আমি নিজে ব্রাজিল থেকে এসেছি। বর্তমানে বাংলাদেশে মাথাপিছু এলপিজি ব্যবহার বছরে প্রায় ৭ কিলোগ্রাম। ভারতে এর মাথাপিছু ব্যবহার ১৫-১৬ কিলোগ্রাম এবং ব্রাজিলে ৩০ কিলোগ্রাম।
আমি আমাদের প্রতিষ্ঠান ‘ডিইআরটি’তে ২১ বছর কাজ করেছি, যা ‘সুপারগ্যাস ব্রাস’ নামের একটি গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। এ দীর্ঘ সময়ে আমি শিল্পটির ব্যাপক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছি।
‘এসএডিভি এনার্জি’ হলো আমাদের মূল প্রতিষ্ঠান। এর অধীনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা সব এলপিজি কোম্পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আমাদের হোল্ডিং কোম্পানি এসএইচভি পারিবারিক উদ্যোগে গড়ে ওঠা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যার বয়স ১৩০ বছরেরও বেশি। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয়। আমরা এলপিজি ব্যবসায় যুক্ত আছি প্রায় ১৯৫০ বা ১৯৫২ সাল থেকে। অর্থাৎ ৭৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে। বর্তমানে আমরা চারটি মহাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বিশ্বের ২১টি দেশে আমাদের প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ গ্রাহক রয়েছেন। এশিয়ায় আমরা বাংলাদেশ ও ভারতে কার্যক্রম পরিচালনা করছি। এছাড়া আমাদের কার্যক্রম রয়েছে ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও আমেরিকার অন্যান্য দেশে।
এখন আমরা অন্যান্য দেশেও নতুন নতুন সুযোগ খুঁজে দেখছি। আমরা কাজ করার ক্ষেত্রে মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিই। এটা শুধু দেয়ালে টাঙানো কোনো স্লোগান নয়—আমরা বাস্তবে তা অনুসরণ করি। সততা, আস্থা, জানার আগ্রহ, অন্তর্ভুক্তি ও উৎসাহ—এ পাঁচ নীতির ভিত্তিতেই আমরা কাজ করে থাকি।
আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি হলো ‘আগামী প্রজন্মের জন্য যত্ন নেয়ার সাহস।’ আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনায় সম্পূর্ণভাবে একমত ও সুসংগঠিত। এখানে আমাদের প্রধান পণ্য হলো এলপিজি. যা টেকসই জ্বালানির উৎস।
আমরা বর্তমানে নতুন অণুভিত্তিক জ্বালানিতে বিনিয়োগ করছি, যেমন বায়োএলপিজি। এটি ইউরোপে এরই মধ্যে বাস্তবে প্রয়োগ হচ্ছে। যদিও এখনো ব্যয়বহুল। তবুও আমরা ধীরে ধীরে এটি অন্যান্য দেশেও প্রবর্তন শুরু করছি।
‘পেট্রোম্যাক্স’ কী? আমাদের গ্রুপ তিন বছর আগে পেট্রোম্যাক্স অধিগ্রহণ করে। তারপর থেকে আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছি। আমাদের কাজের মূল ভিত্তি হলো নিরাপত্তা ও আইনকানুন মেনে চলা। এখানে যেহেতু সরকারি কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত আছেন, তাই বলা প্রয়োজন যে এলপিজির ব্যবহার যেভাবে ক্রমেই বাড়ছে, আমাদের তত বেশি করে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।
শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতি বা ফিলিং প্লান্ট থাকলেই হবে না। আমাদের অনেক প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানেও উন্নত সরঞ্জাম রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রক্রিয়াটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অর্থাৎ অপারেশনস ও লজিস্টিক প্রক্রিয়া কীভাবে চলছে, আমাদের ড্রাইভার বা সিলিন্ডার পরিবহনকারী কর্মীরা যথাযথ প্রশিক্ষণ পেয়েছেন কিনা, তারা কীভাবে সিলিন্ডার লোড ও আনলোড করছেন—এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এলপিজি দাহ্য পদার্থ। আমাদের সব ধরনের ঝুঁকি কমাতে হবে। আমরা প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ ইত্যাদির সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি কমিটি গঠন করতে পারি, যাতে আমরা নির্ধারণ করতে পারি যে ফিলিং প্লান্টের ভেতরে ও বাইরে কোন ধরনের মানদণ্ড প্রয়োগ করা উচিত।
আরেকটি বিষয় হলো বিধি ও নীতি মেনে চলা। অবশ্যই, সঠিক কাজ করতে হবে। সেটাই আমরা করছি। এখানে আমাদের একত্রে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। কারণ কিছু ক্ষেত্রে আমরা দেখছি যে সবার জন্য সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) তৈরি হচ্ছে না।
বাংলাদেশে আমার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ। আমি যখন ২০২৩ সালে প্রথমবার বাংলাদেশে বাজার পরিদর্শনে আসি, তখনই উৎসাহিত হয়েছিলাম, কারণ এখানে করার মতো অনেক কিছু আছে। আমাদের ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও ভোক্তা পর্যায়ে আরো পেশাদারত্ব আনার বড় সুযোগ রয়েছে। আমি যেমন ব্রাজিলে কাজ করেছি, তেমনই এখানে কাজ করার সময় আমি দেখেছি যে বাংলাদেশে একটি অত্যন্ত ভালো ও উচ্চমানের শিল্প গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে।
মার্কো অ্যান্টোনিও রড্রিগেজ ডি অলিভেইরা: প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, পেট্রোম্যাক্স এলপিজি লিমিটেড
[‘বাংলাদেশে এলপিজি: অর্থনীতি, পরিবেশ ও নিরাপত্তা’ শীর্ষক পলিসি কনক্লেভে প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে]










