেড়ে গেছে, যা দেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণা ফলাফলে তুলে ধরা হয়েছে। কৃষিজমিতে ভারী ধাতুর প্রধানতম কারণ অযাচিত পরিমাণে ফসফেট (ভারী ধাতু ক্যাডমিয়াম সমৃদ্ধ রক ফসফেটের কাঁচামাল) সার ও বালাইনাশক (লেড, ক্রোমিয়াম, আর্সেনিক, নিকেল ইত্যাদি) প্রয়োগ এবং নাইট্রোজেন সারের অপরিমিত ব্যবহারের মাটির ওপরে ও নিচের পানিতে নাইট্রেটের উপস্থিতি। মাটিতে বা ফসলে প্রয়োগ করা কোনো রাসায়নিক সারই ৩০ ভাগের বেশি ব্যবহার হয় না, বাকি অংশ মাটিতে সংবন্ধন, সেচের পানি বা বৃষ্টির পানির মাধ্যমে জলাধারে জমা হয়ে জলজ প্রাণীর ক্ষতিসহ পরিবেশেরও সীমাহীন ক্ষতি করছে। এছাড়া নাইট্রোজেন সার বেশি দিলে গাছের ভারী ধাতু শোষণমাত্রা বেড়ে যায়। মানবদেহের ক্যাডমিয়াম ও নিকেলের উপস্থিতি কম ওজনের সন্তান প্রসব, হাড় ভঙ্গুরতার মতো রোগ দেখা যায়, নাইট্রেট সমৃদ্ধ পানি পান করলে মেথামোগ্লোবিনিমিয়া হতে পারে, অন্ত্রে নাইট্রেটের রূপান্তরকৃত যৌগ ক্যান্সারের অন্যতম উৎপাদন। এছাড়া কীটনাশক হিসেবে বিভিন্ন কার্বামেট, পাইরেথ্রয়েড ও নিওনিকোটিনাইডের এন্ডোক্রাইনের কার্যকলাপ ব্যাহত করে এবং প্রাণী ও মানুষের প্রজননের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ আছে। আবার কীটনাশক ক্লোরপাইরিফস, ফসফামিডন, ম্যালাথিয়ন, ফেন্থিয়ন, মিথাইল ফসফরোথিওয়েট, প্যারাথিয়ন, ক্লোরফ্লুজাউরন, সাইপারমেথ্রিন বা ফক্সিমিন জমিতে প্রস্তাবিত ঘনত্বে মাটি এবং রাইজোস্ফিয়ার মাইক্রোবায়োটার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে আসছে। ভেষজনাশক গ্লাইফোসেট মাটির রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের তুলনায় অনেক কম ঘনত্বে মাটি, উদ্ভিদ এবং অন্ত্রের উপকারী জীবাণুকে বাধা দেয়। সামগ্রিকভাবে মাটি, উদ্ভিদ ও মানব জীবাণুর ওপর গ্লাইফোসেটের এ পরোক্ষ প্রভাবগুলো মানুষ ও বাস্তুস্বাস্থ্যকে অস্বাভাবিকভাবে প্রভাবিত করছে। 

এছাড়া যেমন মাটির উর্বরতা কমাচ্ছে তেমনি একক ফসলি চাষাবাদ এবং জমির অত্যধিক ব্যবহার বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট করছে যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দেশের প্রায় ২০০ ধরনের ফসল চাষের মাধ্যমে দানাদার, কন্দাল, ডাল, তেল, সবজি, ফল ও মসলাজাতীয় খাবারের প্রাচু‍র্য, কিন্তু একক ফসল চাষে অনেক ফসলের ভূ-কুল (ল্যান্ডরেসস) বিলুপ্ত প্রায়। বৈচিত্র্যময় খাদ্য গ্রহণ করে পুষ্টিনিরাপত্তার অন্যতম উপায় তার বিকল্প ব্যবস্থা দুনিয়াব্যাপী নেই। অথচ শুধু ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব মেটাতে ‘জিএমও ফসল গোল্ডেন রাইস’ প্রবর্তনের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। অধিকন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত বাংলাদেশের কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার বৈরিতা বহু গুণে বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত হলো শতবছরের গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধি এবং তার প্রভাবে খরা, লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি, অতি উচ্চ বা অতিনিম্ন তাপমাত্রা, অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি সবগুলোই এখন আমরা প্রত্যক্ষ করছি, আধুনিক জাতগুলো এ সমস্যা সমাধানে সক্ষমতা প্রদর্শন করতে তেমনভাবে পারেনি। অথচ স্থানীয় ফসলের পুরনো ভূ-কুলরা তা বহুলাংশে সক্ষমতা দেখাচ্ছে। এগুলোকে কৃষকের বীজ ও কম ফলনশীল ট্যাগ দিয়ে অবহেলিত বা এতিম করে জিন জাদুঘরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। একদিকে যেমন ভূ-কুল বিলুপ্তি, অন্যদিকে শিল্পায়ন, নগরায়ণ, রিসোর্ট, বাগানবাড়ির জন্য কৃষিজমি বেহাত হচ্ছে নিয়ত, শিল্পবর্জ্য দূষণে কৃষিজমি ফসল চাষের অনুপযোগী হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতি উদ্ভবের জন্য বর্তমান কৃষিখাদ্য ব্যবস্থায় অনুসৃত নীতি-চর্চাগুলো দায়ী। এগুলো এমনভাবে গড়ে উঠেছে যে নীতিচর্চাগুলো শুধু উৎপাদন বাড়ানোর দিকে বেশি মনোনিবেশ করা হয়েছে। অথচ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত স্থায়িত্বের কথা তেমনভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। যেমন মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নে জৈব সার অন্যতম উপাদান। মাটিতে ফসল উৎপাদন করতে কী পরিমাণ জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে সেজন্য একটি জাতীয় নির্দেশিকা পাঁচ-ছয় বছর অন্তর নবায়ন করা হয়। ১৯৯৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত চারটি নির্দেশিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে ১৯৯৭ সালে প্রতি হেক্টরে যেখানে ১০ টন জৈবসার প্রয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল, ২০২৪ সালে তা দুই টন সুপারিশ করা হয়েছে এবং পাশাপাশি রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। ফল হিসেবে গত দুই দশকে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৪ দশমিক ৫ গুণ বেড়েছে। বাড়তি রাসায়নিক সারের চাহিদা জোগান দিতে গিয়ে গত দুই বছর দেশে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সারে ভর্তুকির জন্য প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করা হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আগামী বছরগুলোয় সে খরচ বাড়বে। বালাইনাশক ব্যবহার ছলচাতুরী (ওজনে বেশি দানাদার কমেছে কিন্তু ওজনে কম তরল) করে কম দেখানো হচ্ছে, তার প্রমাণ হলো গত দুই দশকে বছরে ১৫০ গুণ বেশি আগাছা নাশক ব্যবহার হচ্ছে। 

একদিকে কৃষক রোগে-শোকে ভুগছে, অন্যদিকে একটি সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থার অনুপস্থিতিতে কৃষক পণ্যের উপযুক্ত মূল্য থেকে যুগ যুগ ধরে বঞ্চনার শিকার, দেশে আবার কৃষক নামধারী কিছু ছাপোষা তৈরি হয়েছে, যারা সভা-সমিতিতে বক্তৃতা করে মঞ্চ গরম রাখেন, কৃষির সঙ্গে এদের তেমন যোগাযোগ নেই। এ নীতিচর্চাগুলো বিস্তারে সহযোগিতা করছেন ব্যবসায়ীবান্ধব একশ্রেণীর নীতিনির্ধারক। 

বর্তমানের এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা সংস্কারে একটি আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। এ সংস্কার কেবল নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং চর্চারও পরিবর্তন আনতে হবে, পাশাপাশি নীতি প্রণয়নের দৃষ্টিভঙ্গি কী সেটা পরিষ্কার করা দরকার—এটা রূপান্তর না পুনরুজ্জীবনমূলক। কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা সচল রাখতে শুধু কৃষি বা খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পৃক্ত নয়। এখানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ, ভূমি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জড়িত। এসব মন্ত্রণালয়েরও কৃষিখাদ্যের জন্য নানা নীতিচর্চা রয়েছে যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একে অন্যের জন্য বৈরী। এ জন্য একটি সমন্বিত নীতি থাকা দরকার। জনবাস্তুস্বাস্থ্যবান্ধব কৃষিখাদ্য ব্যবস্থা গড়তে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, পানি ও পরিবেশ একীভূত করার সময় এসেছে। পৃথিবীর অনেক দেশে (জাপান, কোরিয়া, জার্মানি, ভিয়েতনাম) এমন ব্যবস্থা আছে, যা দারুণ কাজ করছে।

চর্চার ক্ষেত্রে প্রথমত, কৃষিকাজে বিষমুক্ত পদ্ধতির প্রসার ঘটাতে হবে। জৈবিক কৃষি, সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং স্থানীয় জাতের ফসল, প্রাণী, মাছ চাষকে উৎসাহিত করতে হবে, যা পরিবেশবান্ধব এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। দ্বিতীয়ত, খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত স্থায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সুরক্ষিত খাদ্য উৎপাদন এবং ভোক্তার কাছে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে নীতিমালা ও বিধিনিষেধকে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। রাসায়নিক সারের ভর্তুকি কমিয়ে জৈব সারে দিতে হবে, পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকের জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা বাড়াতে হবে, যাতে তারা পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। 

কৃষিকাজ সম্মানজনক পেশা নয়, সেজন্য প্রতিটি কৃষকের জন্য সম্মানজনক জীবন পদ্ধতির ব্যবস্থা করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বছরে একবার দূরপাল্লার ভ্রমণে অর্ধভাড়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পারিবারিক কৃষিকে উৎসাহিত করার জন্য প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে। এ আমূল সংস্কারের জন্য সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। সরকারকে নীতিনির্ধারণে এমন পরিবর্তন আনতে হবে যা জনস্বাস্থ্য এবং বাস্তুস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে প্রাধান্য দেয়। কৃষি নীতিমালা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবেশগত এবং স্বাস্থ্যগত বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ক্ষতিকর কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারকে জনবাস্তুস্বাস্থ্যবান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কৃষি গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। যেন নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি এবং প্রথা বিকশিত হয় যা পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে ভোক্তারা স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব খাদ্য গ্রহণে উৎসাহিত হয়। নিশ্চয়ই সরকার জনবাস্তুস্বাস্থ্যবান্ধব কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার নীতিচর্চার পুনরুদ্ধার কাজে হৃদয়গ্রাহী হবে।

ড. মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন: প্রাবন্ধিক ও গবেষক, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট