ইংরেজি পাওয়ার মানে শক্তি। এ পাওয়ার মানে আবার বিদ্যুৎ। তাহলে বিদ্যুৎ হচ্ছে শক্তি। শুধু যুক্তিবিদ্যা নয়, সব বিদ্যা মতে এ কথা সত্য যে সভ্যতার এ মাইলফলকে সব শক্তির মূলে বিদ্যুৎ। এ কথার ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে না। বিদ্যুৎ ছাড়া ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা বিশ্ব কিছুতেই চলতে পার না। আমরা কি কল্পনা করতে পারি সারা দেশে একদিন কোনো ধরনের বিদ্যুৎ না থাকলে কী অবস্থা হবে বা হতে পারে। বিদ্যুৎ এগিয়ে নিয়ে যায়, বয়ে নিয়ে যায় প্রগতি সভ্যতা। অনেকে বলেন, আগামীর বিশ্বে ক্ষমতার, উন্নতির, প্রভুত্বের নিয়ামক হবে নিরাপদ পানি আর আধুনিক ও মানসম্মত জ্বালানি বা বিদ্যুৎ।

ঘোষণা দেয়া হয়েছে, সারা দেশ বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত অর্থাৎ প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় বিদ্যুতের উপস্থিতি বিরাজমান। কিন্তু এসডিজি-৭-এ বর্ণিত সবার জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি সহজলভ্য করা থেকে আমরা কত দূরে তা বোধহয় নতুন করে উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে না। সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে বিবৃত আছে যে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হবে নাগরিকদের জন্য অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিদ্যুৎ মৌলিক উপকরণের অন্যতম একটি।

আমাদের জ্বালানি কী সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য অর্থাৎ গ্যারান্টি আছে যে পাওয়ার ফেইলুর বা লোডশেডিং হবে না মানে স্থান-কাল-পাত্রভেদে জনগণের প্রয়োজন মাফিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার নিশ্চয়তা কি আছে? গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সহনীয় বা যুক্তিসংগত রাখা হবে সে নিশ্চয়তা কি বিদ্যুৎ বিভাগ কিংবা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দিতে পারছে বা পারবে? নিশ্চয়তা দেয়া যাবে কি আমাদের বর্তমান যে উৎপাদন ক্ষমতা বা উৎপাদন তা বাধাপ্রাপ্ত হবে না, নিরবচ্ছিন্ন থাকবে, কোনো ঝুঁকির সম্ভাবনা নেই? মাথাপিছু বিদ্যুৎ প্রাপ্যতা বা মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ হ্রাস পাবে না—এ নিশ্চয়তা কি দেয়া যাবে? কিংবা স্থান-কাল-পাত্রভেদে প্রয়োজন মাফিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার নিশ্চয়তা কি আছে জনগণের? এগুলোর নিশ্চয়তা যদি না থাকে তাহলে সারা দেশ কেবল বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত করে বাস্তবিক পক্ষে কী লাভ? উপরোক্ত নিশ্চয়তা বিধান করতে না পারলে আদৌ শতভাগ বিদ্যুতায়িত দেশ বলা যাবে কি?

বর্তমান অবস্থা: দেশে বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কমবেশি ৩১ হাজার মেগাওয়াট (মে), আর চাহিদা প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। চাহিদা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এবং তা বাড়বেই। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার, জিডিপির আকার বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনধারণের মান বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ২০০০ সালের বিদ্যুৎ চাহিদা থেকে ২০২০ সালে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এ সময়ে আমাদের শিল্প খাতে চাহিদা সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫ দশমিক ২৭ শতাংশ আর আবাসিক খাতে সর্বনিম্ন ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়েছে, যদিও আবাসিক খাতে সামগ্রিক হিসেবে চাহিদা বেশি। কিন্তু একটি প্রশ্ন সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে যে চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ উৎপাদন ক্ষমতা থাকার পরও কেন লোডশেডিং, কেন ভোল্টেজ ওঠানামা? এর কারণ হিসেবে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র বলছে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের একটি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এক হাজার মে উৎপাদন কমে যাওয়া, বিল বকেয়া থাকায় আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৫০০ মে কম সরবরাহ, বেসরকারি খাতের তেলচালিত কেন্দ্র থেকেও কম বিদ্যুৎ পাওয়া ইত্যাদি। তাই ঘাটতি পূরণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এ বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেও আমরা উচ্চবিত্ত আর উচ্চ মধ্যবিত্তদের আরাম-আয়েসের সুযোগ দেয়ার জন্য যানবাহনে সিএনজি ব্যবহার অবারিত করে রেখেছি, একই পরিবারে একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে শহরগুলো স্থবির-অচল করে ফেলেছি।

অন্যদিকে জ্বালানির ঘাটতি এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র অলস বসে আছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এবং ৪ হাজার ৯৭১ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র জ্বালানি ঘাটতির জন্য বসে আছে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী ৪ হাজার ৯৭১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে শুধু গ্যাসের অভাবে ৩ হাজার ১৫২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র অলস বসে আছে। তাহলে এত উৎপাদন ক্ষমতা থেকে কী লাভ হলো?

বিদ্যুৎমূল্য: দেড় দশক আগে প্রতি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ছিল গড়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা, এখন সেটি বেড়ে হয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ টাকা। দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৩ টাকা ৭৬ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। এর পরও প্রতি বছর সরকারি ভর্তুকি বরাদ্দের ওপর চাপ বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটেও ৪০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা আছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে কমে আসছে। আগে ৯০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যেত গ্যাস ব্যবহার করে। এখন পাওয়া যাচ্ছে ৫০ শতাংশেরও কম। এখন বাড়ছে কয়লা (১৯ শতাংশ) আর তরল জ্বালানি (১৩ শতাংশ)। আর এ দুই আমদানিনির্ভর বিধায় একদিকে উৎপাদন খরচ বাড়ছে অন্যদিকে পরনির্ভশীলতার কারণে বাড়ছে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা। কুইক রেন্টালের ক্যাপাসিটি চার্জ ২০০৮ সালের আড়াই হাজার কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বিদ্যুতের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ভিন্নতা তথা জ্বালানি মিক্স পুনর্বিবেচনার বিকল্প নেই।

অগ্রাধিকার বিবেচনা: পরিবেশগত, ব্যয়সাশ্রয় এবং স্বনির্ভরতার বিবেচনায় টেকসই জ্বালানি তথা নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন বিশ্ব মানচিত্রে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলবেনিয়া, ভুটান, নেপাল, প্যারাগুয়ে, আইসল্যান্ড, ইথিওপিয়া ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্র—এ সাত দেশ তাদের ব্যবহৃত প্রায় শতভাগ (৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ) বিদ্যুৎই নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস থেকে উৎপাদন করেছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) ও ইন্টারন্যাশনাল রিনিউয়েবল এনার্জি এজেন্সির (আইআরইএনএ) তথ্যানুসারে, ২০২১ ও ২০২২ সালে আরো ৪০টি দেশ তাদের ব্যবহৃত বিদ্যুতের অন্তত ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তির প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন করেছে। এর মধ্যে ইউরোপের দেশ আচ্ছে ১১টি। ২০২২ সালে যুক্তরাজ্য তাদের মোট বিদ্যুতের ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন করেছে।

পরিমাণ হিসেবে সবচেয়ে বেশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহৃত হয় চীনে, প্রায় ১ দশমিক ২৯ হাজার ৭০০ জিডব্লিউএইচ, যা বিশ্বে ব্যবহৃত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ৩১ শতাংশ (এবং চীনেরও মোট জ্বালানির ৩০ শতাংশ)। এরপর যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, জার্মানি, জাপান। গবেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, আগামীর দশকগুলোয় সৌরশক্তি বৈশ্বিক বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রধান উৎস হয়ে উঠবে। ইউনিভার্সিটি অব এক্সিটার ও ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানীরা গত বছর দাবি করেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে জ্বালানির প্রধান উৎস হয়ে উঠবে সৌরশক্তি। কিন্তু আমাদের দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার একেবারেই নগণ্য, আমাদের আগ্রহ তেমন আছে বলে মনে হয় না। আমাদের দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত এখনো অবহেলিত। বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অফ গ্রিড ও অন গ্রিড মিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার পরিমাণ মাত্র ১ হাজার ৫৫৮ মে যা মোট উৎপাদন ক্ষমতার ৫ শতাংশ।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়: জ্বালানি নিরাপত্তার লক্ষ্যে ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি সংরক্ষণ ও জ্বালানি দক্ষতার মাধ্যমে ২০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব নয়। ব্যবহার কমিয়ে, অপচয় রোধ করে, দক্ষ ও সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুতের সাশ্রয় করার দিকে আরো গুরুত্ব প্রদান করা প্রয়োজন। বিদ্যুতের ব্যবহার কমিয়ে আনাটা মূলত অভ্যাস আর সচেতনতার ফল। এক্ষেত্রে সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি অনেকেই গুরুত্ব দেন না। কারো সামর্থ্য থাকলেই যে তিনি যথেচ্ছ কোনো সম্পদ অপব্যবহার বা অপচয় করতে পারেন না বা করা উচিত নয় সেটা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুনতে অবাক লাগলেও এ কথা সত্য, কয়েক বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের বিদ্যুৎ সাশ্রয় কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে ‘মাইনাস ওয়ান নিউক্লিয়ার প্লান্ট কর্মসূচি’ হাতে নিয়েছিল। অর্থাৎ বিদ্যুৎ ব্যবহার সাশ্রয়ের মাধ্যমে একটি নিউক্লিয়ার কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করবে।

বিদ্যুৎ ব্যবহারে দক্ষতা নিশ্চিতকরণে অর্থাৎ কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বেশি উপযোগ (ইউটিলিটি) বা সন্তুষ্টি পাওয়ার লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জামাদি যেন বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হয় সেদিকে নজর দেয়া জরুরি। বিদ্যুৎসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি একটু ব্যয়বহুল বিধায় এক্ষেত্রে সচেতনতার পাশাপাশি কখনো-বা আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-স্রেডার মতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সবক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জ্বালানি সাশ্রয়ে আইনি সহায়তা ও বাধ্যবাধকতা, জ্বালানি দক্ষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার, এনার্জি স্টার লেবেলিং করা, এনার্জি অডিটর নিয়োগ প্রথা চালু করা, জ্বালানি দক্ষ যন্ত্রপাতি/সরঞ্জামাদি ক্রয়ে আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করা প্রভৃতির মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়ের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি: একদিকে ব্যয়সাশ্রয়ী অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব বিধায় সারা বিশ্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানির তথা সোলার বিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, বায়োমাসসহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ২০২৩ সালের সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনায় ২০৩০ এবং ২০৪১ সালে বাংলাদেশে সোলার, বায়ু, বায়োমাস, জলবিদ্যুৎ মিলে যথাক্রমে ৬ হাজার ১৪৫ ও ১৭ হাজার ৪৭০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা হবে ধারণা করা হয়েছে। কিন্তু সে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না যদি না সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হয়। ঘন জনবসতি বা স্থান স্বল্পতার কারণে কৃষিজমি সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং সে বিবেচনায় নিলে সোলার বিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণ আমাদের দেশে খুব বেশি সুযোগ নেই। কেবল চর অঞ্চল, খাল-বিল ও নদীনালার পানিতে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভবনের ছাদ, সোলার হোম সিস্টেম, সৌর সেচ, সোলার বোটিং, যানবাহন চার্জিং স্টেশন, একই জমিতে শস্য ও বিদ্যুতের মিশ্র প্রকল্প, পাহাড় ইত্যাদি স্থানে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে সোলার বিদ্যুৎ স্থাপনে প্রাথমিকভাবে ব্যয়বহুল হলেও এর জন্য কাঁচামাল প্রয়োজন হয় না এবং আবর্তক/সংরক্ষণ ব্যয় অনেক কম। জলবিদ্যুতের বৃদ্ধির সম্ভাবনা একেবারেই নেই বললেই চলে। বায়ুবিদ্যুৎ, গোবর ও পোলট্রি বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, পৌর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ—এগুলো থেকেও বিদ্যুৎ পাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় জেলাগুলোয় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের জন্য সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সে সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে আশু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। জরুরি চাহিদা মোকাবেলার জন্য সাময়িকভাবে গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমাদের জ্বালানিসম্পদের প্রাপ্যতা, সংগ্রহ ব্যয়, ক্রমবর্ধিষ্ণু চাহিদা, পরিবেশ সংরক্ষণসহ জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে একদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় তথা জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং অন্যদিকে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প নেই।

সিকদার আনোয়ার: কৃষি অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সচিব, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সাবেক চেয়ারম্যান।