গত কয়েক বছরে ডেঙ্গু, ডায়রিয়াসহ নানা সংক্রমণ স্বাস্থ্য খাতকে এক ধরনের অস্বস্তিকর বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। প্রতিবারই স্বাস্থ্য খাতকে টেকসই করার বিষয়ে তাগাদা এসেছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞাননির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। বিষয়টি এবারের স্বাস্থ্য দিবসেও প্রতিফলিত হয়েছে। গতকাল উদযাপিত স্বাস্থ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ।’ অর্থাৎ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকেই বেশি জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে গোটা স্বাস্থ্য খাতের অবকাঠামোকে চিকিৎসাবান্ধব করতে হবে। এ কাজটি সম্ভব যখন আমরা জনস্বাস্থ্য খাতে জনসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সঠিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, চিকিৎসাসেবা পৌঁছুনোর সক্ষমতার সমন্বয় করতে পারব। প্রতি বছর স্বাস্থ্য দিবসে নানা ধরনের স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কর্মসূচি নেয়া হয়। তবে শুধু কর্মসূচির মাধ্যমে সচেতনতা বাড়িয়ে দৃশ্যমান সাফল্য কমই পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে গোটা স্বাস্থ্য অবকাঠামোকে পর্যালোচনা করে বাস্তবায়নযোগ্য কিছু সমাধানও খুঁজে নিতে হয়।
স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের ব্যাপক টেকসই ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্যসেবা সুলভও হয়েছে। কিন্তু গোটা স্বাস্থ্য খাত এখনো অপরিকল্পিত ও অসংগঠিত। এজন্যই যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাত উপযুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খায়। অপ্রিয় হলেও সত্য, অতীতে প্রায় সব নীতিনির্ধারকই স্বাস্থ্য অবকাঠামোর বিষয়ে দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়েছে। কিন্তু এসব অবকাঠামো কিংবা সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে দেশের সব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার মতো একটি পরিপূর্ণ পরিকল্পনা তৈরি করা যায়নি। বর্তমানে জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এ সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে।
দেশে কতগুলো সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা অন্যান্য চিকিৎসা কেন্দ্র রয়েছে এ পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে স্বাস্থ্য খাতের অসংগঠিত অবস্থা বোঝা সম্ভব নয়। এটি প্রধানত সেবাপ্রদায়ী খাত। ফলে দক্ষতার পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসকদের সংখ্যার ভিত্তিতে সার্বিক অবস্থা যাচাই করা জরুরি। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৮ কোটি। এত মানুষকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য কতজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান প্রয়োজন সে বিষয়ে বড় পরিসরে কোনো গবেষণা জরিপ নেই। এক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলো প্রায়ই বিদেশী নানা গবেষণা সংস্থার জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতির গুরুত্ব উপস্থাপন করে। অথচ আমাদের জনমিতির বাস্তবতাকে বিবেচনা করে জরিপ করা গেলে স্বাস্থ্য অবকাঠামোর অপরিকল্পিত বাস্তবায়ন কমানো কঠিন হতো না। কোন কোন অঞ্চলে বড় হাসপাতাল জরুরি, কোথায় স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা জরুরি আবার কোথায় বিশেষ চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণ করা যেতে পারে—এসব সচরাচর জরিপ ও গবেষণার মাধ্যমেই প্রাক্কলন করা যায়। এ প্রাক্কলনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অবকাঠামোর অবস্থান, জনবল চাহিদা এবং সেবার পরিধি পরিমাপ করে একদম শেষে তা নির্মাণ করলে প্রত্যাশিত মাত্রায় স্বাস্থ্যসেবা দেয়া যায়। কিন্তু স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণে এ দিকটাকে প্রাথমিক পর্যায়েও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা বা মান অনুযায়ী একজন চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন নার্স এবং পাঁচজন টেকনোলজিস্ট বা টেকনিশিয়ান সহযোগী হিসেবে থাকা প্রয়োজন। দেশে সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজারের মতো। অবশ্য প্রতি বছর নতুন চিকিৎসক এ খাতে যুক্ত হচ্ছেন তাই সংখ্যাটি কমবেশি হতে পারে। অভিজ্ঞ ও নিবন্ধন পাওয়া চিকিৎসকদের একাংশ দেশত্যাগ করেছেন কিংবা বিদেশে কর্মরত রয়েছেন। অনেক অভিজ্ঞ চিকিৎসক এখন অবসরে। আবার রেজিস্টার্ড চিকিৎসকদের একাংশ অ্যানাটমি বা ফিজিওলজি কিংবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষকতায় নিযুক্ত। অনেকে শুধু পাবলিক হেলথ নিয়ে কাজ করছেন। ফলে বেশ কয়েকটি জরিপ জানাচ্ছে, এ মুহূর্তে বিপুল জনসংখ্যাকে সক্রিয়ভাবে ৮৫-৯০ হাজার চিকিৎসক চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম কিংবা সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য অন্তত একজন মেডিকেল ডক্টর বা ক্লিনিক্যাল ডাক্তার রাখা উচিত। দেশের স্বাস্থ্য খাতের চাহিদা বিবেচনা করলে দেখা যাচ্ছে আমাদের এখানে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য সমস্যার নিরিখে চিকিৎসকদের বিশেষজ্ঞতার পরিসংখ্যানও নেই। অর্থাৎ দেশে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, সার্জন, নিউরো সার্জন অথবা মেডিকেল স্পেশালিস্ট, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট কিংবা হিউম্যান অ্যানাটমির অন্য ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কতজন তার একটি পরিসংখ্যান থাকলে মেডিকেল কলেজ ও শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক প্রস্তুতের পথনকশা গড়া যায়।
আরেকটি পরিসংখ্যান দেখা জরুরি। এই যে সক্রিয়ভাবে ৯০ হাজার চিকিৎসক রয়েছেন এর বিপরীতে নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ২ লাখ ৭০ হাজার নার্সকে সহযোগী হিসেবে রাখার কথা। দেশে এখন পেশাদার নার্সের সংখ্যা ক’জন? বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল (বিএনএমসি) এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট নিবন্ধিত নার্সের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার (মিডওয়াইফসহ)। এ বিপুলসংখ্যক নিবন্ধিত নার্সের মধ্যে একটি বড় অংশ বেকার অথবা বেসরকারি খাতে কর্মরত। সরকারি পর্যায়ে কর্মরত নার্সের সংখ্যা প্রায় ৪০-৪৭ হাজার। দেশে নার্সিং ইনস্টিটিউটের প্রসার ঘটেছে এবং অনেকেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা এবং নানা সংকটের জন্য প্রশিক্ষিত হয়েও তারা কর্মসংস্থান গড়ে নিতে পারছেন না। আবার দেশে টেকনিশিয়ান ক’জন রয়েছেন এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া আরো কঠিন। এর সঠিক হিসাব নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএফ) তথ্য ঘাটলে শুধু জানা যায়, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের (ফার্মাসি, ডেন্টাল, ল্যাব, রেডিওলজি ইত্যাদি) জন্য অনুমোদিত মোট পদের সংখ্যা ৯২ হাজার ২৯৪। এর মাঝে ৩২ হাজার ৫২৬টি পদই বর্তমানে শূন্য। অর্থাৎ কাগজে-কলমে যে পরিমাণ জনবল থাকার কথা, বাস্তবে তার এক-তৃতীয়াংশই নেই। অথচ দেশে প্রতিনিয়ত যে হারে মানুষের রোগ শনাক্তের চাহিদা ও প্রয়োজন বাড়ছে সে হিসাব করলে সারা দেশে সাড়ে চার লাখেরও বেশি দক্ষ টেকনিশিয়ান জরুরি। স্বাস্থ্য খাতে দক্ষ জনশক্তির ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে তাই এখন থেকেই বাড়তি মনোযোগ দিতে হবে। কারণ এটিও স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের অংশ।
স্বাস্থ্যসেবার পাঁচটি প্রথম স্তম্ভ নিয়ে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান সবসময়ই কথা বলে। প্রথমত, যেকোনো স্থানে প্রমোটিভ হেলথকেয়ার বা জ্ঞান উন্নয়নমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। এভাবে যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ কম থাকে এবং তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেমন স্বাস্থ্যসেবা তাদের প্রয়োজন। দেশে এমনটির চর্চা একেবারেই নেই। বেসরকারি পর্যায়ে কিছু উদ্যোগ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রিভেন্টিভ হেলথকেয়ার বা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সংগঠিত করা। সচরাচর যেকোনো সংক্রমণ বা প্রাদুর্ভাব ঘটায় এমন রোগের ক্ষেত্রে টিকাদান কর্মসূচি বা চিকিৎসা সহায়তা এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবার অংশ। বাংলাদেশে এটি সংগঠিত নয় বলেই ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হাসপাতালগুলোকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। দেশে ইপিআই বা টিকাদান কর্মসূচি কিছু রয়েছে। কিন্তু আধুনিক প্রিভেন্টিভ হেলথকেয়ার সিস্টেমের মতো করে এটিকে গঠন করা হয়নি। এজন্যই এসব কার্যক্রম ধীরগতির এবং অঞ্চলভেদে সমানভাবে পৌঁছুনো যায় না।
দেশে প্রিভেন্টিভ হেলথকেয়ার সিস্টেমটি সংগঠিত নয় বিধায় রোগীরাও ভোগান্তির শিকার হন। এজন্য হাসপাতালগুলোতে যেকোনো সংক্রমণের সময় জটিল রোগীরা বাদে অন্যরাও ভিড় করেন। যেহেতু হাসপাতালগুলোতে জনবল কম তাই সবার অভিযোগ ও সমস্যা শনাক্ত করার কাজটিও ধীরগতির হয়ে যায়। হাসপাতালগুলোতে বেড ক’টি, আইসিইউ সুবিধা কেমন বা কোথায় গেলে কখন এ সুবিধা পাওয়া যাবে, এসব তথ্য রোগীরা পান না। এমনকি স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টরাও এ বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য দিতে পারে না অনেক সময়। প্রতিটি জেলায় স্বাস্থ্য অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে এসব পরিসংখ্যান যে গুরুত্বপূর্ণ তা এখনো যেন নীতিনির্ধারকরা অনুধাবন করতে পারেননি। প্রাথমিকভাবে রোগীদের স্বস্তি দেয়ার জন্য টারশিয়ারি মেডিকেল কেয়ার বা তৃতীয় স্তরের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নির্মাণ জরুরি। সচরাচর রাজধানী বা অন্য বড় নগরে এগুলো দেখা যায়। অধিকাংশই থাকে বেসরকারি উদ্যোগে গড়া। অথচ দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করে সারা দেশে এটির বিস্তৃতি ঘটানো গেলে হাসপাতালগুলোতে শুধু জটিল রোগীর চাপই থাকত। স্বাস্থ্যসেবার বড় একটি অংশ বেসরকারি খাত দিচ্ছে। একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে হসপিটালে বেডের সংখ্যা সব মিলিয়ে ১ লাখ ৭২ হাজারের মতো। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ বেড বেসরকারি খাতে এবং ৭২ হাজারের মতো শয্যা সরকারি খাতে। সরকারি খাতকে দেখভাল করার জন্য পরিপূর্ণ অফিস রয়েছে এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটা কাঠামো আছে। কিন্তু বেসরকারি এ বিশাল খাতকে দেখাশোনার জন্য যে বিভাগ আছে সেখানে জনশক্তি বা ব্যবস্থাপকের সংখ্যা অল্প। এ মুহূর্তে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত ব্যবস্থাপনার বিস্তৃতি যেন রোগীদের ভোগান্তি দূর করার উপযোগী হয় সেজন্য সরকার কিছু উদ্যোগ নিতে পারে। বেসরকারি স্বাস্থ্য খাতে বাড়তি ব্যয় বা অনিয়ম নিয়ে যে অভিযোগগুলো রয়েছে সেগুলো নিরসনে স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে একটি আলাদা অধিদপ্তর করা যেতে পারে। সেটি ব্যবস্থাপনাগত বিষয় তদারকি করবে।
বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট পথনকশার অভাব আছে। বিষয়টি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জনশক্তি ব্যবহারের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। অধিকাংশ সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ডিরেক্টর জেনারেল বা নির্বাহী পদটির নিয়োগ হয় কাদের? অনেক সময় কোনো অধ্যাপক বা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞকে আচমকা নিয়োগ দেয়া হয়। অথচ এ প্রশাসনিক পদটিতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কাউকে নিয়োগ দেয়া জরুরি। জ্ঞানকে গুরুত্ব দিতে হবে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে অর্জিত দক্ষতাও যার সমান রয়েছে সেটিকে জোর দিতে হবে। একজন অভিজ্ঞ ও স্বনামধন্য ফিজিশিয়ান প্রশাসনিক কাজ চালানোর মধ্য দক্ষ হবেন এমনটি নয়। এজন্য অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। এ বিষয়টি গুরুত্ব পায় না বিধায় এখনো স্বাস্থ্য খাতে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যায়। তাতে ভোগান্তিতে পড়ে স্বাস্থ্যসেবাপ্রত্যাশীরা।
স্বাস্থ্য খাতের সর্বশেষ সংকটটি ওষুধ বাজারকে ঘিরে। দেশের ওষুধ শিল্প ব্যাপক উন্নত হয়েছে। কিন্তু দেশের বাজারে এটির বিপণনে নিয়ন্ত্রণ নেই। অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ওষুধ বা চিকিৎসাপণ্যের দাম প্রায়ই বেড়ে যায়। আবার অনেকে না বুঝে নিজেই নিজের চিকিৎসা করতে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ওষুধ কিনতে পারেন। অনেক স্থানে ফার্মেসিগুলো অনুমোদিত নয় এবং অনেক স্থানে নকল ওষুধ বিক্রির অভিযোগও মিলে। এসব একদিকে ভোক্তার প্রতি প্রতারণা আর অন্যদিকে তাদের পকেট থেকে বাড়তি খরচ বাড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ নিজের পকেট থেকে খরচ করে, যা এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। এটি কমাতে হলে সরকারকে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের পরিমাণ বাড়াতে হবে। এসব সমস্যাকে আলোচনায় এনেই মূলত স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গড়তে হবে।
জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা অর্জনে এ মুহূর্তে একটি সুস্থ জাতি গঠন আমাদের জন্য জরুরি। সেজন্য স্বাস্থ্য খাতকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি এবং একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা দরকার। এ পরিকল্পনায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে শুরু করে আধুনিক টারশিয়ারি কেয়ার পর্যন্ত সবকিছু একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে থাকবে। বিশেষত এ ব্যবস্থায় জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল সংখ্যা নয়, বরং দক্ষ এবং মানসম্মত জনশক্তি তৈরিতে নজর দেয়ার বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই আমরা স্বাস্থ্য খাতকে বিজ্ঞানসম্মত ও রোগীবান্ধব করে তুলতে পারব।
ডা. লেনিন চৌধুরী: প্রিভেন্টিভ কেয়ার চিকিৎসক ও সদস্য, ডক্টর ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট










