ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কার্যকর সংস্কারের দাবি এখন একটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের বিশাল জনশক্তি, বিশেষ করে তরুণ জনগণ, যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায় এবং যদি নব্য উদারনীতির (নিওলিবারেল) নীতি পরিত্যাগ করে কল্যাণমুখী নীতি গ্রহণ করা হয়, দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্প সুরক্ষিত হয়, কৃষিতে পর্যাপ্ত ভর্তুকি প্রদান করা হয় এবং বিভিন্ন খাতে চলমান দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ৫০ শতাংশ রোধ করা যায়, তবে বাংলাদেশে এক মহা অর্থনৈতিক বিপ্লব সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি। আমাদের উচ্চ শিক্ষার কাঠামো সংস্কার করে বিপ্লব ঘটানো দরকার, যাতে প্রচুর গ্র্যাজুয়েট বিদেশে পিএইচডি বা পোস্ট-ডক করার সুযোগ পায় এবং পরবর্তী সময়ে দেশে আমেরিকা কিংবা ইউরোপের চেয়েও ভালো বেতনভুক্ত চাকরি করতে পারে। এর মাধ্যমে ব্রেইন ড্রেইন কমিয়ে, ব্রেইন রিগেইনের (মেধাবী জনশক্তি দেশে ফিরিয়ে আনা) একটি নতুন চক্র তৈরি করা সম্ভব হবে। তখন দেশ উন্নত দক্ষতাসম্পন্ন জনগণের অভাবে ভুগবে না। এজন্য উচ্চ শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিকীকরণের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের নিওলিবারেল শিক্ষানীতি বাতিল করে একটি স্বাধীন ও দক্ষ শিক্ষানীতি প্রণয়ন করতে হবে। কয়েকজন প্রতিভাবান শিক্ষাবিদকে কাজে লাগিয়ে এখনই শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যদি জ্ঞানচর্চা, জ্ঞান উৎপাদন ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তবে শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষক পদোন্নতি নীতিমালা, উন্নত শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নসহ কাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। এ লেখায় বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঠামোগত সংস্কারের একটি রূপরেখা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি এবং প্রমোশন নীতিমালা চালু করতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমান অযোগ্য ও পক্ষপাতমূলক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে একটি বৈশ্বিক মানসম্পন্ন, যোগ্যতা ও মেধানির্ভর নিয়োগ পদ্ধতি চালু করা জরুরি। এজন্য শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমানে ভাইস চ্যান্সেলর এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে গঠিত বোর্ডের মাধ্যমে শুধু একটি ভাইভার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়, যা প্রায়ই যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষকদের নিয়োগে বাধা সৃষ্টি করে। এ সমস্যার সমাধানে প্রচলিত নিয়োগ নীতিমালা সংস্কার করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম মেনে চলা অপরিহার্য।

প্রথমেই শিক্ষক নিয়োগ কমিটিকে দলীয়করণমুক্ত করতে হবে। এ কমিটি গঠন করতে হবে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে, যারা উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণায় দক্ষ। যদি কমিটিতে অযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে বিদ্যমান অনিয়ম অব্যাহত থাকবে। এ কমিটি প্রথমে প্রার্থীদের একাডেমিক যোগ্যতা এবং গবেষণার প্রোফাইল দেখে একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করবে। উদাহরণস্বরূপ, আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃত র‌্যাংকিং অনুযায়ী শীর্ষ ৫০০ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি থাকা প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়া যেতে পারে। এরপর বিভাগীয় নিয়োগ কমিটি ও ডিনের তত্ত্বাবধানে প্রার্থীরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে তাদের গবেষণা নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন দেবেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নে কীভাবে অবদান রাখতে চান, সেটাও ব্যাখ্যা করবেন। প্রেজেন্টেশনের পর প্রার্থীদের ক্লাসরুমে ডেমো ক্লাস নিতে হবে। এর মাধ্যমে তাদের পাঠদানের দক্ষতা, ক্লাসরুমে অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি করার ক্ষমতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানের গভীরতা এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানচর্চার আগ্রহ সৃষ্টির সামর্থ্য যাচাই করা হবে। প্রেজেন্টেশন এবং ডেমো ক্লাসের ভিত্তিতে প্রার্থীদের দক্ষতা ও মেধা অনুযায়ী স্কোরিং করা হবে। এ যাচাই প্রক্রিয়া শেষে যোগ্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত ভাইভা অনুষ্ঠিত হবে, যা ভাইস চ্যান্সেলর এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা যেতে পারে। এ ধাপে ধাপে স্বচ্ছ ও মানসম্পন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়ন সম্ভব।

নির্বাচিত লেজুড়বৃত্তির রাজনৈতিক কাঠামো নয়, মেরিটোক্রেসি-ভিত্তিক গণতান্ত্রিক কাঠামো দরকার

স্বাধীনতার পর থেকে দেশের চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশের আওতায় এক ধরনের নির্বাচিত লেজুড়বৃত্তিক রাজনৈতিক কাঠামো ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কাঠামোর মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতির প্রধান দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত শিক্ষক প্যানেলগুলো (যেমন নীল, সাদা, গোলাপি দল) থেকে মনোনীত শিক্ষকেরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক বডিগুলোয় প্রভাব বিস্তার করেছেন। প্রথমদিকে, এসব বডিতে বিবদমান ধারার মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় থাকত এবং অনেক যোগ্য শিক্ষকও নির্বাচিত হয়ে আসতেন। তবে বাস্তবতা হলো, এ কাঠামোর কারণে বহু ক্ষেত্রে একাডেমিক যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে প্রকৃত যোগ্য শিক্ষকরা নীতিনির্ধারণী ফোরামগুলোয় স্থান পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। উপরন্তু রাজনৈতিক প্যানেলগুলোর প্রতি অন্ধ আনুগত্য প্রদর্শনের প্রবণতা শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ ধরনের কাঠামো শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সাধনে ব্যর্থ হয়েছে। বরং এটি সরকারি দলের নিরঙ্কুশ আধিপত্য নিশ্চিত করার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও সিন্ডিকেটে এমন অনেক ব্যক্তি নির্বাচিত হয়েছেন, যারা একাডেমিক দিক থেকে দুর্বল হলেও রাজনৈতিক আনুগত্য প্রদর্শনে ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়।

ফলে সিন্ডিকেট ও সিনেট ধীরে ধীরে একাডেমিক ফোরাম হিসেবে তাদের চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে এবং রাজনৈতিক ফোরামে রূপান্তরিত হয়েছে। কখনো কখনো এই দুটি ফোরাম ক্ষমতাসীন দলের অনুগত বডি হিসেবে কাজ করেছে, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী অনেক সরকারি সিদ্ধান্ত তাদের গ্রহণ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এ ধরনের কাঠামো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ এবং গবেষণার পরিবেশ তৈরির পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দূরীকরণে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্ষেত্রে, বিশেষত ডিন, সিনেট ও সিন্ডিকেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বডিতে নিয়োগ বা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাই প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে ঐতিহাসিক অবদানের বিষয়টি মাথায় রেখে কেউ কেউ এ ফোরামগুলোয় পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণের পক্ষে মত প্রকাশ করতে পারেন। যদিও এর পক্ষে কিছু যুক্তি থাকলেও আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে একটি বিশ্ববিদ্যালয় তার একাডেমিক মানের সঙ্গে কখনই আপস করতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্য হলো জ্ঞান সৃষ্টি, সেই জ্ঞান বিতরণ এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে কার্যকর ভূমিকা পালন। এ কারণে মেধাভিত্তিক গণতন্ত্রের ধারণা প্রয়োগ করাই হতে পারে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। এর অর্থ হলো ডিন, সিনেট বা সিন্ডিকেটের মতো পদে প্রার্থিতা অর্জনের জন্য প্রথমেই প্রার্থীদের একাডেমিক দক্ষতা ও গবেষণায় যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। প্রাথমিক যাচাইকরণের মাধ্যমে যে প্রার্থীরা যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন তাদের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে লেজুড়বৃত্তিক শিক্ষক রাজনীতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষক সমিতির নির্বাচনেও দলীয় প্যানেলভিত্তিক প্রক্রিয়া বাতিল করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। মেরিটোক্রেসি-ভিত্তিক এ পদ্ধতি কার্যকর করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামোতে গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

অনুষদের ডিন নিয়োগ প্রক্রিয়া দলীয় বা প্যানেলভিত্তিক না হয়ে একাডেমিক যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। ডিন পদে সরাসরি দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার প্রথা বন্ধ করতে হবে। এর পরিবর্তে প্রার্থীদের একাডেমিক যোগ্যতা, গবেষণায় অবদান, সাইটেশনের সংখ্যা, পিএইচডি ডিগ্রির মান, গবেষণা প্রোফাইল ও পেশাগত অভিজ্ঞতার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ তিন-চারজন প্রার্থীকে নির্বাচনের জন্য বাছাই করবেন। পরবর্তী ধাপে সাধারণ শিক্ষকরা তাদের ভোটের মাধ্যমে ডিন নির্বাচিত করবেন। এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি পরিহার করে একজন যোগ্য, দক্ষ ও একাডেমিক উৎকর্ষসম্পন্ন ডিন নির্বাচন করা সম্ভব হবে। এতে সংশ্লিষ্ট অনুষদের শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নে ডিনের কার্যকর নেতৃত্ব নিশ্চিত করা যাবে বলে আশা করা যায়।

এছাড়া সিনেট ও সিন্ডিকেটে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়গুলোয় তাদের যৌক্তিক মতামত তুলে ধরার জন্য এ প্রতিনিধিত্ব অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায়, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো খালি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, সেখানে কোনো শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। এ অভাবের ফলে শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়নি। তাই সিনেট ও সিন্ডিকেটে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া আরো গণতান্ত্রিক হবে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণে একটি কার্যকর প্লাটফর্ম তৈরি হবে। এ ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ স্বায়ত্তশাসন যেন শিক্ষকদের জবাবদিহি এড়ানোর হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, সেজন্য একটি স্বচ্ছ অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে শিক্ষকদের মূল্যায়নের একটি পদ্ধতি প্রবর্তন করে শিক্ষকদের কার্যক্রমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউজিসি এবং মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করাও প্রয়োজন। বর্তমানে সিনেট মূলত ক্ষমতাসীন দলের অনুগত শিক্ষকদের একটি ফোরামে পরিণত হয়েছে। এর মাধ্যমে গোপনে প্রধানমন্ত্রীই রাষ্ট্রপতির নামের আড়ালে ভিসি নিয়োগ করে থাকেন, যা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের মূলে আঘাত হানে। তাই ভিসি নিয়োগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভিসি নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া প্রবর্তন করা যেতে পারে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও সিনেট মিলে একটি সার্চ কমিটি গঠন করতে পারে। এ কমিটিতে দেশীয় পাঁচজন আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ প্রফেসর, বিদেশ থেকে তিনজন আন্তর্জাতিক প্রফেসর, একজন জাতীয় অধ্যাপক এবং একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। সার্চ কমিটি একটি ওপেন সার্কুলারের মাধ্যমে ভিসি প্রার্থীদের আবেদন আহ্বান করবে এবং প্রার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণা প্রোফাইল, ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় ভূমিকা রাখার জন্য তাদের ভিশন ও কর্মপরিকল্পনা মূল্যায়ন করবে। এ মূল্যায়নের ভিত্তিতে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীকে ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। এ প্রক্রিয়া প্রবর্তনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় স্বায়ত্তশাসন ও গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির নিরঙ্কুশ ক্ষমতা কমাতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর যে রকম নিরঙ্কুশ ক্ষমতা একই রকমভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে প্রচুর ক্ষমতা দেয়া হয়েছে—যে কেউ এ পদে থেকে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চরিত্রের বিরোধী। আমি মনে করি বিভাগ এবং অনুষদে ভিসির অনেক কাজ ভাগ করে দিয়ে ক্ষমতা বা অথরিটির চেক অ্যান্ড ব্যালান্স নিশ্চিত করা দরকার। ভিসি সামগ্রিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দেখভাল করবেন কিন্তু সব সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার একক ক্ষমতা প্রয়োগের বিধানের সংস্কার করা দরকার।

ড. যোবায়ের আল মাহমুদ: সহযোগী অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়