মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথিবীর ১৮৪ দেশের ওপর নতুন শুল্কনীতি আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছেন। বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা পণ্যের ওপর বর্তমানে প্রচলিত শুল্কের সঙ্গে অতিরিক্ত এ শুল্ক আরোপ করার নীতি নেয়া হলো। ১০ শতাংশ ভিত্তিরেখা বা বেজলাইন ধরে এ অতিরিক্ত শুল্কের পরিমাণ দেশভেদে ১১-৫০ শতাংশ পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে। যেসব দেশ শূন্যশুল্ক সুবিধা ভোগ করত তাদেরকেও এখন ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর নিজ নিজ দেশ যত শতাংশ শুল্ক আদায় করে আসছিল মার্কিন সরকার এখন সেসব দেশের শুল্কহারের অর্ধেক অতিরিক্ত শুল্ক হিসেবে তার দেশে রফতানি করা পণ্য থেকে আদায় করার নীতি নিয়েছে।

  • থাইল্যান্ডের উদাহরণ থেকে বিষয়টি বুঝে নেয়া যাক। থাইল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর গড়ে ৭২ শতাংশ আমদানি শুল্ক আদায় করে থাকে। এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র থাইল্যান্ডের পণ্যের ওপর ৩৬ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আদায় করবে। যেমন আগে থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা গবাদি পশুর মাংসের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ৮ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা ছিল। এখন নতুন নীতি কার্যকর হলে অতিরিক্ত শুল্কসহ থাই গরুর মাংসের ওপর মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৪ শতাংশ। মার্কিন ক্রেতাদের এখন আগের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি মূল্য দিয়ে থাইল্যান্ডের গবাদি পশুর মাংস কিনতে হবে। এ অতিরিক্ত শুল্কের একটা নাম দেয়া হয়েছে, পারস্পরিক শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ।
  • ট্রাম্প তার নির্বাচনী ইশতেহারে মার্কিন প্রাধান্য বা আমেরিকা ফার্স্ট নীতি অনুসরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আরোহণ করেছেন। এখন তিনি তার ভোটারদের দেয়া অঙ্গীকার পূরণে একটার পর একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তার যুক্তি, মার্কিন পণ্যের ওপর সব দেশ যদি মাত্রাতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে নিজ নিজ দেশের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কেন তার দেশের ব্যবসায়ীদের উপকৃত করার জন্য রফতানিকারক দেশগুলোর পণ্যের ওপর সমহারে শুল্ক আরোপ করতে পারবে না! ট্রাম্প সমহারে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পরিবর্তে অর্ধেক অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের নীতি নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি বিশ্বাস করেন এ নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে, নতুন শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠিত হবে, আমদানি-বিকল্প পণ্য উৎপাদনে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে এবং প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
  • একটি উন্নত দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বেশি হওয়ার সুবাদে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করে। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে মার্কিন ক্রেতারা সুলভ মূল্যে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠমানের পণ্যগুলো ভোগ করার স্বাধীনতা পেয়ে আসছে। অন্যদিকে বাকি দেশগুলোও তাদের প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ ব্যবহার করে মার্কিন বাজারে পণ্য সরবরাহ করে নিজ দেশের রফতানি তথা অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতির কারণে বিশ্বের অনেক দেশে, বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
  • সম্পদ সীমিত ও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার কারণে কোনো দেশই শতভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। এক দেশের উদ্বৃত্ত সম্পদ অন্য দেশের ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। এভাবেই আবহমানকাল থেকে বিশ্ববাণিজ্যের মাধ্যমে চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য রক্ষা হয়ে আসছে। আধুনিক বিশ্ব অর্থনীতিতে শ্রমমূল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাছাড়া শিল্পভেদে শ্রমিকদের দক্ষতার বিষয়টি তো আছেই। এজন্য অধিক সম্পদের অধিকারী হয়েও উন্নত দেশগুলো সব পণ্য নিজেরা উৎপাদন করতে পারে না। শ্রমিক খরচ বেশি হওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায় বলে উন্নত দেশগুলো শ্রমঘন শিল্পের পণ্য উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে উৎপাদন করিয়ে নেয়। পরিবহন খরচ ও শুল্ক দেয়ার পরও দেখা যায়, উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে আমদানি করা পণ্যের মূল্য উন্নত দেশে উৎপাদিত পণ্যের চেয়ে ঢের কম থাকে। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর তুলা উৎপাদন হলেও মার্কিনিরা নিজেরা পোশাক তৈরি না করে বাংলাদেশ থেকে তৈরি করিয়ে নিয়ে যায়।
  • এবার আসা যাক বাংলাদেশ প্রসঙ্গে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য বলছে, বাংলাদেশ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করে। এরমধ্যে তৈরি পোশাকের পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ রফতানির ৮৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যসূত্র অনুসারে একই অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করে। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়াল ৫ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ ঘাটতি পূরণের জন্যই বাংলাদেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, এ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কি প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার হারাবে?
  • বাংলাদেশ মূলত স্বল্পমূল্যের অত্যাবশ্যকীয় তৈরি পোশাক রফতানি করে থাকে। এদিকে চীন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও অন্যান্য তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশগুলোয় শ্রমমূল্য বেশি হওয়ার কারণে সেসব দেশ হাই-ভ্যালুর পণ্য রফতানি করে থাকে। তাছাড়া বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের চেয়ে বেশি অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এজন্য বিশ্বের বৃহৎ তিনটি তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
  • ভারত ও পাকিস্তানের নিজস্ব তুলা রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশ দুটির ওপর বাংলাদেশের চেয়ে কম অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করায় বাংলাদেশের কিছুটা ঝুঁকি আছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। কিন্তু বাংলাদেশ গত ৪৫ বছরে তৈরি পোশাক শিল্পে পণ্যের বহুমুখীকরণ, শ্রমিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক গ্রিন-ফ্যাক্টরি স্থাপন করতে পেরেছে, যেটি ভারত বা পাকিস্তান এখনো করতে পারেনি।
  • তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্যসূত্র থেকে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে ৩৬ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করে। এর মধ্যে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বা মোট তৈরি পোশাকের ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই রফতানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সবচেয়ে বড় বাজার। অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা না থাকলেও শুল্ক বৃদ্ধির কারণে মূল্য বাড়ার ফলে মার্কিন ক্রেতাদের কৃচ্ছ্রসাধনের পথ বেছে নিতে হবে, ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নয়া শুল্ক ঘোষণার পর মার্কিন শেয়ারবাজারের দ্রুত পতন, মন্দার পূর্বাভাস এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাপতির মুদ্রাস্ফীতি, শ্লথ প্রবৃদ্ধি ও বেকারত্ব বৃদ্ধির প্রাক্কলন এ আশঙ্কাকে আরো জোরালো করেছে।
  • বাংলাদেশের মোট রফতানির ১৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়, এটি দেশের মোট রফতানির প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। পরিমাণটা কিন্তু বিশাল। ট্রাম্প প্রশাসনের নয়া শুল্কনীতির কারণে বাংলাদেশের রফতানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছেন সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তৈরি পোশাক ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৯০ ধরনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়। এ তালিকায় চামড়া, জুতা, টুপি, ওষুধ, কৃত্রিম ফুল, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হোম–টেক্সটাইল, ফার্নিচার ও অন্যান্য অপ্রচলিত রফতানি পণ্য রয়েছে। এসব পণ্যের প্রতিটিকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের পণ্যের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতা করে মার্কিন বাজারে টিকে থাকতে হয়। এখন ট্রাম্প যেসব দেশের ওপর কম অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন, মার্কিনরা সেসব দেশের পণ্যের দিকে ঝুঁকে যাবেন। ফলে বাংলাদেশের রফতানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সবচেয়ে বেশি। মার্কিন বাজারনির্ভর অনেক বাংলাদেশী রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে দেশে শত শত শ্রমিকের বেকার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
  • এ আশঙ্কাকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, ট্রাম্প প্রশাসন কিন্তু সমঝোতার পথ খোলা রেখেছেন। বাংলাদেশ যদি দেখাতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসছে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে, সেক্ষেত্রে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দেশের রফতানি পণ্যের ওপরও অতিরিক্ত শুল্ক কমে যাওয়ার সুবিধা নেয়া যাবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ করে দেখাতে পারে সেক্ষেত্রে শুল্কের হার অন্যান্য দেশের মতো ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। এতে বাংলাদেশের জন্য শাপে বর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগের ১৫ শতাংশ শুল্ক কমে ১০ শতাংশে নেমে আসতে পারে আর অতিরিক্ত শুল্ক তো বলবত হবেই না।
  • পোশাক শিল্পের মূল কাঁচামাল তুলা। বর্তমানে বাংলাদেশের মাটিতে মোট চাহিদার মাত্র ৩ শতাংশ তুলা উৎপাদন হয়, সেটা কোনোভাবেই ২০ শতাংশের বেশি উৎপাদন সম্ভব নয়। এজন্য বর্তমানে বাংলাদেশকে প্রতি বছর গড়ে ৮ দশমিক ২ মিলিয়ন বেল তুলা আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলা আমদানি করা হয়। আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করে পোশাক তৈরি করে সেখানেই আবার রফতানি করি, এতে দুই দেশই লাভবান হবে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলাচাষী আর বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিক উভয় পক্ষের জন্যই এটি লাভজনক। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে শূন্য দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলা আমদানি করা হয়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভারত ও অন্যান্য দেশ থেকে ক্রয় কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলা আমদানি করতে পারে। এতে করে বাংলাদেশের যুক্তি আরো জোরালো হবে।
  • বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশ আমদানি করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জ্বালানি আমদানি করা হয়। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি শূন্য দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রফতানিকারক দেশ। বাংলাদেশ যদি পরিবেশ দূষণকারী খনিজ তেলের ব্যবহার কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করে সুলভ মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এলএনজি আমদানি করে তবে বাংলাদেশের জ্বালানি সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, পরিবেশ দূষণও কমে যায়।
  • বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে ২ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গম আমদানি করা হয়। একই তথ্যসূত্রে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্যশস্য আমদানির পরিমাণ ছিল মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশ যদি প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের খাদ্যশস্য আমদানি করে সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বিস্কুট, কুকিজ, পাস্তা উৎপাদন করে আবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেই রফতানি করে, তবে সে দেশের গম-জব-ভুট্টাচাষীরা যেমন উপকৃত হবেন আবার বাংলাদেশের খাদ্য ও পশুখাদ্য উৎপাদক এবং রফতানিকারকরা লাভবান হবেন। এতে রফতানি পণ্যের বহুমাত্রিকতা সৃষ্টি হবে, নতুন নতুন কারখানা হবে এবং দেশে প্রচুর নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে কিছু অপ্রচলিত ও বিলাসবহুল পণ্য আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ এগুলোর ওপর প্রচুর শুল্ক আরোপ করে রেখেছে। অথচ শুল্ক কমিয়ে দিলেও এসব পণ্য খুব বেশি বিক্রি হতো না এবং সরকারও খুব বেশি কর পেত না। কিন্তু এ মাত্রাতিরিক্ত শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী পণ্যের ওপর তুলনামূলক বেশি পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। এখন বিষয়টি যেহেতু নজরে এসেছে, তাই এসব পণ্যের শুল্ক দ্রুত কমিয়ে আনা প্রয়োজন। এতে বাংলাদেশের লাভ বৈ ক্ষতি কিছু হবে না।
  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলা, এলএনজি ও খাদ্যশস্য আমদানি করলে বাণিজ্য ঘাটতি ৫ থেকে মাত্র ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নামিয়ে সম্ভব। একই সঙ্গে বিলাসবহুল ও অপ্রচলিত মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে আনা হলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দরকষাকষি অনেক সহজ হয়ে যাবে। এতে করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, ভোক্তা ও সরকার সবাই উপকৃত হবে। এভাবেই ট্রাম্পের নয়া শুল্কনীতির ফলে উদ্ভূত সমস্যাকে সম্ভাবনায় রূপান্তর সম্ভব।

ড. শায়খ আহমদ: সহকারী অধ্যাপক (অ্যাডজান্ট ফ্যাকাল্টি),

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও মুখ্য পরামর্শক, এক্সারশিয়ালস