বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার কিছুদিন পরই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতা বেড়েছে। এ পরিস্থিতি কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে করছেন?

মধ্যপ্রাচ্যে যে উত্তেজনা চলছে, বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে তার প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দৃশ্যমান। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি পরিবাহিত হয়। ফলে এ অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ পড়া স্বাভাবিক, আর জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা মানেই পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়া।

তবে আমি এটিকে শুধু চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছি না, বরং একটি পরীক্ষার সময় হিসেবেও দেখছি। কারণ সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর পরই যদি এমন একটি বৈশ্বিক সংকটের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে সেই সরকার কতটা প্রস্তুত তা বোঝার একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়।

এখন পর্যন্ত আমরা দেখছি যে দেশের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়নি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। জ্বালানি তেলের বড় ঘাটতির খবর নেই। সরকার জানিয়েছে, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ‘প্যানিক বায়িং’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অবশ্যই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সবসময়ই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে। তবে সামগ্রিকভাবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই আছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বা স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পেছনে কী কী বিষয় বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে?

যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখার পেছনে বেশি ভূমিকা রেখেছে প্রস্তুতি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের প্রায় এক বছর আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দেশ পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে যারা দক্ষ পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারক আছেন, তাদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছিল। বিভিন্ন খাতভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল—কীভাবে অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিক্ষা—সব খাতকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেয়া যায়।

যে কারণে বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর পরই আমরা দেখেছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বেশকিছু কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যেমন ফ্যামিলি কার্ড চালু করা, কৃষক কার্ড নিয়ে কাজ এগিয়েছে, খাল খননের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প শুরু হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের জন্য ভাতা চালু করা হয়েছে। শিক্ষা খাতের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্রীড়া খাত সুসংগঠিত করার জন্যও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এসব কাজ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং নীতিনির্ধারকরা একযোগে কাজ করছেন দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। আর এ সমন্বয়ই মূলত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করছে।

বৈশ্বিক সংঘাত বা বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা মাথায় রেখে আগে থেকে, বিশেষত নির্বাচনী কর্মপরিকল্পনা বা ইশতাহার প্রণয়নের সময় কোনো নীতিগত প্রস্তুতি কি নেয়া হয়েছিল?

যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করি। যেটাকে বলি ‘রিস্ক আইডেন্টিফিকেশন’ এবং ‘রিস্ক মিটিগেশন’। এ দুই বিষয় পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। অর্থাৎ ভবিষ্যতে কী ধরনের ঝুঁকি আসতে পারে এবং সেগুলো মোকাবেলার জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে এসব বিষয় আগেই চিন্তা করা হয়। সুতরাং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মতো বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিএনপির পরিকল্পনার বাইরে ছিল না।

এর বড় উদাহরণ স্বাস্থ্য খাতে আমরা একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা বলেছি। আমাদের দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে ‘ট্রিটমেন্ট সেন্ট্রিক’ বা চিকিৎসাকেন্দ্রিক। আমরা এ জায়গা থেকে সরে এসে একটি প্রতিরোধভিত্তিক বা ‘প্রিভেন্টিভ সেন্ট্রিক’ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছি, যা বিএনপির ইশতাহারেও উল্লেখ ছিল।

স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তন আনার অংশ হিসেবে নেয়া পরিকল্পনাগুলোর বাস্তব অগ্রগতি কতটা দেখা যাচ্ছে?

এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য সময় প্রয়োজন। কারণ বিএনপি সরকার গঠনের পর কেবল এক মাস অতিবাহিত হয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু অগ্রগতি অবশ্যই হয়েছে।

আমরা যে পরিকল্পনা নিয়েছি তার মূল লক্ষ্য হলো প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া। গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট স্থাপন করা হবে। প্রতিটি ইউনিটের সঙ্গে তিনটি করে ‘স্বাস্থ্য হাব’ থাকবে। এ হাবগুলো থেকে মূলত প্রতিরোধমূলক এবং প্রমোটিভ স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হবে।

প্রতিটি হাবে তিনজন করে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন, যাদের আমরা স্বাস্থ্য আপা বা স্বাস্থ্য ভাই বলতে পারি। তারা সরাসরি জনগণের সঙ্গে কাজ করবেন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে একটি কমিউনিটি-ভিত্তিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসবেন। শুধু গ্রামাঞ্চল নয়, শহরেও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঘিরে আমরা একই ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্য ইউনিট গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

এ পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের জন্য আমরা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে কাজ করছি। প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলারের একটি টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রকল্প এরই মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে এবং শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হবে বলে আশা করছি। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে শিগগিরই ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য কার্ড সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেয়া হবে। এ উদ্যোগের আওতায় ইলেকট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমও চালু করা হবে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, সেটিকে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প হিসেবে) এক থেকে তিনটি জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। এ কার্যক্রমে এডিবি অর্থায়ন ও সহায়তা দিচ্ছে। আমরা আশা করছি, আগামী এক-দুই মাসের মধ্যেই এ পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হবে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে শহরাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প নিয়েও কাজ চলছে। এটিকেও পাইলট প্রকল্প হিসেবে এক থেকে তিনটি জেলায় বাস্তবায়ন করা হবে। এ পর্যায়ে আমরা দেখব, কোথায় কী ধরনের অপারেশনাল সমস্যা রয়েছে। এরপর সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিকল্পনাকে সমন্বয় করে ধাপে ধাপে জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণ করা হবে।

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে?

হামের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বাংলাদেশ প্রধানদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি সভায় তাৎক্ষণিক করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও বিতরণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং গুজব বা আতঙ্ক প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। এছাড়া হাসপাতালগুলোয় সন্দেহভাজন রোগী ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং আইসোলেশন ও চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য শিক্ষা উন্নয়নে কী কোনো ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?

স্বাস্থ্য শিক্ষা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বিষয়। আজ যদি আমরা স্বাস্থ্য শিক্ষায় পরিবর্তন আনি, তার পূর্ণ ফলাফল পেতে আমাদের পাঁচ থেকে দশ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

বর্তমানে আমাদের মেডিকেল শিক্ষা মূলত কনটেন্ট-ভিত্তিক। আমরা এটিকে কর্মদক্ষতাভিত্তিক (কম্পিটেন্সি) শিক্ষায় রূপান্তর করতে চাই। এর জন্য শুধু কারিকুলাম পরিবর্তন করলেই হবে না; আমাদের ক্লাসরুম, স্কিল ল্যাব, সিমুলেশন ল্যাব—সবকিছুতে পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষকদেরও দক্ষতা বাড়াতে হবে। কারণ নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষা দিতে হলে তাদেরও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

তবে আমি মনে করি, কেবল দক্ষ ডাক্তার দিয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব নয়। নার্সিং, হেলথ টেকনোলজিস্ট, প্যারামেডিকস এবং ফার্মাসিস্টদের শিক্ষার মানোন্নয়নও এক্ষেত্রে জরুরি। একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কখনই শুধু ডাক্তার দিয়ে কার্যকর হয় না। একটি শক্তিশালী নার্সিং ক্যাডার, দক্ষ টেকনোলজিস্ট এবং প্রশিক্ষিত প্যারামেডিকস—সবকিছু মিলেই একটি কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

সুতরাং স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যাপক সংস্কার অপরিহার্য এবং এজন্য আমরা এরই মধ্যে নীতিগত প্রস্তুতি নিয়েছি। শিগগিরই এ খাতে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে ভারত বা থাইল্যান্ড তথা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। এটা কীভাবে কমানো সম্ভব?

এটি একটি বড় সমস্যা। প্রতি বছর প্রায় ৬-৮ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চিকিৎসা খাতে ব্যয় হয়। এ অর্থ মূলত আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। আর এ প্রবণতার মূল কারণ হলো দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থার অভাব। মানুষ বিশ্বাস করে না যে তারা দেশে ভালো চিকিৎসা পাবে।

এ আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে কয়েকটি বিষয় জরুরি। প্রথমত, চিকিৎসায় অবহেলা বা ‘মেডিকেল নেগলিজেন্স’ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা—যেমন অতিরিক্ত সিজারিয়ান অপারেশন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তৃতীয়ত, বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে, যাতে তারা মানসম্মত সেবা সঠিক মূল্যে প্রদান করে।

এছাড়া আমরা একটি বড় পরিকল্পনা নিয়েছি—কক্সবাজারকে একটি স্বাস্থ্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার। সেখানে ‘হেলথ ভিলেজ’ তৈরি করা হবে, যেখানে বিশেষায়িত হাসপাতাল থাকবে; অনেকটা বিশেষ শিল্পাঞ্চলের মতো। এটি তৈরি করা হলে দীর্ঘমেয়াদে তা আঞ্চলিক পর্যায়েও একটি স্বাস্থ্য হাবে পরিণত হতে পারে।

দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সেবার মানে বড় পার্থক্য দেখা যায়। এটি কমিয়ে আনার জন্য কোনো পরিকল্পনা রয়েছে?

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ বৈষম্য কমিয়ে আনার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মডেল অনুসরণ করা হয়েছে। আমরা নিয়মিত কোয়ালিটি অ্যাসেসমেন্টের একটি ব্যবস্থা চালু করতে পারি। প্রতিটি হাসপাতালের সেবার মান মূল্যায়ন করা হবে এবং সেই অনুযায়ী স্কোর দেয়া হবে। এ স্কোরের ভিত্তিতে আর্থিক প্রণোদনাও দেয়া যেতে পারে। এছাড়া পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আমরা বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা কিনে সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য করতে পারি।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, তবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমাদের নিজেদের। আমাদের সরকার, আমাদের বিশেষজ্ঞরাই পরিকল্পনা তৈরি করবে। এডিবি ও বিশ্বব্যাংকসহ অন্য অংশীদাররা টেকনিক্যাল ও আর্থিক সহায়তা দেবে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত স্বাস্থ্য খাতে কী প্রভাব ফেলছে?

এখন পর্যন্ত সরাসরি বড় কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। তবে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীরা ফ্লাইট বাতিলের কারণে সমস্যায় পড়তে পারেন। এর বাইরে বড় কোনো প্রভাব দেখছি না। ওষুধ রফতানিতেও বড় ধরনের প্রভাব এখনো দেখা যায়নি, কারণ এক্ষেত্রে আমাদের প্রধান বাজার আফ্রিকা ও পূর্ব এশিয়া।

সবশেষ জানতে চাই, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে সামষ্টিক অর্থনীতিতে—তেলের দাম, বাণিজ্য, যোগাযোগে। স্বাস্থ্য খাত সরাসরি বড় সংকটে না পড়লেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কিছু প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়বে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরাসরি দেশের স্বাস্থ্য খাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ব্যাহত হওয়ার সুযোগ কম।