ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। এছাড়া তিনি ‘অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস বাংলাদেশে’-এর (এএইচআরবি) আহ্বায়ক। নেটওয়ার্ক ফর হেলথ কেয়ার এক্সেলেন্সের (এনএইচই) আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের স্বাস্থ্য বাজেটের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দিদারুল হক

আপনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অর্থনীতির একজন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং অ্যালায়েন্স ফর হেলথ রিফর্মস বাংলাদেশের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের স্বাস্থ্য বাজেট নিয়ে আপনার সামগ্রিক মূল্যায়ন কী? এ বাজেট কতটা আশান্বিত এবং বাস্তবায়নযোগ্য বলে আপনি মনে করেন?

বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট শুধু একটি আর্থিক দলিল নয়, এটি রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার, নীতি-পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখার প্রতিফলন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে (২০২৪-২৫) এ খাতে বরাদ্দ ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছরে ৫০১ কোটি টাকা বেশি। এটি মোট বাজেটের ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, যা চলতি বছরের ৫ দশমিক ২ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি। এ সামান্য বৃদ্ধি কিছুটা স্বস্তির জায়গা তৈরি করলেও দেশের স্বাস্থ্য খাতের বিশাল চাহিদার তুলনায় এটি খুবই অপ্রতুল।

আশাবাদী দিক হচ্ছে, এ বছরের বাজেটে কিছু নতুন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিশেষ বিসিএস এবং দ্রুত নিয়োগের পরিকল্পনা। এছাড়া মেডিকেল এডুকেশন ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে কিছু অব্যাহত প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতা খুবই হতাশাজনক। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা রিভিশনের সময় কেটে নেয়া হয়েছিল এবং বাকি অংশের ৩০-৪০ শতাংশ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রায় অর্ধেক বাজেট অব্যবহৃত থেকে গেছে। এ প্রেক্ষাপটে এবারের প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার বাজেট কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। সাফল্য নির্ভর করছে প্রশাসনিক দক্ষতা, সমন্বয় এবং বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।

এ বাজেটের গঠন ও অগ্রাধিকার নিয়ে আপনার বিশ্লেষণ কী? কোন কোন ক্ষেত্রে জোর দেয়া হয়েছে এবং কোথায় ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন?

বাজেটের গঠন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উন্নয়ন বাজেটের তুলনায় পরিচালন বাজেটে বেশি জোর দেয়া হয়েছে। এটি বর্তমান বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে বোধগম্য। কারণ স্বাস্থ্য খাতে জনবলের ঘাটতি একটি বড় সমস্যা। হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও এমনকি ক্লিনার পর্যন্ত অনেক পদ শূন্য রয়েছে, যা চিকিৎসাসেবার মানকে ব্যাহত করছে। বাজেটে বিশেষ বিসিএস ও জরুরি নিয়োগের মাধ্যমে এ শূন্যতা পূরণের উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হবে, তা দেখার বিষয়।

এছাড়া ক্লাস্টারভিত্তিক নতুন ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম প্রোপোজাল) প্রণয়নের কাজ চলছে, যা মেডিকেল এডুকেশন ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ। রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অব্যাহত প্রকল্পে বরাদ্দ বজায় রাখা হয়েছে, যা স্বাস্থ্য শিক্ষার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে। তবে নতুন প্রকল্প গ্রহণে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য খাতের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আমি মনে করি, নতুন উদ্যোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরো বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন ছিল।

জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো এ বাজেটে কতটা প্রতিফলিত হয়েছে? কোন কোন ক্ষেত্রে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে?

জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন গত মে মাসে তাদের রিপোর্ট পেশ করেছে, যেখানে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ ও মোট বাজেটের ১৫ শতাংশ বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছিল। এছাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বজনীন করার জন্য বড় অংকের বিনিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু বাজেট তৈরির প্রক্রিয়া মার্চ-এপ্রিল থেকে শুরু হয়, আর কমিশনের রিপোর্ট এসেছে মে মাসে। ফলে এ সুপারিশগুলো এবারের বাজেটে পুরোপুরি প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আংশিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ জনবলের ঘাটতি পূরণে কমিশন জোর দিয়েছিল ও এবারের বাজেটে বিশেষ বিসিএস ও দ্রুত নিয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এ নিয়োগগুলোর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সমন্বয়ের ওপর। সামগ্রিকভাবে কমিশনের সুপারিশগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের আরো সময় ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী কী? এগুলো কেন বারবার সমস্যা সৃষ্টি করছে?

স্বাস্থ্য বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর বাস্তবায়ন। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাজেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সক্ষমতার অভাবে ভুগছে। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে:

প্রশাসনিক জটিলতা: স্বাস্থ্য খাতে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং অদক্ষ ব্যবস্থাপনা একটি বড় বাধা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ডিজি হেলথ এবং ফিল্ড লেভেলের প্রশাসনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। সচিবালয়ভিত্তিক প্রশাসনের স্বাস্থ্য খাত সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অভাব এবং ডিজি হেলথ-ভিত্তিক প্রশাসনের প্রশাসনিক দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব এবং ফাইল চালাচালির জটিলতা দেখা দেয়।

ক্রয় নীতির অনমনীয়তা: বর্তমান ক্রয় নীতি স্বাস্থ্য খাতের জন্য উপযোগী নয়। হাজারো ধরনের ওষুধ, যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম কিনতে হয়, কিন্তু সাধারণ ক্রয় নীতি এ জটিলতা মোকাবেলায় ব্যর্থ। এটি সংস্কারের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের জন্য আলাদা ক্রয় নীতি প্রণয়ন করা জরুরি।

জনবলের ঘাটতি: স্বাস্থ্য খাতে শূন্য পদের সংখ্যা বিপুল। চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ক্লিনার পর্যন্ত সব স্তরে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এটি কার্যকর সমাধান নয়। স্থায়ী নিয়োগ এবং পোস্টিং-ট্রান্সফার ব্যবস্থার উন্নতি প্রয়োজন।

অডিট ভীতি: স্বাস্থ্য খাতের ম্যানেজাররা ক্রয়-সংক্রান্ত কাজে জড়াতে ভয় পান, কারণ অডিটে আপত্তি উঠলে তারা সমস্যায় পড়েন। এমনকি সঠিক নিয়ম মেনে কেনাকাটা করলেও অডিটের জটিলতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের ভয়ে অনেকে কিছু না করার পথ বেছে নেন। এর ফলে হাসপাতালগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

অপর্যাপ্ত সমন্বয়: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এটি প্রকল্প অনুমোদন এবং বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি করে।

উন্নয়ন বাজেটের অপব্যবহার: উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ ফেরত যায় কারণ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে সমস্যা, কন্ট্রাক্টর নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্নীতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বৃদ্ধি পায়। প্রকল্প পরিচালকরা প্রায়ই অভিজ্ঞতাহীন এবং স্বল্প মেয়াদের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ফলে একটি প্রকল্পে ধারাবাহিকতা থাকে না।

এ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় আপনি কী ধরনের সমাধান প্রস্তাব করবেন?

স্বাস্থ্য বাজেটের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে আমাদের বেশকিছু জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে:

স্বাস্থ্য খাতের জন্য আলাদা সার্ভিস গঠন: সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশ হেলথ সার্ভিস’ নামে একটি স্বতন্ত্র সার্ভিস গঠন করা যেতে পারে। এটি জুডিশিয়াল সার্ভিসের মতো কাজ করবে, যেখানে স্বাস্থ্য পেশাজীবীরা নিজেরাই এ খাতের সিদ্ধান্ত নেবেন। এতে প্রশাসনিক মিসম্যাচ কমবে।

ম্যানেজারিয়াল দক্ষতা বৃদ্ধি: স্বাস্থ্য খাতে ম্যানেজারিয়াল দক্ষতা বাড়াতে ম্যানেজমেন্ট স্ট্রিম আলাদা করা যেতে পারে। এ স্ট্রিমের কর্মকর্তারা শুরু থেকেই প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ পাবেন।

ক্রয় নীতি সংস্কার: স্বাস্থ্য খাতের জন্য উপযোগী ক্রয় নীতি প্রণয়ন করতে হবে। এছাড়া অডিট প্রক্রিয়াকে আরো নমনীয় ও স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে ম্যানেজাররা অযথা হয়রানির শিকার না হন।

জনবলের ঘাটতি পূরণ: শূন্য পদে স্থায়ী নিয়োগ দিতে হবে। আউটসোর্সিংয়ের পরিবর্তে নিয়মিত নিয়োগ এবং পোস্টিং-ট্রান্সফার ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

সমন্বয় বৃদ্ধি: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে একটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এ কমিটি বাজেট বাস্তবায়নের বাধাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ বাতলে দেবে।

দুর্নীতি প্রতিরোধ: কন্ট্রাক্টর নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব এবং সিন্ডিকেটের প্রভাব কমাতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। অডিটে দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করতে হবে।

প্রকল্প পরিচালক নির্বাচনে দক্ষতা: প্রকল্প পরিচালকদের দীর্ঘমেয়াদি নিয়োগ এবং তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন করতে হবে, যাতে প্রকল্পে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

অডিট পদ্ধতি সংস্কার: অডিট প্রক্রিয়া যেন দক্ষ ম্যানেজারদের হয়রানির কারণ না হয়, সেজন্য স্বাস্থ্য খাতের জন্য উপযোগী অডিট গাইডলাইন প্রণয়ন করতে হবে।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা হিসেবে আপনি কী বলবেন? এই বাজেট কীভাবে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে?

স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। সংস্কার কমিশন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আইনগত অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সুপারিশ করেছে। এ বাজেট যদি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে ক্রমান্বয়ে আমাদের মোট বাজেটের ১৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের দিকে এগোতে হবে, যাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সর্বজনীন হয় এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা সবার কাছে পৌঁছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা বেশি। তারা যদি বাজেটের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে আরো বড় বাজেট দাবি করার যৌক্তিক ভিত্তি তৈরি হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত, স্বাস্থ্য বাজেটের সাফল্যনির্ভর করছে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর। এ বাজেট যেন কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং জনগণের সেবায় পৌঁছে যায়—এটিই আমাদের সবার কামনা। আমি আশা করি, এ বাজেট একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে এবং সুস্থ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা সবাই মিলে সুস্থ জাতি গঠনের জন্য কাজ করে যাব—এ প্রত্যাশা রাখি।