তবে প্রাণের অস্তিত্বের ধারা ব্যাহত হয়নি, নিরবচ্ছিন্ন থেকে গেছে। জীবনের জন্য অপরিহার্য উপাদানগুলোর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক লেনদেনের মাধ্যমেই চলছে এ প্রবাহ। জীবনপ্রবাহের কেন্দ্রে রয়েছে মানুষ। চারপাশের গাছপালা, বন্যপ্রাণী, মাটি-পানি-বাতাস সবকিছু নিয়েই মানুষের পরিবেশ। পরিবেশের প্রতিটি উপাদানের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক এবং নির্ভরশীলতা এতই বেশি যে এর পরিবর্তন মানবজাতির অস্তিত্বকেও প্রভাবিত করে। মানুষ তার খাদ্য, বস্ত্র, আবাস, চিকিৎসা এক কথায় অস্তিত্বের প্রয়োজনে সবকিছুর জন্যই পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। মানুষসহ অন্যান্য জীবন বেঁচে থাকতে পারে তাপমাত্রা, আবহাওয়ার অন্যান্য পরিমাপের একটি নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে। তেমনিভাবে তার জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য এবং উদ্ভিদ প্রাণী ও পরিবেশের ওপর একান্তভাবে নির্ভরশীল। পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান আবার নির্ভরশীল একে অন্যের ওপর। মোট কথা, আমাদের বেঁচে থাকা না থাকা নির্ভর করে অনেক উপাদানের ওপর।

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশের জলবায়ু সমভাবাপন্ন যা বিভিন্ন ধরনের জীবের বসবাস ও বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে অনুকূল। এ কারণে এ দেশে রয়েছে বিচিত্র বন্যপ্রাণীর বসবাস। কিন্তু ক্রমাগত বনভূমি হ্রাস, মানুষ কর্তৃক অপরিমিত শিকার, পরিবেশের পরিবর্তন সর্বোপরি বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে হরেক পাখির ডাকে ভোর হওয়া কিংবা বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়ানো জন্তুরা এখন আর বলতে গেলে নেই, রয়েছে শুধু তাদের গল্প-কাহিনী। জীববৈচিত্র্যের এ ক্রমাগত হ্রাস আমাদের বাস্তুতন্ত্রে এনেছে এক বড় ধরনের বিপর্যয়। দেশব্যাপী বনভূমি উজাড় হচ্ছে। ফলে বন্যপ্রাণী নিত্যদিন তাদের বসবাসের স্থান হারাচ্ছে এবং বিলুপ্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রজাতি। অতিথি পাখিরাও এ দেশে এসে নিরাপত্তা পাচ্ছে না। শীত মৌসুমে এ দেশে বেড়াতে আসা হাজার হাজার পাখি শিকারিদের হাতে প্রাণ হারায়। রাস্তাঘাট ও বাজারে অতিথি পাখি বিক্রির ধুম পড়ে যায়। এছাড়া বনবাদাড়ে বন্যপ্রাণী কিংবা পাখি শিকার চলছে সর্বত্র। এ অবস্থা চলতে থাকলে এ দেশের পরিবেশ ব্যবস্থা অচিরেই ভারসাম্য হারাবে। তাই আসন্ন বিপর্যয় রোধে আমাদের অনতিবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য আমাদের দেশে কিছু নিয়মনীতি ও আইন প্রচলিত আছে। প্রচলিত আইনের ব্যবহার এবং যুগোপযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা যায়। জীববিজ্ঞানের ভাষায় জীববৈচিত্র্য বিষয়টিকে তিনটি আঙ্গিকে বিশ্লেষণ করা যায়—বংশগতিনির্ভর, প্রজাতিগত ও বাস্তুসংস্থানগত জীববৈচিত্র্য। ১৯৯২ সালে পরিবেশ পলিসিতে এ সম্পর্কে কিছু বিধান আলোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সম্পর্কীয় কিছু নীতিমালা। এসব নীতিমালা বনভূমি সংরক্ষণ, বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তুসংস্থানগত ভারসাম্য রক্ষায় আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকল্পে গবেষণাকর্ম জোরদারকরণ, অতিথি পাখির নিরাপত্তা প্রদান ইত্যাদি বিষয়ও নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণকল্পে বিভিন্ন বিভাগভিত্তিক প্রণীত আইন রয়েছে, যেমন বংশগতি সম্পর্কিত সম্পদ সংরক্ষণ এ ব্যবস্থায় শস্যের জার্মপ্লাজম বা বংশগতি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও সংশ্লিষ্ট আইনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট অধ্যাদেশ ১৯৭৬। এ অধ্যাদেশের ৯ (খ) অনুচ্ছেদে বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে উৎপাদনমুখী কৃষি ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাটি ও পানির সঠিক ব্যবহার, নতুন প্রজাতি উদ্ভাবন ও যথাযথ প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং কীটপতঙ্গ ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে। একই অধ্যাদেশের ৭ (গ) অনুচ্ছেদে শস্যের নতুন ধরন উদ্ভাবনের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া এবং ব্যবস্থাপনা অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন ১৯৭৪-এর অনুচ্ছেদ ৭ (ক)-এ পাটের প্রজাতি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য এর ওপর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন ১৯৭৩ এর ৪ (খ) অনুচ্ছেদে ধানের প্রজাতি সংরক্ষণ ও ধরন বৃদ্ধির জন্য গবেষণা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই বিধির ৪ ও অনুচ্ছেদে ইনস্টিটিউটের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটের ১৯৯৬ সালে জারীকৃত অধ্যাদেশের ৭ অনুচ্ছেদে শর্করাসমৃদ্ধ শস্য উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে চিনি, সিরাপ ইত্যাদির উৎপাদন বাড়াতে বলা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট উদ্ভিদের বা শস্যের অবলুপ্তিও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশে একসময় প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির ধান ছিল। এগুলো সংরক্ষণে পদক্ষেপ গ্রহণের অভাবে এখন প্রজাতির সংখ্যা অনেক কমে গেছে। উচ্চফলনশীল প্রজাতির বীজ বাজারে আসার কারণে স্থানীয় উৎপাদনশীল এসব প্রজাতি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এসব হারিয়ে যাওয়া প্রজাতির গুণগত মান ছিল অনেক উন্নত। তবুও যেগুলো আছে, সেগুলোর সংরক্ষণ নিয়ে আমাদের ভাবা উচিত। দেখা যাক এগুলোর সংরক্ষণে আমাদের পদক্ষেপ কতটুকু।

কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বিদ্যমান বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ, প্রাণীর উপস্থিতিই মূলত সে এলাকার জীববৈচিত্র্যের ধরন প্রকাশ করে। কোনো এলাকায় একই প্রজাতির বৈচিত্র্য যত বেশি ও ব্যাপক হয় সে এলাকার বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্যও তত টেকসই হয়। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়ামকগুলো সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মূলত লুপ্তপ্রায় প্রজাতিগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব। প্রজাতি সংরক্ষণ ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের জন্য কিছু আইন ও নির্দেশমালা বিদ্যমান আছে, সেগুলো মেনে চলে সে অনুসারে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিলে প্রাণীবৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব।

সাম্প্রতিককালে ব্যাপক চিংড়ি চাষের ফলে অনেক সমৃদ্ধ বন ধ্বংস হয়ে গেছে। একসময় বৃক্ষ, জন্তু-জানোয়ার আর পাখ-পাখালিতে সমৃদ্ধ চকরিয়া-সুন্দরবন এখন কেবলই স্মৃতি। সেখানে এখন অবাধে অপরিকল্পিতভাবে চলছে লবণ আর চিংড়ি চাষ। ৭৫ হাজার হেক্টর বনের মধ্যে তিন হাজার হেক্টর চিংড়িচাষীর দখলে। মানুষ চাষবাদ এবং বসবাসের জন্য ভূমি উদ্ধার করতে গিয়ে দিন দিন বনভূমির ক্ষতি সাধন করছে এবং সঙ্গে সঙ্গে সহনশীল পরিবেশের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। তাই বনভূমি পুনরুদ্ধার, আবাসন, কৃষিক্ষেত্র তৈরি করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা দরকার। বনভূমি উজাড়, দেশীয় প্রজাতি অবমূল্যায়নের ফলে উদ্ভিদজগতে যেমন ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বন্যপ্রাণী, পশুপাখি। জরিপ বলছে, এ দেশে বিদ্যমান ৮ হাজার ৪০ প্রজাতির জন্তুর কথা জানা যায়। কিন্তু বিগত সময়ে বিভিন্ন অপব্যবহারের কারণে গত শতকে এদের মধ্যে প্রায় ১৮ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এসব বন্যপ্রাণী একসময় বনবাদাড়ে, জলে অহরহ দেখা যেত। বুনো ষাঁড়, পাইথন, জল হরিণ, ভাল্লুক, ব্লুবেল, কালো হাঁস এসব এখন আর বনবাদাড়ে, পানিতে চড়তে দেখা যায় না, কেবল গল্পই শোনা যায়।

বাংলাদেশের নদীগুলোতে একসময় শুশুক নামে পরিচিত এক ধরনের ডলফিন হরহামেশাই দেখা যেত। স্তন্যপায়ী এ প্রাণী প্রায়ই নিশ্বাস নিতে পানির উপরি ভাগে উঠে আসে। এছাড়া মাছ শিকার করতে গিয়ে এরা সময় সময় পানির উপরি ভাগে চলে আসে এবং খুব জোরে মুখ থেকে বাতাস নির্গমন করে, ফলে শরীরের কতক অংশ পানির উপরি ভাগে দেখা যায়। কখনো দেখা যায় শুশুকের তাড়া খেয়ে মাছগুলো বাঁচার জন্য তার মুখের সামনেই লাফ দিচ্ছে। ‘ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি বাংলাদেশ’-এর দেয়া এক তথ্যমতে, ২০০৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দেশে ১০৮টি ডলফিন মারা পড়ে। এর বাইরে আমরা প্রায় দেখছি এসবের মাঝে ৮০টি ছিল শুশুক ও বাকিগুলো ইরাবতি ডলফিন। এসব ডলফিনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, অধিকাংশই জেলেদের ইলিশ ধরার জালে আটকে এবং কিছু মারা গেছে নৌযানের ধাক্কার কারণে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, জেলেরা কোনো কারণ ছাড়াই জালে আটকে পড়া ডলফিনদের পিটিয়ে মেরে ফেলছে এবং এ নিয়ে আনন্দ করছে। ডলফিনের তেল সংগ্রহ এবং এর ব্যবহার নিয়েও আছে অনেক কুসংস্কার। আর এসব সংস্কার, কুসংস্কার, ব্যবহার, অপব্যবহারের বলি হচ্ছে প্রকৃতির নিরীহ এ প্রাণী। এখন নদীগুলো যে গতিতে নাব্যতা হারাচ্ছে তার চেয়েও বেশি গতিতে হারিয়ে যাচ্ছে শুশুক নামের এসব নদীর ডলফিন।

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার অ্যান্ড নেচারাল রিসোর্সেসের (আইইউসিএন) দৃষ্টিতে বাংলাদেশে এখন ২৩টি প্রজাতি বিলুপ্ত প্রায়। এদের মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, লিওপার্ড, ক্লাওডেড লিওপার্ড, এশিয়ান ওয়াইল্ড এলিফ্যান্ট, পাইথন, ঘড়িয়ালসহ কতিপয় জন্তু। সংস্থাটির তথ্যমতে, বাংলাদেশে ৩৪০টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে। অথচ কয়েক বছর আগেও তাদের সংখ্যা ছিল চার শতাধিক। যদিও আমাদের দেশের আইন এবং এসব বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা ও বসবাসের এলাকা নির্দিষ্টকরণের জন্য কিছু বিধি রয়েছে।

আবার আমাদের বনভূমিও দিন দিন কমে যাচ্ছে। বনভূমির সঙ্গে অনেক বন্যপ্রাণীর জীবনমরণ সম্পর্ক। তাই বনভূমি কমে যাওয়ায় অনেক প্রজাতিই তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে এবং সর্বোপরি বিলুপ্ত হচ্ছে। দেশে বিদ্যমান আইনের যথার্থ প্রয়োগের অভাব এবং অনেক ক্ষেত্রে যুগোপযোগী যথার্থ আইন না থাকার কারণে প্রাণিকুল শঙ্কার মুখেই রয়ে যাচ্ছে। একসময় প্রবাদ ছিল ‘মাছে-ভাতে বাঙালি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা এবং মৎস্য নিধনে যথাযথ কার্যকরী আইন না থাকার কারণে মাছের প্রজাতি বৈচিত্র্য একেবারেই সংকুচিত হয়ে এসেছে। মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন ১৯৫০-এ মৎস্য আহরণের সময় ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া অনুসরণ নিষিদ্ধ এবং নির্দিষ্ট সাইজের নিচে মৎস্য নিধনকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ১৯৭৪ সালের মেরিটাইম জোন আইনের ষষ্ঠ বিভাগে সামুদ্রিক জীব সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। সামুদ্রিক মৎস্য অধ্যাদেশ ১৯৮৩তে যেকোনো সামুদ্রিক মৎস্যকে রিজার্ভ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় প্রজাতি বৈচিত্র্য সংরক্ষণ একেবারেই জরুরি।

আমাদের দেশে আইন আছে কিন্তু এর কার্যকর প্রয়োগ নেই। তাই এখন প্রয়োজন আইনের সঙ্গে গণসচেতনতা। একটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রকৃতিতে সবার টিকে থাকা নির্ভর করে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ও ভারসাম্য রক্ষার ওপর। সম্পর্কের এ শিকল যত ছিন্ন হবে ততই সংকটাপন্ন হবে প্রাণের অস্তিত্ব। জীবের বৈচিত্র্য যত সংকীর্ণ হবে ততই সংকটাপন্ন হবে মানবজাতির টিকে থাকা। তাই প্রয়োজন হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ।

ড. এএসএম সাইফুল্লাহ: অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়