এ প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তারা রাজনৈতিকীকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্বল সমন্বয়, অর্থনৈতিক খাতে হস্তক্ষেপ (যেমন ব্যাংক খাতে) এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাবসহ নানা সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ২০০৪ সালে সন্ত্রাস ও ক্রমবর্ধমান অপরাধ মোকাবেলায় দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী হিসেবে গঠিত হয়। র‍্যাব হলো পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইব্রিড বাহিনী। অপরাধ দমন ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানে উচ্চপর্যায়ের সফলতার মাধ্যমে এটি দ্রুত পরিচিতি লাভ করে। তবে শুরুতে জনসমর্থন থাকলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, তথাকথিত ক্রসফায়ার, জোরপূর্বক গুম এবং নির্যাতনের অভিযোগের কারণে র‍্যাব আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত হয়ে ওঠে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব ঘটনা রাজনৈতিক বিরোধী বা সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে সাজানো হয়। একইভাবে ডিজিএফআই তার প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা ভূমিকা ছাড়িয়ে দেশীয় রাজনীতি, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং গুমসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে এবং এনটিএমসি নজরদারি কার্যক্রমও কার্যত অনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হয়েছে।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে রাজনৈতিক খবরদারি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দীর্ঘকাল ধরে সমালোচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর, এ সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রম পুনর্গঠনের জন্য প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে। রাজনৈতিক নজরদারি এবং গোপনে আটকের ইতিহাসের অবসান ঘটানোর আকাঙ্ক্ষা থেকেই সংস্কারের দাবি জোরদার হয়েছে।

জাতিসংঘও র‍্যাবের বর্তমান কাঠামো বিলুপ্ত করার এবং ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাব এবং এর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সংস্থাগুলোর সাফল্যের ইতিহাসও রয়েছে। তাদের সদস্যরা সুপ্রশিক্ষিত এবং অভিজ্ঞ। যদিও সম্প্রতি সুশীল সমাজের একাংশ এসব সংস্থার বিলুপ্ত করার দাবি তুলেছে। কিন্তু বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিলুপ্ত করা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বরং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সংস্কারই সর্বোত্তম সমাধান, যদিও এ ধরনের প্রচেষ্টা একটি সংবেদনশীল কাজ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ গণতান্ত্রিক জবাবদিহি ফিরিয়ে আনা, রাজনৈতিকীকরণ কমানো এবং বহিঃশত্রুর হুমকি মোকাবেলায় অগ্রাধিকার দেয়ার লক্ষ্যে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংস্কারের দাবিকে আরো জোরদার করেছে।

নিরাপত্তা সংস্থার সংস্কার মানে কেবল নেতৃত্ব, নাম বা পোশাক পরিবর্তন করা নয়। ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি র‍্যাবের নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। এ পরিবর্তনটি ছিল মূলত ‘‌র‍্যাব’ নামের সঙ্গে যুক্ত নেতিবাচক জনধারণা এড়ানোর উদ্দেশ্যে। এমনকি শীর্ষস্থানীয় কর্মীদের পরিবর্তনও কোনো সমাধান নয়। আমরা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে বিলুপ্ত না করে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক হুমকির দিকে নতুন করে মনোনিবেশ করার পরিকল্পনা করতে পারি। এ লক্ষ্য সামনে রেখে পেশাদারত্ব নিশ্চিত করতে এবং জনমানসে ইতিবাচক ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে।

নেতৃত্ব ও জনবলের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তকরণ: নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নেতৃত্ব ও সদস্যদের ‘‌দলীয় স্বার্থ নয়, জাতীয় স্বার্থে’ কাজ করার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নজরদারি করার ম্যান্ডেট (বা অনানুষ্ঠানিক চর্চা) বাতিল করা উচিত। বিশেষভাবে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে সন্ত্রাসবাদ দমন, বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা, সাইবার হুমকি, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নিরাপত্তা তথ্য এবং জাতীয় প্রতিরক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে।

কার্যপরিধি ও দায়িত্বের বিভাজন: নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের মধ্যে ভূমিকার দ্বৈধতা দূর করতে হবে। ডিজিএফআইকে বিদেশী ও প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা এবং বহিরাগত পাল্টা নিরাপত্তার জন্য প্রাথমিক দায়িত্ব অর্পণ করা উচিত, যেখানে বেসামরিক কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সন্ত্রাসবাদ বা আন্তঃদেশীয় অপরাধের ক্ষেত্রে সহায়তার ভূমিকা সাবধানতার সঙ্গে সীমাবদ্ধ করা উচিত। এনএসআই এবং পুলিশের বিশেষ শাখাগুলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক গোয়েন্দা তথ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

প্রশিক্ষণ ও আদর্শিক পরিবর্তন: সংস্কারের ক্ষেত্রে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও মানবাধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং সাইবার ও সন্ত্রাসবিরোধী দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া উচিত। দৈনন্দিন “পুলিশিং বা রাজনৈতিক প্রয়োগে এর ভূমিকা বাদ দেয়া উচিত। সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্র থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা যেতে পারে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সশস্ত্র বাহিনীর ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের থেকে নিয়োগ নেয়া অব্যাহত রাখতে পারে, বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা কার্যকৌশল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে এবং পেশাদার বেসামরিক বিশ্লেষকদের একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলতে পারে। বিশেষভাবে গোপন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে পুনঃপ্রশিক্ষণ ও আদর্শগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে এমন একটি কাঠামোয় রূপান্তর করা প্রয়োজন, যেখানে তাদের মনোযোগ একান্তভাবে জাতীয় নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং উচ্চপর্যায়ের সংগঠিত অপরাধ মোকাবেলায় কেন্দ্রীভূত থাকবে। এ প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান ‘আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক)’ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কর্মকর্তাদের জন্য স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স প্রণয়ন করতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা নৈতিকতা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান করা হবে।

নিরাপদ টাস্কিং সিস্টেমে কার্যক্রম নথিভুক্তকরণ: ঐতিহ্যগতভাবে, নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও নিবেদিতপ্রাণ। দুর্ভাগ্যবশত, তারা প্রায়ই এমনভাবে প্রভাবিত বা মানসিকভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে নির্দেশটি নৈতিকভাবে সঠিক কিনা, তা বিবেচনা না করেই তা পালন করেন। অতএব দলীয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সম্পর্কিত কোনো অনানুষ্ঠানিক বা মৌখিক নির্দেশ প্রদান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা জরুরি এবং সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এমন একটি নিরাপদ টাস্কিং (ডিজিটাল) সিস্টেমে নথিভুক্ত করতে হবে, যা অনুমোদিত তদারকি কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারবে। এছাড়া নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে গোপন নির্দেশনার পরিবর্তে সুস্পষ্ট আইনের আওতায় আনতে হবে যা তাদের কাজের পরিধি ও ক্ষমতা নির্ধারণ করে দেবে। এভাবে গোপন আদেশ বা অনানুষ্ঠানিক প্রথার ওপর নির্ভরতা কমবে এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যাদের কারণে অনেকে পূর্বে অন্যায়ভাবে বলির পাঁঠা হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছে।

অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার: অত্যাধুনিক স্পাইওয়্যার বা নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) একটি জাতীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা সংস্থা, যা তথ্য ও যোগাযোগ-সংক্রান্ত ডেটা পর্যবেক্ষণ, সংগ্রহ এবং সংরক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত। তবে এনটিএমসি যাতে রাজনৈতিক কর্মী ও বিরোধী নেতাদের ডিজিটাল যোগাযোগ নজরদারিতে এটি ব্যবহার না করে তা নিশ্চিত করতে হবে। আইনি অনুমতি ছাড়া ফোন কল বা সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাক করা কঠোর শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে হবে। তবে উন্নত স্পাইওয়্যার প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ডিজিটাল যোগাযোগ—দেশের ভেতরে ও বাইরে নজরদারির আওতায় আনা যেতে পারে, যদি তা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে এবং আইনি কাঠামোর ভেতরে পরিচালিত হয়।

রাজনৈতিক তথ্য নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা: গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের মাধ্যমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততা তাদের দায়িত্বের অপব্যবহার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর উচিত হবে না মিডিয়া হাউজগুলোতে ফোন করে সংবাদ কাভারেজের নির্দেশ দেয়া বা প্রভাবিত করা। তাছাড়া সাংবাদিকদের ভয় দেখানো, চাপ সৃষ্টি করা বা গণমাধ্যমের বর্ণনাকে নিয়ন্ত্রণ করার যেকোনো প্রচেষ্টা থেকেও সংস্থাগুলোর বিরত থাকা আবশ্যক।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় ব্যবস্থা: বর্তমান নিরাপত্তা কাঠামো বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল যেখানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে প্রায়ই ওভারল্যাপ দেখা যায়। যার জন্য একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয় প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ‘‌জাতীয় নিরাপত্তা সমন্বয় কাউন্সিল’ গঠন করা যেতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এতে কার্যপুনরাবৃত্তি রোধ এবং কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা যাবে। সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, মানব পাচার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুতে যৌথ হুমকি মূল্যায়ন প্রণয়ন করা যেতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় আমরা ইন্দোনেশিয়ার সমন্বয় সংস্কার থেকে শিক্ষা নিতে পারি, যেখানে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা (বিআইএন), সামরিক এবং পুলিশ নিরাপত্তাদের মধ্যে সমন্বয় সংস্কারের মাধ্যমে কাজের পুনরাবৃত্তি কমানো হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ নিরাপত্তা তথ্যের পুনরাবৃত্তি কমাবে এবং নিরাপত্তা অংশীদারত্ব ও তথ্য ভাগাভাগির একটি উন্নত কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থার সংস্কার করতে হবে ধাপে ধাপে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তকরণ, জবাবদিহি, মানবাধিকার, আধুনিকায়ন ও কাঠামোগত সমন্বয়ের ভিত্তিতে। বিগত সরকারগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। বর্তমান সরকার এ ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করবে না বলেই আশা করা যায়। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে ‘‌সরকার রক্ষক’ থেকে ‘‌রাষ্ট্র রক্ষকে’ রূপান্তর করার জন্য আইনি সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ক্ষমতা, কার্যক্ষেত্র ও সীমাবদ্ধতা নির্ধারণে কোনো পূর্ণাঙ্গ আইন নেই, যা জবাবদিহির নিশ্চিত করতে পারে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পেশাগত মানদণ্ড ইউনিট গঠন করে অসদাচরণ তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

চিলি, ইন্দোনেশিয়া ও পোল্যান্ডের মতো দেশগুলো স্বৈরশাসন পতনের পর নিরাপত্তা সংস্কারের মাধ্যমে কাঠামোগত, আইনগত ও তদারকি সংস্কার সফল হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। বাংলাদেশও তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। সঠিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আরো জবাবদিহিমূলক, পেশাদার ও কার্যকর হয়ে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে এবং জনমনে ইতিবাচক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে পারবে।

ড. সাজ্জাদ মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন: সিনিয়র প্রফেসর, কেজ বিজনেস স্কুল, প্রধান, জিওপলিটিকস স্ট্র্যাটেজি ল্যাব (ফ্রান্স)