এক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে, এত বড় বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা সরকারের কতটুকু। বাজেট বাস্তবায়নের গুণগত মান ঠিক থাকলে তা সম্ভব। তবে দেশে বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, বাজেটে নির্ধারিত ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা সংস্থানের জন্য রাজস্ব আদায়ের উৎস অনুসন্ধান এবং অর্থায়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে কখনো দেখা যায়নি। এজন্যই বাজেট লক্ষ্যমাত্রার বড় একটি অংশ পূরণ করা যায় না। যে কারণে সংশোধিত বাজেটে অনেক কাটছাঁট করা হয়।

এবারের বাজেট বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জটা বড়। বলা যায়, এটি বাস্তবায়ন কীভাবে হবে সেটি নির্ধারণই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সহযোগিতা বাড়ানো। এ সহযোগিতা বাড়াতে হলে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এ সহযোগিতা যদি বড় আকারে বেশি মানুষকে দিতে হয় তার প্রধান চ্যালেঞ্জই হবে অর্থায়ন। এক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ হলো, প্রতি বছর অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারের যত উৎস থাকে তার একটি বড় অংশই আসে ব্যাংক খাত থেকে। এ খাত থেকে ঋণ নেয়ারও একটা প্রান্তিক সীমা চলে এসেছে। অল্প কিছু ব্যাংকই পর্যাপ্ত আমানত সঞ্চিতি তৈরি করে লোন দেয়ার সক্ষমতা পায়। গত অর্থবছর অর্থাৎ এবার যেটি শেষ হচ্ছে, সেখানে বেসরকারি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম ছিল। বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি এত কম হলে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অনেক কঠিন। সরকার যদি বড় বাজেটের ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে বেশি ঋণ নিতে চায়, তাহলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের অর্থে টান পড়বে। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপাতে চাইলে সেটি মূল্যস্ফীতি বাড়াবে। তাই সরকার বলেছে টাকা ছাপিয়ে অর্থায়ন করা হবে না। অর্থাৎ ব্যাংক খাত থেকেই যদি বড় আকারে অর্থায়ন চাওয়া হয়, তাহলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে টান পড়তে পারে। এগুলোই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবেলা করা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দেয়া জরুরি।

আমাদের জ্বালানি সরবরাহে বড় সমস্যা। আমাদের আমদানিনির্ভর জ্বালানি এবং এ খাতে সরকারের ব্যয়ের বড় চাপ রয়েছে। সেটার সমাধান কীভাবে হবে তার ওপরও নির্ভর করছে দেশে বাজেট বাস্তবায়ন কীভাবে সফল হবে।

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন: নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ); অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়