এটি কেবল অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দেয় না, বরং বৈশ্বিক ব্যবস্থার এক নগ্ন বৈষম্যকে ফুটিয়ে তোলে। ২০২২-২৪ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে পাওয়া নতুন অর্থায়নের চেয়ে ৭৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার বেশি অর্থ ঋণদাতাদের কাছে চলে গেছে। ফলে যে অর্থ শিক্ষক নিয়োগ, ক্লাসরুম তৈরি বা দুপুরের টিফিনের পেছনে ব্যয় হতে পারত, তা ধনী দেশগুলোর বন্ডহোল্ডার ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের পকেটে যাচ্ছে।

যদিও ‘ঋণের বিনিময়ে শিক্ষা’র মতো কিছু আঞ্চলিক উদ্যোগ কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবে তা মূল সংকটের তুলনায় খুবই নগণ্য। একদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাসহায়তা দিন দিন কমছে, অন্যদিকে ঋণের চাপ বাড়তে থাকায় উন্নয়নশীল দেশগুলো উভয় সংকটে পড়েছে। এ কাঠামোগত সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কেবল অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বৃদ্ধি বা কৃচ্ছ্রসাধন যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন সংকটে থাকা দেশগুলোর বৃহদাকারের ঋণ মওকুফ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থায় স্বয়ংক্রিয় কিস্তি স্থগিতের সুযোগ এবং জাতিসংঘের অধীনে একটি নিরপেক্ষ সার্বভৌম ঋণ পুনর্গঠন কাঠামো। কারণ একটি সমাজের ভবিষ্যৎ যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ঋণের কিস্তি আদায়ের নীতি কোনোভাবেই টেকসই হতে পারে না।

ইয়াম কাপুর: অধ্যাপক, ক্রিটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, ফ্যাকাল্টি অব এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড আরবান চেঞ্জ, ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, টরন্টো।

আল জাজিরায় প্রকাশিত নিবন্ধের সংক্ষেপ