বাজেট হলো একটি সরকারের প্রণীত বার্ষিক দলিল, যাতে রাষ্ট্রের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়। জাতীয় বাজেটের সাধারণত দুটি অংশ থাকে। প্রথম অংশে রাজস্ব আদায় এবং দ্বিতীয় অংশে সরকারি ব্যয়ের প্রস্তাব। প্রতি বছর একটি আইন প্রস্তাব বা বিল আকারে জাতীয় বাজেট সংসদে উপস্থাপন করা হয়। একে বলা হয় অর্থ বিল। সংসদ সদস্যদের অনুমোদনের পর এটি আইনে পরিণত হয়। দেশের অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে অর্থ বিল পেশ করেন। এবার যেহেতু সংসদ নেই অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমে জাতীয় বাজেট পেশ করেন। এটি হলো বাংলাদেশের ৫৪তম বাজেট। ১৯৭২ সালে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সংসদে প্রথম জাতীয় বাজেট পেশ করেন, যার পরিমাণ ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে জাতীয় বাজেটের পরিমাণ। এবারের জাতীয় বাজেটের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৯০ লাখ কোটি টাকা। বিগত অর্থবছরে মোট বাজেটের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৯৭ লাখ কোটি টাকা। সে হিসাবে এবারের মোট বাজেট বরাদ্দ কমেছে ৭ লাখ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের মোট বাজেট বরাদ্দ কমানো হলেও জনগণের খাদ্যনিরাপত্তার কথা ভেবে কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। নতুন বাজেটে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও খাদ্যনিরাপত্তা খাতে ৩৯ হাজার ৬২০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ, টাকার অংকে যার পরিমাণ ১ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা।

অর্থ উপদেষ্টার ভাষায়—খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। গত বছর বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে আউশ ও আমন ধানের ফলন কমে যায়। তাই সরকারকে খাদ্য ঘাটতি পূরণের জন্য নয় লাখ টন চাল ও সাত লাখ টন গম আমদানি করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যার আওতায় এরই মধ্যে ৮ লাখ ৫০ হাজার টন চাল এবং দুই লাখ টন গম আমদানি করা হয়েছে। বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘কৃষক ন্যায্যমূল্য পেল কিনা সেটা নিয়ে কেউ কথা বলে না। প্রত্যাশা থাকবে আপনারা এটির প্রতি লক্ষ রাখবেন। এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য ১০০ হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ এ উদ্যোগ সঠিক সময়ে এবং সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, জুলাই আন্দোলন হয়েছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ নির্মাণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালের প্রস্তাবিত বাজেটে এগুলো বাস্তবায়নে গুরুত্ব পায়নি। সিপিডির এক বিশেষজ্ঞের মতে, গ্রামীণ ও নগরের বৈষম্য হ্রাস পেলে, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি শহর-নগরের ওপর চাপ কমবে। এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে উন্নয়ন ব্যয় কমানোটাও উদ্বেগজনক।

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের অধিকাংশই দেশের অবহেলিত কৃষকের সন্তান। কৃষক মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও ত্রুটিপূর্ণ বাজার ব্যবস্থার কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। সময়মতো কৃষিঋণ তাদের ভাগ্যে জোটে না। সুদখোর মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে তাকে ফসলের চাষ করতে হয়। বেশি দামে বাকিতে সার ও বালাইনাশক কিনতে হয়। আবার ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পানির দামে ফসল বিক্রি করে তাকে প্রথমে সুদখোর মহাজনদের ঋণ পরিশোধ করতে হয়। এজন্য কৃষকের ঘরে যখন শস্য থাকে, তখন তার বাজার মূল্য থাকে কম। আবার কৃষকের কাছ থেকে কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী বা মজুদদারদের গুদামে গেলে সেই পণ্যের দাম রাতারাতি বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। কৃষক সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করতে পারেন না এবং সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কমে ফরিয়া-দালালদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন।

গত বছর আলুর দাম বেশি থাকায় অধিক লাভের আশায় কৃষক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পরিমাণ উৎপাদন করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন হয় বাম্পার। আর ফলন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের কপালও পুড়তে থাকে। আলুর দাম এক লাফে ৪০ থেকে (মাঠ পর্যায়ে) ১০-১২ টাকায় নেমে আসে। আলুচাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর এক কেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়েছে ১৮ টাকা। বর্তমানে উৎপাদন এলাকায় প্রতি কেজি আলুর পাইকারি দাম ১২ টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজিতে কৃষকের লোকসান ৬ টাকা। একরে ২০০ মণ আলু উৎপাদন হলে এক একর জমিতে কৃষকের লোকসান গুনতে হচ্ছে ৪৮ হাজার টাকা। এ বিপুল পরিমাণ লোকসান কাটিয়ে ওঠার ক্ষমতা ক‘জন কৃষকের আছে? আমাদের সারা দেশের হিমাগারে আলু ধারণক্ষমতা ৩৫ লাখ টন। দেশে আলু উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ টন। দেশে বছরে আলুর প্রয়োজন ৯০ লাখ টন। সে হিসাবে দেশে এবার অতিরিক্ত ২৯ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। এ অতিরিক্ত আলু নিয়ে কৃষক পড়েছেন মহাবিপদে। এবার হিমাগারে আলু সংরক্ষণে ভাড়াও গত বছরের চেয়ে অনেক বাড়ানো হয়েছে। তাই কৃষকের বাড়িতে দেশীয় পদ্ধতিতে সংরক্ষিত আলুতে পচন ধরেছে। পচা আলু কৃষক নদী-নালা ও খাল-বিলে ফেলে পরিবেশ দূষণ করছেন। কোনো কোনো এলাকায় আলু সেদ্ধ করে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হচ্ছে। নানা কারণে বিদেশেও বেশি আলু রফতানি করা সম্ভব হয়নি।

এবার বিলম্বে বৃষ্টির কারণে বাজারে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ শীতকালীন শাকসবজির সরবরাহ দেখা যায়। সবজির বাজারে ধস নামে। এক হালি ফুলকপি ২০ টাকা, এক জোড়া বাঁধাকপি ১০ টাকায় এবং এক হালি বড় মুলা ৪-৫ টাকা দামে বিক্রি করে কৃষককে সর্বস্বান্ত হতে হয়। ৮০ টাকার কাঁচামরিচ কৃষককে বিক্রি করতে হয় ৪০ টাকা কেজিতে। এখনো কৃষক পর্যায়ে পটোল, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে অভাগা কৃষকের উৎপাদন খরচই উঠছেন না। কীভাবে বাঁচবে কৃষক?

অর্থ উপদেষ্টার ভাষণ থেকে আরো জানা যায়, দারিদ্র্য বিমোচন ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বর্তমানে ১ হাজার ৯০১ কেন্দ্রের মাধ্যমে সারা দেশে ওএমএস কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তালিকাভুক্ত চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে প্রতি কেজি ১৯ টাকা দরে গম বিতরণ হচ্ছে। এছাড়া ‘ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট’ কর্মসূচির আওতায় ১০ লাখ ৪০ হাজার নারীর মধ্যে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মী এবং কৃষি শ্রমিকদের মধ্যে অনুরূপ কর্মসূচি চালুর দাবি থাকলেও বাজেটে তার বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। এছাড়া আগামী অর্থবছরের খাদ্যগুদামের ধারণক্ষমতা ৬৭ লাখ টনে উন্নীতকরণ এবং খাদ্যপণ্য ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসার দাবিদার বলে আমরা মনে করি।

তাই খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উল্লেখিত বিষয়গুলো সুবিবেচনা করা প্রয়োজন:

এক. প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে কৃষকদের বাঁচানোর জন্য আমাদের প্রতিবেশী দেশে শস্য বীমার প্রচলন আছে। আমাদের দেশে নেই। তাই অবিলম্বে শস্য বীমা চালু করা এবং তার প্রিমিয়ামের অর্থ সরকারকে ভর্তুকি দেয়া উচিত।

দুই. মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস করে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি মহানগর, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষক বাজার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যেখানে ভোক্তা যৌক্তিক দামে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে টাটকা ও ভেজালমুক্ত কৃষিপণ্য ক্রয় করতে পারবেন।

তিন. কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য ভারতে জাতীয় কৃষিপণ্যের মূল্য কমিশন রয়েছে। বাংলাদেশেও অনুরূপ কৃষিপণ্যের মূল্য কমিশন গঠন করে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য প্রদান করতে হবে।

চার. বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ ভাগ কৃষক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র জমির মালিক। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের নামে কম্বাইন হারভেস্টার, ট্রাক্টর ও রিপার ক্রয়ে ৫০-৭০ ভাগ সরকারি ভর্তুকি তাদের জন্য কোনো কাজে আসেনি। তাই আমাদের প্রস্তাব হলো দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জমিতে ফসল রোপণ, আগাছা দমন, সেচ প্রয়োগ, ফসল উত্তোলন ও মাড়াই এবং শুকানোর কাজে ব্যবহৃত কৃষিযন্ত্রপাতিতে অন্তত ৫০ ভাগ ভর্তুকি দেয়া হোক।

পাঁচ. আমাদের দেশে উৎপাদিত শাকসবজি, ফলমূল ও পেঁয়াজ আদার মতো মসলা ফসলের প্রায় ২০-৪০ ভাগ পচে নষ্ট হয়ে যায় সুষ্ঠু সংরক্ষণের অভাবে। তাই প্রতিটি উৎপাদন এলাকায় ওই ফসলের জন্য সরকারি খরচে সংরক্ষণাগার নির্মাণ করে কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সরবরাহ করতে হবে।

ছয়. থাইল্যান্ডে কৃষিপণ্যের সিংহভাগ প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং সেখানকার মানুষ প্রক্রিয়াজাতকৃত পণ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভোগ করে থাকে। প্রক্রিয়াজাতের সুবিধা হলো কৃষিপণ্য পচনের হাত থেকে রক্ষা পায়। ভোক্তা সারা বছর মৌসুমি ফলমূল, শাকসবজির স্বাদ ভোগ করতে পারেন। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় না। বেশি পরিমাণে মূল্য সংযোজিত হওয়ার কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান।

সাত. দেশের শতকরা ৮০-৮৫ ভাগ প্রান্তিক কৃষক সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ পান না। তাদের বেশি সুদে মহাজনদের কাছ থেকে নগদ ঋণ নিতে হয়, ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। তাই দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের স্বল্পসুদে সময়মতো সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে কৃষিঋণ দিতে হবে।

আট. চিনিকল এলাকায় চাষীদের মধ্যে রোপা আখ, মুড়ি আখ ও আগাম আখ চাষের ওপর যথেষ্ট ভর্তুকি দেয়া হয়। অথচ চিনিকল-বহির্ভূত এলাকার আখচাষীদের মধ্যে এ রকম কোনো ভর্তুকি দেয়া হয় না। এটা চিনিকল ও গুড় এলাকার আখচাষীদের মধ্যে চরম বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। যদিও চিনির চেয়ে গুড় অধিক পুষ্টিকর এবং উৎপাদনও অধিক লাভজনক। সরকারি চিনিকল এলাকায় যেখানে বছরে ৮০-৯০ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়। অন্যদিকে চিনিকল-বহির্ভূত গুড় এলাকায় চিনির চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি গুড় উৎপাদন হয়। চিনি বিদেশ থেকে আমদানি করা গেলেও গুড় আমদানি করা যায় না। তাই চিনিকল এলাকার বাইরে গুড় এলাকার আখচাষীদের সরকারি ভর্তুকি দিতে হবে।

নয়. দেশের গুড়ের চাহিদা সাড়ে চার লাখ টন। উৎপাদন হয় আড়াই থেকে তিন লাখ টন। তাই গুড়ের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য মিলজোন এলাকার বাইরে আখচাষকে জোরদার করতে হবে। সেই সঙ্গে রাস্তার পাশে, রেললাইন, জমির আইল এবং খাল-বিলের ধারে পরিকল্পিতভাবে তাল ও খেজুর গাছ রোপণ করতে হবে। পরিচর্যা করে বড় করে রস আহরণ করতে হবে। তাল ও খেজুরের রস থেকে গুড় উৎপাদনের ওপর জোর দিতে হবে। তালগাছ থেকে শুধু রসই আহরণ হয় না। তালের শাঁস সুস্বাদু পুষ্টিকর খাবার। আর তালের রস থেকে সুস্বাদু পিঠা ও পায়েস তৈরি করা হয়। তালগাছ বজ্রপাতের হাত থেকে মানুষ ও গবাদিপশুর জীবন রক্ষা করে।

দশ. এক শ্রেণীর অতিলোভী ইটভাটার মালিক কয়লার বদলে জ্বালানি হিসেবে খেজুর গাছের কাণ্ড ব্যবহার করে যে সর্বনাশ করছে তা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।

১১. বর্তমানে দেশের ৪০-৫০ ভাগ লোক নগরে বাস করেন। যতদিন যাবে নগরবাসীর সংখ্যা তত বাড়বে। তাই নগরে বসবাসকারী এ বিরাট জনগোষ্ঠীর খাদ্য, পুষ্টিনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য গ্রামীণ কৃষির পাশাপাশি পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগরভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

১২. সরকারি, আধা সরকারি কর্মচারীরা মানুষের বিভিন্ন সেবা দিয়ে মাসে মাসে বেতন ভাতা, উৎসব বোনাস, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুযোগসহ আজীবন পেনশন পান। মারা গেলে তাদের স্ত্রীরা পর্যন্ত পেনশনের সুযোগ ভোগ করেন। অথচ যে কৃষক আমাদের অন্ন জোগান, শিল্পের কাঁচামাল জোগান, কৃষিপণ্য রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করেন, তারা কিন্তু এসবের কিছুই পান না। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! দেশের সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের অন্ন জোগাতে গিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে ঋণের দায়ে তাদের যেতে হয় জেলখানায়। বিক্রি করতে হয় জমি। এটা কৃষকদের প্রতি রাষ্ট্রের একটি চরম অবহেলা, অবমাননা ও অবিচার ছাড়া কিছুই নয়। কৃষকের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের পাহাড় সমান বৈষম্য। এ বৈষম্য দূরীকরণে কৃষকের জন্য এবং কৃষি শ্রমিকের জন্য আজীবন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা দরকার এবং পেনশনের কিস্তি সরকারকে ভর্তুকি হিসেবে দেয়া প্রয়োজন।

নিতাই চন্দ্র রায়: সাবেক মহাব্যবস্থাপক (কৃষি)

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন