অর্থনীতিকে উপেক্ষা করে কেবল রাজনৈতিক আবেগে নীতি নির্ধারণ করলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার প্রত্যক্ষ একাধিক প্রমাণ বিশ্ব অর্থনীতিতে দৃশ্যমান। ২০১৬ সালে ভারতের নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত এমন এক রাজনৈতিক ভুল। কালো টাকা নির্মূলের উদ্দেশ্যে নেয়া এ আকস্মিক সিদ্ধান্তে দেশের ৮৬ শতাংশ মুদ্রা অচল হয়ে পড়ে। ফলে অর্থনীতিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি চার বছর ধরে শ্লথ হয়ে পড়ে এবং বেকারত্ব ২৬ শতাংশে গিয়ে ঠেকে। একইভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক রাজনৈতিক দরকষাকষির অস্ত্র হিসেবে ঘনঘন শুল্ক পরিবর্তন ও বাড়ানোর নীতি ব্যবসায়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করে।
বিপরীতভাবে সঠিক অর্থনৈতিক তত্ত্বের প্রয়োগ এক অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দিতে পারে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ উইলিয়ামের ‘ভিক্রি অকশন’ মডেল প্রমাণ করে সঠিক কৌশলগত কাঠামো গঠন করলে বাজার থেকে সর্বোচ্চ ও ন্যায্যমূল্য আদায় সম্ভব। দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রেও কেবল নৈতিক উপদেশ বা কঠোর শাস্তির চেয়ে অর্থনৈতিক প্রণোদনার সঠিক ব্যবহার বেশি কার্যকর। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং বিপর্যয় এড়াতে রাজনীতিকে কারিগরি অর্থনীতির বাইরে রাখা জরুরি। রাজনৈতিক প্রবৃত্তি বা সাময়িক জনতুষ্টি কখনো গভীর ও বস্তুনিষ্ঠ অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের বিকল্প হতে পারে না।
কৌশিক বসু: বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ এবং ভারত সরকারের সাবেক মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা
প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে সংক্ষেপিত










