আমরা সবাই জানি, জ্বালানি শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং যেকোনো দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত। কারণ কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি ও সক্ষমতা মূলত নির্ভর করে তার জ্বালানি ব্যবহারের ওপর। একটি দেশের মাথাপিছু জ্বালানি ব্যবহারই আসলে সেই দেশের উন্নয়নের মানদণ্ড নির্ধারণ করে। যেমনটি বুয়েটের অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী উল্লেখ করেছেন—বাংলাদেশে মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহার এখনো তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
যদি আমরা সত্যিই উন্নত দেশের কাতারে যেতে চাই, তবে আমাদের মাথাপিছু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ বাড়াতেই হবে। উন্নতির পথে এগোতে হলে জ্বালানির প্রাপ্যতা ও ব্যবহার বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই। তবে এটাও সত্য, এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ—অর্থনৈতিকভাবে, প্রযুক্তিগতভাবে ও কাঠামোগত দিক থেকেও।
অধ্যাপক ম. তামিম তার উপস্থাপনায় বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবহারের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেছেন। সেখানে দেখা গেছে, আমাদের জ্বালানির একটি বড় অংশই এখনো প্রাকৃতিক গ্যাসনির্ভর। কিন্তু সেই প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে এবং আমরা ক্রমেই আমদানীকৃত গ্যাস—বিশেষ করে এলএনজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। ঠিক এখানেই এলপিজির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
২০-৩০ বছর আগেও আমাদের দেশে এলপিজির ব্যবহার ছিল খুবই সীমিত। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তখন স্বল্প পরিমাণে এলপিজি আমদানি করত, আর কিছু এলপিজি আসত কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র থেকে। তখন তা কেবল সীমিত ব্যবহারকারীর হাতেই পৌঁছাত। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। বর্তমানে দেশে প্রায় দেড় মিলিয়ন টন চাহিদার বিপরীতে আমরা ১ দশমিক ২ মিলিয়ন টন এলপিজি আমদানি করছি। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এ চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন টনে, যা নিঃসন্দেহে একটি বিশাল বাজার ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। এ বাজারে সক্রিয় চাহিদা যেমন রয়েছে, তেমনি সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে এলপিজি খাতটি দেশের জ্বালানিনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
তবে এটাও স্পষ্ট এলপিজি এখনো পুরোপুরি আমদানিনির্ভর একটি পণ্য। ফলে এর মূল্যের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলে। আলী রেজা ইফতেখার সাহেব যথার্থভাবেই বলেছেন, এক্সচেঞ্জ রেট ফ্লাকচুয়েশন বা মুদ্রাবিনিময় হারের পরিবর্তন এখানে বড় ভূমিকা রাখে।
আমরা যখন প্রতি মাসে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মাধ্যমে এলপিজির নতুন মূল্য ঘোষণা করি, তখন মূলত দুটি বিষয় বিবেচনা করি—একটি এক্সচেঞ্জ রেটের পরিবর্তন, অন্যটি সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস (Saudi CP), যা প্রতি মাসে নির্ধারণ হয়। এ দুই সূচকের ওপর নির্ভর করেই দেশে এলপিজির খুচরা মূল্য নির্ধারণ হয়। ফলে আমদানিনির্ভরতার কারণে মূল্য ওঠানামা ভবিষ্যতেও থেকে যাবে—এটা আমাদের মেনে নিতেই হবে।
বিপিসি চেয়ারম্যান সাহেব তার বক্তব্যে যে বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, তা হলো—এ খাতের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। যদি আমরা এলপিজি খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে পারি, তাহলে এর দক্ষতা ও স্থায়িত্ব উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
আমি সম্প্রতি মাতারবাড়ী পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। আমাকে জানানো হয়েছে, সেখানে একটি এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে। বিপিসি ও এলআর ইনস্টিটিউট যৌথভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বাস্তবায়নে প্রায় পাঁচ থেকে সাত বছর লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া বে-টার্মিনালে একই ধরনের একটি অবকাঠামো স্থাপনের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে, যা বাস্তবায়ন হলে এলপিজি সরবরাহ ব্যবস্থায় আরো গতি আসবে। যেহেতু আমরা এখনো গভীর সমুদ্রে আলাদা টার্মিনাল স্থাপন করতে পারিনি, তাই মাতারবাড়ী ও বে-টার্মিনালের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ইতিবাচক।
মাতারবাড়ীতে আমাকে যে এলপিজি টার্মিনালের স্থানটি দেখানো হয়েছে, সেটি নির্মাণ শেষ হলে ‘মাদার ভেসেল’ বা বড় আকারের জাহাজ সরাসরি সেখানে ভিড়তে পারবে। ফলে এলপিজি আমদানিতে পরিবহন খরচ কিছুটা কমবে, সরবরাহ ব্যবস্থাও আরো কার্যকর হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এলপিজি খাত বাংলাদেশের জ্বালানিনিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। সঠিক পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাতটি আগামী দিনে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার অন্যতম স্তম্ভে পরিণত হতে পারে।
এলপিজি নিঃসন্দেহে একটি গ্রিন এনার্জি। আমরা যে অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহার করি তার তুলনায় এলপিজি অনেক বেশি পরিবেশবান্ধব এবং আমাদের দেশের জন্য তা অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এ খাতের সুশৃঙ্খল বিকাশে রেগুলেটর বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু নীতিমালা প্রণয়ন করাই নয়, বরং তা বাস্তবায়ন করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
লাইসেন্স ইস্যু সম্পর্কিত যে সমস্যাগুলোর কথা আজকে এসেছে, তা নতুন কিছু নয়। আমরা সবাই জানি, লাইসেন্স নেয়া কিংবা তা নবায়ন করার ক্ষেত্রে প্রায়ই জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও এ বিষয়ে রয়েছে। সবসময়ই আমার চেষ্টা থাকে প্রক্রিয়াটিকে যতটা সম্ভব সহজ করা।
আমি যখন ২০১০-১১ সালে এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ছিলাম, তখন প্রতিদিনই গার্মেন্ট খাতের উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে জিএসপি সার্টিফিকেট ইস্যু নিয়ে অভিযোগ আসত। তখনো একইভাবে দেখা যেত—কাগজপত্রের জটিলতা ও প্রশাসনিক ধীরগতি। লাইসেন্সের জন্য ১৩-১৪টি কাগজের প্রয়োজন ছিল। আমরা তখনই চেষ্টা করেছিলাম এ ধরনের কাগজের সংখ্যা কমিয়ে তিন-চারে নামিয়ে আনার। একেবারে তো সব আপনি বাদ দিতে পারেন না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে আসার পর আমি এখানে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। বেশ কয়েকটি অধিদপ্তরের সঙ্গে এরই মধ্যে বৈঠক করেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গেও বৈঠক করেছি। তাদের দাবি, তারা অনেক কাজ সহজীকরণ করেছেন। তবে এটা স্বীকার করতেই হচ্ছে লাইসেন্স প্রাপ্তিতে এখনো অনেক কাগজ লাগছে। লাইসেন্স ফি নিয়ে ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেছেন। আলাদা ফি না নিয়ে কীভাবে একসঙ্গে লাইসেন্স ফি নেয়া যায় সে বিষয়গুলো আমরা দেখব।
বিভিন্ন অপারেটর মন্ত্রণালয় থেকে এরই মধ্যে ৩৩টি লাইসেন্স নিয়েছেন। এ লাইসেন্সের আওতায় ৫০টি স্থাপনা রয়েছে। ডিস্ট্রিবিউটর বা পরিবেশক যারা আছেন তারা কিন্তু লাইসেন্স নেননি। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পরিবেশকদেরও লাইসেন্স নেয়া উচিত। আমরা এরই মধ্যে অপারেটরদের কাছে পরিবেশকদের তালিকা চেয়েছি। আমরা ২০৬৪ জন পরিবেশকের তালিকা পেয়েছি। আশা করি বাকি পরিবেশকদের তালিকা অপারেটররা পাঠিয়ে দেবেন। প্রত্যেক অপারেটর যাতে লাইসেন্স নেয় সেজন্য তাদের কাছে চিঠি দেব। একই সঙ্গে প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) কাছে আমাদের প্রত্যাশা—তারা যেন তাদের পরিবেশকদের লাইসেন্স গ্রহণ করতে বলে দেন। তারপর আমরা রিটেইলারদের কাছে পৌঁছাতে পারব। পরিবেশকদের অনেক অভিযোগ ও অনুযোগ রয়েছে। আপনাদের কথাগুলো পৌঁছাতে হলেও আপনাদের লাইসেন্সের আওতায় আসতে হবে।
যেহেতু নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে সেহেতু প্রশিক্ষণের বিষয়টি জরুরি। এজন্য আমরা এরই মধ্যে লোয়াবের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। এ ব্যাপারে আমাদের আরো কাজ করার জায়গা আছে বলে মনে করি। এর মাধ্যমে নিরাপদ এলপিজি ব্যবহারে আমরা ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে পারব।
এলপিজির মূল্য নিয়ে অপারেটরদেরসহ বিভিন্ন পক্ষ থেকে কথা উঠছে। মূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ কিন্তু পরিবহন মাশুল (জাহাজ ভাড়া)। বাংলাদেশে বড় জাহাজ আসতে পারে না, এটা কিন্তু একটা বড় সংকট। অনেকেই ভারতের পরিবহন মাশুল নিয়ে তুলনা দেন। ভারতের পশ্চিম উপকূলে কিন্তু বড় বড় জাহাজ নোঙর করতে পারে। এতে মাশুলের পরিমাণ কমে যায়। একই সঙ্গে আমাদের এটাও বলতে হচ্ছে, অপারেটরদের কাছ থেকে কিন্তু মাশুলের সঠিক তথ্য পাচ্ছি না। মাশুলের সঠিক তথ্য পেলে সঠিক মূল্য নির্ধারণে আমরা ভূমিকা রাখতে পারব বলে আশা রাখি। আশা রাখি অপারেটররা তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করবেন এবং আমরাও আমাদের দায়িত্ব পালন করব।
উপদেষ্টা মহাশয় তার বক্তব্যে দাম-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন—তিনি হাজার টাকার একটি সংখ্যার উদাহরণ দিয়েছেন। মূল বক্তব্যটি আসলে এই ভোক্তাকে যেন অযৌক্তিকভাবে বেশি দাম দিতে না হয়। ভোক্তা যেন কেবল সেই দামটাই দেন, যা দেয়া যুক্তিসংগত ও ন্যায্য। এখানে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আমরা আপনাদের—অর্থাৎ শিল্পপতিদের, আমদানিকারকদের ও বিতরণকারীদের—সহযোগিতায় চেষ্টা করব যেন ভোক্তাবান্ধব একটি মূল্যনীতি পুরোপুরি কার্যকর করা যায়। আমাদের লক্ষ্য একটাই—ভোক্তাকে যেন তার প্রাপ্য দামের বেশি অর্থ দিতে না হয়।
আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই বণিক বার্তাকে আজকের এ অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। এটি সত্যিই একটি চমৎকার আয়োজন হয়েছে। আমি মনে করি, এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিতভাবে হওয়া উচিত—অন্তত বছরে একবার হলেও। কারণ এলপিজি এখন একটি বৃহৎ ও দ্রুতবর্ধনশীল খাতে পরিণত হয়েছে। এ খাতে যেমন বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে, তেমনি বাজারও প্রসারিত হচ্ছে। তাই এ খাতকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া একান্ত প্রয়োজন। এ আয়োজনের জন্য আবারো বণিক বার্তাকে ধন্যবাদ জানাই।
শেষে আমি আকিজ বশির গ্রুপের পক্ষে খোরশেদ আলম সাহেব যে উদ্যোগের কথা বলেছেন, তাতে আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীর আগ্রহ অনুভব করছি। আমি নিজে গিয়ে সেটি পরিদর্শন করতে চাই। কারণ তারা ‘সিনথেটিক ন্যাচারাল গ্যাস’ নামে একটি নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করছেন—যেখানে এলপিজি মিশিয়ে সিনথেটিক গ্যাস তৈরি করা হচ্ছে। এটি ইউরোপ, আমেরিকা ও জাপানের মতো উন্নত দেশগুলোয় এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এ প্রযুক্তির দুটি বিশেষ সুবিধা আছে। প্রথমত, এতে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক কম। দ্বিতীয়ত, এর এলপিজির সংমিশ্রণ—প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ভিন্নভাবে নির্ধারণ হয়, যা ব্যবহারিক দিক থেকে আরো কার্যকর। আমি মনে করি, আমরা যদি এখানেও সেই প্রক্রিয়াটি দেখতে পারি এবং এর সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে পারি, তাহলে দেশের জ্বালানি খাতে এটি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
অবশ্যই এ ধরনের নতুন উদ্যোগ আমাদের এলপিজি ব্যবহারের পরিধি আরো বাড়াবে ও সরবরাহ বাড়লে মূল্য উপাদান বা প্রাইস কম্পোনেন্টও কিছুটা কমে আসবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা ও দেশের অর্থনীতির জন্যই ইতিবাচক হবে।
সব মিলিয়ে এলপিজি এখন কেবল একটি বিকল্প জ্বালানি নয়, এটি বাংলাদেশের জ্বালানিনিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের একটি অপরিহার্য উপাদান হয়ে উঠছে।
জালাল আহমেদ: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন
[‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে]










