বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা গত ১৯ ফেব্রুয়ারি স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলোন মাস্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে ৯০ দিনের মধ্যে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা শুরু করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। স্টারলিংকের ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করার আলোচনা দেশের আপামর জনগণের মধ্যে ব্যাপক আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছিল যে এর মাধ্যমে হয়তো সরকারের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তে এখন থেকে যখন-তখন ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা লোপ পাবে। স্টারলিংক স্যাটেলাইটভিত্তিক সিস্টেমের মাধ্যমে বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা দেয়। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকটকালেও গ্রাহক নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটসেবা পায়। প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিবও ইন্টারনেট বন্ধ রোধে একই প্রত্যাশার প্রতিধ্বনি করেছিলেন।
গত জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান দমন করতে তৎকালীন সরকার সমগ্র দেশব্যাপী টানা পাঁচদিন এবং মোবাইল ইন্টারনেট ১০ দিন উদ্দেশ্যমূলকভাবে বন্ধ রেখেছিল। এছাড়া তৎকালীন সরকার অবৈধভাবে বিভিন্ন সময় কোনো রকম আইনি প্রয়োগ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই অসংখ্যবার ইন্টারনেট বন্ধ বা ধীরগতির করেছে। এমনকি অধিকাংশ সময়ই তারা এসব পরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত বন্ধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তাছাড়া সে সময়কার সরকার টেলিফোনে আড়িপাতা ও ব্যক্তিগত ফোনালাপ জনসমক্ষে প্রকাশ করে নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘনের জন্য চরমভাবে সমালোচিত ছিল।
ফলস্বরূপ জনগণের মধ্যে প্রচলিত ইন্টারনেট পরিষেবার বাইরে একটি বিকল্প, আধুনিক এবং স্থিতিশীল সংযোগের ক্রমবর্ধমান চাহিদা দেখা যায়। জনগণ প্রত্যাশা করেছিল, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ফলে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার অন্তত পুনরায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ না করে আগের সরকারের মতো ব্যক্তি বা স্বীয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আড়িপাতা বা ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সুযোগ রেখে কোনো আইন তৈরি করবে না। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও টেলিযোগাযোগ আইনের খসড়ায় আড়িপাতা এবং স্টারলিংকের ইন্টারনেটসেবার জন্য বিটিআরসি কর্তৃক প্রণীত খসড়া নির্দেশিকায়ও বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি উল্লেখ ছাড়াই ইন্টারনেটসেবা বন্ধের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের ফলে ইন্টারনেটে সর্বজনীন প্রবেশাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হয়; যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের স্বীকৃত দলিলানুসারে নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য মানবাধিকার ব্যাপকভাবে ব্যাহত করে। রাজনৈতিক দল, আন্দোলনকারী বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিক্ষোভ আয়োজন, তাদের বক্তব্য প্রচার, সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার উন্মোচন এবং সরকারকে জবাবদিহি করার জন্য যথোপযুক্ত ইন্টারনেটে নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশগম্যতা অপরিহার্য।
সে কারণে ২০১৬ সালে জাতিসংঘ ইন্টারনেটে প্রবেশগম্যতাকে একটি মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল ২০২১ সালে ইন্টারনেটে মানবাধিকারের প্রচার, সুরক্ষা ও উপভোগ শীর্ষক একটি অ-বাধ্যতামূলক প্রস্তাব গ্রহণ করে। ৪২টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশও তখন এ প্রস্তাবের পক্ষে জাতিসংঘে ভোট দিয়েছিল। মানবাধিকার পরিষদ সব রাষ্ট্রকে জাতিসংঘের ১৯৬৬ সালের আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের ১৯ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এবং অবাধ তথ্যপ্রবাহের ধারণার ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা থেকে বিরত থাকা এবং বিদ্যমান বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানায়। যার মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেট বন্ধ এবং অনলাইন সেন্সরশিপের ব্যবহার, অনলাইন তথ্যের প্রবেশগম্যতা বা প্রচারকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করা, প্রকাশনা বা অন্যান্য মিডিয়া নিষিদ্ধ বা বন্ধ করা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার অপব্যবহার, অপরাধীকরণ এবং সেন্সরশিপ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেডিও, টেলিভিশন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা।
তা সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন রাষ্ট্র প্রায়ই ভিন্নমত ও বিক্ষোভ দমাতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় এবং জনস্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং জনশৃঙ্খলার অজুহাতে এ ধরনের অবৈধ পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দেয়ার চেষ্টা করে। ইন্টারনেট ব্যবহারে বাধা ভিন্নমত দমন ও বিক্ষোভ দমনে দেশে দেশে কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে কিছু দেশে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কীভাবে নেয়া হবে এবং কোন কর্তৃপক্ষ, কখন, কেন ও কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে এসব আদেশ দিতে পারবে তা নিয়ে নির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট ও কাঠামোবদ্ধ আইন রয়েছে।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, মানবাধিকারের ওপর ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগের মাধ্যমে নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপ এবং নজরদারি, তথ্য খোঁজা, গ্রহণ ও প্রচারে মানবাধিকারের ওপর ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। তবে ইন্টারনেট সরাসরি বন্ধ করা ছাড়াও নানাভাবে ইন্টারনেটসেবা প্রাপ্তিতে বাধা তৈরি করা যেতে পারে; যেমন—ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ওপর বিধিনিষেধ, ইচ্ছাকৃত গতি কমানো, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে বঞ্চিত রাখা, মোবাইল ইন্টারনেট টুজি ট্রান্সফার গতিতে সীমাবদ্ধ করা, আধেয় (কনটেন্ট) নিয়ন্ত্রণ বা অপসারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি।
তাই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তথ্য নিয়ন্ত্রণের উপায় হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ করাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আংশিক বা সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে জনগণের তথ্যের অবাধ প্রবাহে প্রবেশগম্যতা সীমাবদ্ধ করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনানুসারে তথ্যপ্রাপ্তি ও প্রচার ব্যবস্থার ওপর যেকোনো বিধিনিষেধ আরোপ করতে হলে তিন পর্বের আইনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। অর্থাৎ সে বিধিনিষেধ আইনগত, বৈধ ও আনুপাতিক হতে হবে এবং যে রাষ্ট্র নাগরিকদের অধিকার সীমিত করার চেষ্টা করবে, সে রাষ্ট্রকেই ওই তিন স্তরের পরীক্ষা যথাযথভাবে প্রমাণ করার দায়িত্ব নিতে হবে।
ওই নীতি অনুসারে সরকারের যেকোনো বিধিনিষেধ আইন দ্বারা নির্ধারিত হতে হবে। তবে এ উদ্দেশ্যে শুধু আইন থাকলেই হবে না। আইনে এ-সংক্রান্ত বিধান সুনির্দিষ্টভাবে থাকতে হবে। অর্থাৎ কে, কখন, কীভাবে, কেন বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে তা স্পষ্ট থাকতে হবে এবং জনগণকে জানাতে হবে।
উপরন্তু আইনে এ ধরনের বিধিনিষেধের পরিধির ওপর কঠোর তদারকি বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হবে এবং এর যেকোনো অপব্যবহার রোধ করার জন্য বিচারিক প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি আইনে অবশ্যই সরকারি সংস্থাকে প্রদত্ত ক্ষমতার পরিমাণ এবং তা কার্যকর করার পদ্ধতি স্পষ্ট ও নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সুতরাং, খসড়া টেলিযোগাযোগ আইন ও স্টারলিংকসংক্রান্ত প্রস্তাবিত নির্দেশিকায় আবশ্যিকভাবে উপর্যুক্ত আইনি মানদণ্ডগুলো পূরণ করতে হবে।
তিন পর্বের পরীক্ষার দ্বিতীয় পর্ব বৈধতার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সুরক্ষিত অন্যান্য অধিকারের ওপর যেকোনো সীমাবদ্ধতা কী লক্ষ্যে আরোপ করা হচ্ছে তা অবশ্যই স্পষ্টরূপে চিহ্নিত থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারকে আরো প্রমাণ করতে হবে কেন ওই যুক্তিসংগত লক্ষ্য অর্জন করার জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করা অপরিহার্য।
সাধারণত কোনো রাষ্ট্র যখন আংশিক বা সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয়, তখন তাদের কর্মকাণ্ডের আইনি ভিত্তি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নড়বড়ে থাকে। ইন্টারনেট বন্ধের ওপর জাতিসংঘের মানবাধিকারসংক্রান্ত হাইকমিশনের ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনানুসারে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিশ্বের ৫৫টি দেশের ২২৮টি ঘটনার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট বন্ধের আনুষ্ঠানিক কারণ অজ্ঞাত।
তিন স্তর পরীক্ষার তৃতীয় উপাদান আনুপাতিকতার মানদণ্ড অনুসারে যেকোনো বিধিনিষেধকে সর্বনিম্ন হস্তক্ষেপমূলক বিকল্প হতে হবে এবং এর ফলে নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না। বিধিনিষেধের কার্যকারিতা এবং এর মাধ্যমে সংঘটিত ক্ষতির একটি যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। এ মূল্যায়নের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে ওই বিধিনিষেধের ফলে ইন্টারনেট বা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুতে অ্যাকসেসে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল কিনা এবং এটি দ্বিতীয় উপাদানে বর্ণিত আইনি লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বনিম্ন বিধিনিষেধমূলক পদ্ধতি ছিল কিনা।
মানবাধিকারের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ব্যাপক হওয়ার কারণে ইন্টারনেট বন্ধ করা সাধারণত আনুপাতিকতার এসব মানদণ্ড পূরণ করতে পারে না। সময় ও ভৌগোলিক সীমা যা-ই হোক না কেন, ইন্টারনেট বন্ধের ফলাফল সাধারণত মাত্রাতিরিক্ত হয়। কেননা ইন্টারনেট বন্ধ কেবল মতপ্রকাশের অধিকারকে কমায় না; বরং অন্যান্য মৌলিক অধিকারকেও বাধাগ্রাস্ত করে। কারণ ইন্টারনেট এখন নাগরিকদের বহুবিধ প্রয়োজনীয় কাজ, উপার্জন ও সেবা পাওয়ার অধিকারের ওপর বিস্তর প্রভাব ফেলেছে।
তাছাড়া বিটিআরসির খসড়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্টারলিংক ও অন্যান্য এনজিএসও (নন-জিওস্টেশনারি অরবিট) সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইআইজি) সঙ্গে সংযুক্ত স্থানীয় গেটওয়ের মাধ্যমে সমস্ত স্যাটেলাইট ডাটা স্থানান্তর করতে হবে। যদিও স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের প্রধান সুবিধা হলো স্থানীয় গেটওয়ের মাধ্যমে ডাটা স্থানান্তরিত না হওয়া। ফলে সরকারের নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকিও এ ব্যবস্থায় কমে আসে। তাই খসড়া নির্দেশিকানুসারে জাতীয় অবকাঠামোয় একে অন্তর্ভুক্ত করলে তা এর ভিন্ন সত্তা ও স্বায়ত্তশাসনকে দুর্বল করবে এবং সরকারের অন্যায্য নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা দৃঢ় করবে।
অধিকন্তু এ নিয়মানুসারে সরকার কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে এমনকি স্যাটেলাইট গ্রাহকদের ইন্টারনেটও বন্ধ করে দেয়া যাবে; যেমনটি আগের সরকার করত। আবার খসড়া নির্দেশিকায় লাইসেন্সধারীকে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনটিএমসি) ও বিটিআরসিকে নজরদারি সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে। সুতরাং সরকারের এসব বিধান পরিবর্তন করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত এবং সরকারি হস্তক্ষেপ ও নজরদারি সীমিত করা উচিত।
জাতিসংঘ কর্তৃক অবাধ ইন্টারনেট পাওয়া মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার পরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে তা আমাদের সরকারি কর্তৃপক্ষের আচরণ ও মনোজগতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। তবে ২০২৪-এর শিক্ষার্থী-জনতার আত্মত্যাগের পর বর্তমান সরকারের ইন্টারনেট বন্ধের বিধানসংবলিত খসড়া আইন জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করে উপরিউক্ত মানদণ্ডগুলো নিশ্চিত করে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের পথ রোধ করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ইন্টারনেটে অবাধ প্রবেশগম্যতা সুরক্ষিত করতে এবং অন্যান্য নাগরিক অধিকার সমুন্নত রাখতে কার্যকর, বাস্তবসম্মত ও জনবান্ধব উপায় অবলম্বন করা উচিত। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থারও সেকেলে নিয়ন্ত্রণমূলক মনোভাব নিরোধ করে দেশের মানুষের জন্য একটি স্মার্ট, কল্যাণকর ও ভবিষ্যৎমুখী উদ্যোগ নেয়া উচিত। সেই সঙ্গে নতুন উদ্ভাবনকে বাধাগ্রস্ত না করে বরং আলিঙ্গনের মাধ্যমে জনকল্যাণ নিশ্চিত ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে হবে।
রাইসুল সৌরভ: আয়ারল্যান্ডের গলওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে লিগ্যাল অ্যানালাইটিকস বিষয়ক পিএইচডি গবেষক; গলওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্টস ইউনিয়নের নির্বাচিত জাতিগত সংখ্যালঘু কর্মকর্তা










