ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং বিশ্বব্যাংকের সাবেক সিনিয়র কর্মকর্তা। এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার ৩৫টির বেশি দেশে টেকসই স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং উন্নয়ন উদ্যোগে কাজ করেছেন তিনি। সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভ, সরকার গঠন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম ও আনিকা মাহজাবিন
দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়েছে। নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন বাংলাদেশ গড়তে সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে। কীভাবে সেটি করা হবে?
আমাদের সর্বপ্রথম ঐক্য হলো জনগণের সঙ্গে ঐক্য। জনগণের প্রত্যক্ষ অংশীদারত্বের একটি সরকার ব্যবস্থা আমরা প্রবর্তন করতে চাই। যে ব্যবস্থায় জনগণের বিভিন্ন অংশ যেমন ছাত্র-জনতা, পেশাজীবী, কৃষক, শিল্পের শ্রমিক, যুবক-যুবতী কিংবা প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী সবার অংশীদারত্ব থাকবে। এছাড়া চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনেক আগেই বলেছিলেন গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিগুলো বিশেষ করে গত ১৭ বছরের যে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যেসব গণতান্ত্রিক শক্তি যুদ্ধ করেছে তাদের মধ্যে একটা বৃহত্তর ঐক্য আছে। এ বৃহত্তর ঐক্যের ভিত্তিতেই এবারের নির্বাচনটা হলো। এ জোটের জোনায়েদ সাকির গণসংহতি, নুরুল হক নুরের গণঅধিকার পরিষদ এবং আন্দালির রহমান পার্থের বাংলাদেশ জাতীয় পার্ট (বিজেপি) অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে ১১ দলীয় জোট গঠন করে নির্বাচন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এখন বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী জোটে থাকা দলগুলো একত্র হয়ে পার্টনারশিপের ভিত্তিতে আগামীর সরকার গঠিত হবে। সবাইকে নিয়েই সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে। বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
জাতীয় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জামায়াত বা এনসিপিকে যুক্ত করার সম্ভাবনা আছে?
এ ব্যাপারে আমাদের চেয়ারম্যান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করি। তিনি বলেছেন, আমাদের সংসদকে যদি অর্থবহ করতে হয় এবং সংসদীয় যে গণতন্ত্র এটা যদি অর্থবহ করতে হয় তাহলে একটা বিরোধী দল থাকতেই হবে। সেক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী অনেকগুলো আসন পেয়েছে। আমরা মনে করি যে তারা বিরোধী হিসেবেই থাকবে এবং আমরা একসঙ্গেই বাংলাদেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাব।
শিগিগরই কেবিনেট ঘোষণা হতে যাচ্ছে। অন্যান্য সময়ের সঙ্গে এবারের কেবিনেটের পার্থক্য থাকবে এবং মন্ত্রী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেয়া হবে?
‘এফিশিয়েন্সি গেইন’ এবারের কেবিনেট বা সরকারের ব্যবস্থায় মুখ্য বিষয় থাকবে বলে আমার মনে হয়। কোনো একটি মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ দক্ষতা কীভাবে অর্জন করা যায় সেটিই লক্ষ্য। এফিশিয়েন্সি গেইন করার জন্য সরকারি ব্যবস্থাকে আরো বেগবান করতে চাইলে মন্ত্রণালয়গুলোর বিদ্যমান প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। সেক্ষেত্রে এখানে একটা বড় সমস্যা ছিল সেটা হলো আন্তঃমন্ত্রণালয়ের ইনকর্ডিনেশন। বিশেষ করে যে কাজগুলো একজনের সঙ্গে অন্য একজনের খুব নিবিড়ভাবে জড়িত তাদের মধ্যে একটা অসযোগিতা কাজ করছিল এবং কাজের গতি কম ছিল। ফলে এবার আমরা চিন্তাভাবনা করছি কীভাবে ক্লাস্টার করতে পারি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়গুলোকে ক্লাস্টার করে কীভাবে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা আমরা কমিয়ে আনতে পারি।
উদাহরণস্বরূপ এতদিন ধরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজ ছিল মূলত ক্রপ এগ্রিকালচারকে দেখা। কিন্তু লাইফস্টক অ্যান্ড ফিশারিজ সেগুলো ভিন্ন মন্ত্রণালয় ছিল। কিন্তু সবই বৃহৎ অর্থে কৃষির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এবার আমরা চিন্তা করছি এ লাইভস্টক অ্যান্ড ফিশারিজ, ক্রপ এগ্রিকালচার এগুলোকে একসঙ্গে মিলিয়ে আমরা একটা মন্ত্রণালয় করতে পারি কিনা। যেখানে একজন মন্ত্রী থাকবেন। সেই মন্ত্রীর অধীনে হয়তো একাধিক প্রতিমন্ত্রী থাকবেন, একাধিক সচিব থাকবেন। তার পরেও যেহেতু একটা কাঠামোর ভেতরে সবাই থাকবেন কো-অর্ডিনেশন বৃদ্ধি পাবে, যা কাজের গতি বাড়বে এবং এফিশিয়েন্সিটা গেইন হবে। অনুরূপভাবে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং তাদের খুব সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। কিন্তু যেহেতু দুইটা ভিন্ন মন্ত্রণালয়, তাই তাদের কাজের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না। এ কারণে সক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছিল। এ প্রেক্ষাপটে আমরা চিন্তা করছি যে কীভাবে এ দুটোকে আমরা একটা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়ে আসতে পারি।
আবার শিক্ষা খাতের দিকে তাকালেও একই ধরনের বিভাজন চোখে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষা এক মন্ত্রণালয়ের অধীনে, আবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা আলাদা মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। অথচ সবই শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ। যদি প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা—সবকিছুকে একটি বড় শিক্ষা কাঠামোর আওতায় আনা যায়, তাহলে নীতিনির্ধারণ সহজ হবে, প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়বে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইনকনসিসটেন্সি বা দ্বন্দ্ব কমিয়ে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা।
সব মন্ত্রণালয় ঘিরে কি এ ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?
বর্তমানে দেশে ৪০টির বেশি মন্ত্রণালয় রয়েছে। এ সংখ্যা কার্যকর প্রশাসনের জন্য অনেক বেশি কিনা—সে প্রশ্ন নতুন নয়। এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিনিয়র নেতৃত্ব ও দলীয় সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সময়মতো এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা আসবে। তবে ক্লাস্টারিং পদ্ধতিতে কাজগুলো পুনর্গঠিত করা গেলে মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমিয়ে ২৫-৩০-এর মধ্যে আনা সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই ধরনের কাজ করা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে একটি ছাতার নিচে আনার মধ্য দিয়েই এ কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পাওয়ার হাউজ’ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে কিনা?
এতদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ই ছিল প্রায় একমাত্র ‘পাওয়ার হাউজ’। নতুন কাঠামোয় সেই ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্লাস্টারের কাছে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসতে হবে না; সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার নিজ নিজ ক্ষেত্রের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। এতে প্রশাসনিক চাপ কমবে এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে আরো দ্রুত।
একটা ভালো কেবিনেট গঠনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?
একটি ভালো কেবিনেট গঠন করা জরুরি, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক মানুষকে সঠিক জায়গায় বসানো। মন্ত্রীরাই একমাত্র সরকার পরিচালনা করেন না; দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার মূল ভরকেন্দ্র হলো আমলাতন্ত্র। বাংলাদেশে একটি সুসংগঠিত ব্যুরোক্রেটিক কাঠামো রয়েছে, কিন্তু সব কর্মকর্তা সব খাত সমানভাবে বোঝেন—এমনটা নয়। কেউ স্বাস্থ্য খাত বোঝেন ভালো, কেউ যোগাযোগ, কেউবা জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাত। সুতরাং চ্যালেঞ্জ হলো মেধা, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কর্মকর্তাদের যথাযথ জায়গায় নিয়োগ দেয়া। এ ম্যাচিং ঠিকভাবে না হলে কাঠামো যত ভালোই হোক, প্রত্যাশিত ফল আসবে না। শেষ পর্যন্ত সরকার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে এ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর। সঠিক মানুষ, সঠিক দায়িত্বে—এ নীতিই প্রশাসনিক সংস্কারের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত।
অন্তর্বর্তী সরকার মেয়াদের শেষ দিকে নবম পে-স্কেলসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করে গেছে। অনেকেই বলছেন, এতে নতুন সরকারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হবে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
সুপারিশ করার অধিকার যেকোনো সরকারেরই আছে। সেদিক থেকে দেখলে অন্তর্বর্তী সরকারও তাদের মতামত দিতে পারে। তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় মেয়াদের একেবারে শেষ সময়ে এসে এত বড় আর্থিক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন সুপারিশ না করলেও পারত। কারণ এ ধরনের সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি দায়ভার পরবর্তী সরকারকেই বহন করতে হয়। বর্তমানে যেহেতু একটি কার্যকর ও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সংসদ গঠিত হয়েছে, আমি মনে করি এসব বিষয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেয়া উচিত। সংসদে এ নিয়ে আলোচনা, বিতর্ক ও বিশ্লেষণ হোক। দেশের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব পরিস্থিতি ও সামষ্টিক অর্থনীতির বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন। আমার বিশ্বাস, সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যে সিদ্ধান্ত আসবে, সেটিই হবে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও টেকসই।
বিএনপির ইশতাহারে ফ্যামিলি কার্ড হেল্থ কার্ড ও কৃষি কার্ডের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে?
আমরা আটটা খাতের জন্য পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছি। দেশী-বিদেশীদের মধ্যে যারা দক্ষ তাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ আট বিষয়ে পরিকল্পনা করেছি। স্বাস্থ্য খাতে আমাদের টিম সদস্য বিশজন। এ সদস্যদের মধ্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, পুষ্টিবিদ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ, স্বাস্থ্য যোগাযোগবিদরাও আছেন। ডায়াগনস্টিক ও ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা আছে এমন মানুষও আছেন। পুরো দলটি আট মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কাজ করেছে। আমরা স্বাস্থ্য খাতের ওপর ১৪টা প্রস্তাবও তৈরি করেছি। এসব প্রস্তাবনায় কৌশলগত ও আর্থিক দিক দুটোই আছে। অর্থের উৎস কেমন হবে, রাজস্ব কেমন লাগবে, আমাদের যারা দাতা আছে তাদের কাছ থেকে কী পরিমাণ অর্থ আদায় করা হবে, বেসরকারি সেক্টরের সঙ্গে আমাদের কেমন চুক্তি হবে—সব বিষয়ই বিস্তারিতভাবে উল্লেখ আছে। কারা কীভাবে এ কাজ করবেন তাও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় বসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা এ কাজগুলো বাস্তবায়ন শুরু করব। আমি তো স্বাস্থ্য খাতের বিষয়টা বললাম। অন্য খাতগুলোর ক্ষেত্রেও পরিকল্পনা একই। আমাদের প্রথম ছয় মাস ও আগামী এক বছর নিয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে। মূলত আমরা চেষ্টা করব প্রথম তিন বছরের মধ্যে পুরো পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে। যাতে দেশের মানুষ প্রথম পাঁচ বছরের মধ্যে এর সুফল পায়।
নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা থাকে অনেক, তারা দ্রুত দৃশ্যমান কিছু দেখতে চায়। আপনি বললেন ছয় মাস, এক বছর এবং তিন বছর মেয়াদে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে অগ্রাধিকারগুলো কী।
হ্যাঁ, আমরা অগ্রাধিকারের নকশা তৈরি করেছি। যে কাজগুলো অল্প সময়ের মধ্যে করা যাবে সেগুলো নির্ধারণ করেছি। পুরো দেশ নিয়ে যেসব বড় পরিকল্পনা আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে গেলে পাইলট করতে হবে। কিছু কিছু পাইলট আমরা ১০০ দিনের মধ্যে করে ফেলব। কিছু করতে হয়তো ১৮০ দিনও লাগতে পারে। আমরা যাই করি না কেন, কাজের গতি ধরে রাখতে হবে। আমাদের যে জটিল আমলাতান্ত্রিক কাঠামো আছে এর ভেতর কীভাবে কাজের গতি বাড়ানো যায় সেদিকে নজর রাখতে হবে।
বিগত ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে দেখা গেছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত কিছু অলিগার্কের অধীন হয়ে গিয়েছিল, বিশেষত স্বাস্থ্য ও অর্থনীতি। বিএনপি কীভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে?
ক্ষমতায় থাকার সময় যারা শেখ হাসিনার কাছের লোক আর তার পরিবারের লোকেরা মিলেই অলিগার্ক গোষ্ঠী গঠন করে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক তার নির্বাচনী বক্তব্যে বলেছেন, তিনি ক্ষমতায় এলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরবেন। কিন্তু সেটা তো রাতারাতি সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের সর্বোচ্চ প্রত্যয় জরুরি। এসব আপনারা তারেক রহমানের বক্তব্যে শুনেছেন। তিনি আরো বলেছেন, আমাদের আইনের শাসন নিশ্চিত করতেই হবে। এক্ষেত্রে যে দল, ধর্ম ও জাতিরই হোক না কেন, সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এটা করতে পারলে অলিগার্ক গোষ্ঠীর প্রভাব এমনিতেই কমে যাবে। আমরাও পুরনো কাঠামো থেকে বেরিয়ে আসব।
আপনি স্বাস্থ্য খাতের বিষয়ে বলেছেন। আমাদের ওষুধ শিল্প বিগত বহু বছর ধরে পাঁচ-ছয় বিলিয়নের মধ্যে ওঠানামা করছে। এ খাত নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা কী?
আমরা এরই মধ্যে ওষুধ প্রস্তুতকারক সমিতির সঙ্গে দুবার আলোচনায় বসেছি। তাদের পলিসি বটলনেক নিয়েও আলাপ করেছি। টেকনিক্যাল বটলনেক নিয়ে আলাপ করেছি। যেমন ওষুধের কাঁচামাল তৈরির কাজটি আমাদের দেশে বহু আগেই করার দরকার ছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের অবহেলার কারণে তা হয়ে ওঠেনি। এক্ষেত্রে আমাদের গবেষণা ও উন্নয়নের চর্চাও গড়ে ওঠেনি। আমাদের ট্যারিফের অনেক সমস্যা আছে। ফলে কাঁচামাল উৎপাদনের কাজটা গড়ে উঠছে না। এসব সমস্যা কীভাবে দূর করে কাঁচামাল উৎপাদন করা যায় তা নিয়ে আমরা ভাবছি। বিদেশে বাজার তৈরির জন্য আমাদের কূটনৈতিকভাবে আরো অগ্রসর হতে হবে। আফ্রিকা আমাদের একটা বড় বাজার। আমাদের সেনারা শান্তি মিশনের জন্য আফ্রিকায় যায়। ওই সময় আমরা যদি কূটনীতিক অর্থনীতিতে আগাতে পারি তাহলে বাজারটা আরো সমৃদ্ধ হবে। আমাদের শুধু পণ্যের বৈচিত্র্যে গুরুত্ব দিলেই হবে না, ভূপ্রাকৃতিক বৈচিত্র্যেও গুরুত্ব দিতে হবে।
দেশের চিকিৎসা ব্যয়ের বড় একটি অংশ বিদেশে চলে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে চিকিৎসা খাতকে কীভাবে গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করেন?
আমাদের স্বাস্থ্য কাঠামো ভেঙে পড়ার বড় কারণ হলো এ খাতের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব বেড়ে গেছে এবং এক ধরনের অবিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাই দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবর্গের অনেকেই এখন পাশের দেশ ভারতে চিকিৎসা নিতে যান। ফলে চিকিৎসা ব্যয়ের ছয় থেকে আট বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। এতে আমরা আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এজন্য দেশে স্পেশালাইজড চিকিৎসা পদ্ধতি বাড়াতে হবে। সেবার মান উন্নত করতে হবে। এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে পার্টনারশিপ বাড়াতে চাই। পাশাপাশি একটা সরকারি এনটিটি তৈরি করতে চাই। প্রাইভেট হাসপাতালে যে সেবা দেয়া হচ্ছে তার কোয়ালিটি নির্দিষ্ট সময় পর পর চেক করা হবে। সেজন্য সার্টিফিকেটও দেয়া হবে। এসব সার্টিফিকেটধারীকে নিয়ে বিশেষজ্ঞ টিম তৈরি করা হবে। তাদের দিয়ে সরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে মানুষ দেশেই স্বল্প মূল্যে উন্নত চিকিৎসা পাবে।









