এ সংকট বিশ্ব অর্থনীতিকে ২০২২ সালের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় সৃষ্ট সংকটের চেয়েও অনেক বেশি অস্থিতিশীল করে দিতে পারে। কারণ এবার বিপদটি বহুমুখী, এটি আমাদের অর্থনীতির দুটি প্রধান স্তম্ভ—প্রবাসী আয় ও পোশাক শিল্প রফতানি যেটি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। এ দুটোর ওপরই আঘাত হানতে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে কোনো সংঘাত মানেই জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের খরচ আকাশচুম্বী হওয়া। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় বৈশ্বিক মন্দার কবলে পড়লে রফতানি আয়ের চাকা থমকে যাবে, আর জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধিতে রফতানিকারকরা পড়বেন নতুন এক যন্ত্রণায়। পোশাক শিল্পের অর্ডার কমে যাওয়া এবং সমুদ্রপথে পণ্য চলাচলের বিশৃঙ্খলা মিলে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। সেই সঙ্গে কোটি কোটি প্রবাসী কর্মীর কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়া, যারা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মূল জোগানদাতা।
এ যুদ্ধ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের আমদানি ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের রিজার্ভের দ্রুত নিঃশেষ হওয়া অনিবার্য। এ ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে নতুন প্রশাসন অতীতের বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভ্রান্ত পপুলিস্ট বা জনতুষ্টিবাদী এবং একই সঙ্গে লুটেরা অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করার বিলাসিতা কোনোভাবেই দেখাতে পারে না। স্বৈরাচারী হাসিনার সময়ে আমলা নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের পায়ে কুড়াল মারার মুদ্রানীতি অর্থনৈতিক বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করে। আন্তর্জাতিক সামষ্টিক অর্থনীতির সবচেয়ে প্রাথমিক নীতিগুলোর একটি হলো ‘ইম্পসিবল ট্রিনিটি’ বা অসম্ভবের ত্রিমিতি। অর্থনীতির এ মৌলিক নিয়ম অনুযায়ী, একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিচের তিনটি লক্ষ্যের মধ্যে কেবল দুটির সমন্বয় করতে পারে: ১. একটি নির্দিষ্ট এবং স্থির মুদ্রা বিনিময় হার ২. অবাধ মূলধন প্রবাহ এবং ৩. স্বাধীন মুদ্রানীতি।
ধরা যাক, একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে মুদ্রানীতি প্রয়োগ করতে পারে। তার একটি বড় লক্ষণ হলো যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকটি সুদের হার বাড়ানো-কমানোর ক্ষমতা কতটুকু। একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যদি সেই সক্ষমতা থাকে, সেই সঙ্গে অবাধ মূলধন প্রবাহ থাকে তাহলে ওপরের দুটি লক্ষ্য ২ ও ৩ পূরণ হয়ে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে কোনোভাবেই একটি স্থির মুদ্রা বিনিময় হার রাখা সম্ভব না। এ হার তখন বাজারের চাহিদা ও জোগানের শক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে। তেমনি কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি মুদ্রা বিনিময়ের হার স্থির রাখতে চায় এবং সেই সঙ্গে মূলধন প্রবাহ চলতে থাকে তাহলে ১ ও ২ পূরণ হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ৩ স্বাধীন মুদ্রানীতি প্রয়োগের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর থাকে না। হাসিনার লুটেরা অর্থনীতিতে এ বিষয়টিই ঘটেছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট সংকটের সময় শেখ হাসিনার সরকারের মূল ব্যর্থতা ছিল এ অসম্ভবের ত্রিমিতির অংক বুঝতে না পারা বা বুঝেও লুটেরা অর্থনীতি চালিয়ে যাওয়ার জন্য এটিকে উপেক্ষা করা।
২০২২-এর শুরুতে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে পণ্যের সরবরাহ সংকটে মূল্যস্ফীতি ঘটে। এর ফলে আমদানি ব্যয় দ্রুত বাড়তে থাকে যা ডলার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই সময় মুদ্রার মানকে বাজারের সঙ্গে সমন্বয় না করে কৃত্রিমভাবে ডলারের বিনিময় হার ৯০ টাকার আশপাশে আটকে রাখার চেষ্টা করে। অনেকে মনে করেন এটা যত না অর্থনৈতিক, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। দেশের মুদ্রার মান কমে যাওয়াকে রাজনৈতিক শাসনের দুর্বলতা হিসেবে দেখাটা নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন দেশের ইতিহাসে, বিশেষ করে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থায় এবং সেই প্রতিক্রিয়ায় আত্মঘাতী মুদ্রানীতি খুব একটা বিরল নয়। সেই একই পথে হেঁটেছে শেখ হাসিনার সরকার।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সুদের হারে ৯ শতাংশের সর্বোচ্চ সীমা বজায় ছিল, যখন বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ও দেশে মূল্যস্ফীতি তুঙ্গে। সুদের হারের এ কুখ্যাত ‘নয়-ছয়’ নীতি আসলে কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল না, বরং এটি ছিল একটি শাসকগোষ্ঠীর সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষার কৌশল। মহামারীর সময় ‘অর্থনীতি চাঙ্গা’ করার নামে এটি চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, যা মূলত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী বড় বড় ব্যবসায়ীদের (যারা আবার দেশের সবচেয়ে বড় ঋণগ্রহীতাও) দীর্ঘদিনের দাবির ফসল। ৯ শতাংশ ঋণের সুদ মানেই ছিল ধনকুবেরদের পকেটে বড় ধরনের ভর্তুকি। সেই সঙ্গে ৬ শতাংশের আমানত সীমা মূল্যস্ফীতির হারের চেয়েও কম হওয়ায় সুদের হারের প্রকৃত মান ঋণাত্মক হয়ে যায়।
এভাবে সাধারণ সঞ্চয়কারীদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রমে অর্জিত সঞ্চয় ব্যাংকে রাখার ফলে তাদের আয় তো দূরের কথা উল্টো ক্ষতির সম্মুখীন হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে অর্থনীতিকে আক্ষরিক অর্থেই নয়-ছয় করে দেয়া এ নীতি ব্যাংক খাতকে ভেতর থেকে একেবারে পঙ্গু করে দিয়েছিল। সুদের হার ও ঝুঁকি মূল্যায়নের সক্ষমতা হারিয়ে ব্যাংকগুলো এসএমই বা নতুন উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়া বন্ধ করে কেবল প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের দিকে ঝুঁকেছিল। আর এত সস্তা সুদহারের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা এবং ক্ষমতার বলয়ে থাকা ব্যক্তিরা বিশাল পরিমাণে টাকা পাচার করেছে, ডলারের বিপরীতে সম্পদ সরিয়ে নিয়েছে বিদেশে। এভাবে পতিত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার লুটপাটের অর্থনীতিতে ধুঁকতে থাকা মধ্যবিত্তের পকেট কেটে বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংক ব্যালান্স ফুলেফেঁপে উঠতে সহায়তা প্রদান করা হয়।
কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই এ লুটপাটের প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সরাসরি গিয়ে পড়ে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক শেষ পর্যন্ত ‘ইম্পসিবল ট্রিনিটি’ বা অসম্ভবের ত্রিমিতির খাঁচায় আটকা পড়ে। অসম্ভবের ত্রিমিতির ১ নং লক্ষ্য, মুদ্রা বিনিময় হার স্থির রাখতে গিয়ে তারা ডলারের রিজার্ভ ধরে রাখতে আমদানির ওপর কঠিন শর্ত চাপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু হুন্ডি ও আন্ডার/ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে মূলধন প্রবাহ থামানো যায়নি, তাই ২ নং লক্ষ্যটিও সরকারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও পূরণ হয়ে যায়। তখন স্বাভাবিকভাবেই বিনিময় হার আর সুদের হার ধরে রাখতে গিয়ে তারা মুদ্রানীতির স্বাধীনতা (৩ নং লক্ষ্য) বিসর্জন দেয়। এর করুণ পরিণতি আমরা দেখেছি: রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে যা ছিল মুদ্রার কৃত্রিম মান রক্ষার এক ব্যর্থ লড়াই।
অন্যদিকে ২০২৪-এর জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার অসম্ভবের ত্রিমিতির বাধ্যবাধকতা মেনে নিয়ে হাসিনার লুটপাটের হাত থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কঠিন পথটি বেছে নেয়। এ সময় ডলারের বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দিয়ে (ফ্লোটিং রেট) মুদ্রানীতির স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করে এবং সেই সঙ্গে সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এটি রিজার্ভের ক্ষরণ বন্ধে কাজ করে। এটা বর্তমান বিএনপি সরকারের জন্য একটি সুস্পষ্ট ব্লু-প্রিন্ট: দেশীয় মুদ্রাকে বাজারের ধাক্কা সামলাতে দিতে হবে এবং মূল্যস্ফীতি দমনে সুদহার ব্যবহার করতে হবে।
শুধু তা-ই নয়, একই সময়ে অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে আর্থিক খাতেও যথেষ্ট ব্যয় সংকোচনের চেষ্টা করা হয়। মুদ্রানীতি এবং আর্থিক নীতির সমন্বয় না ঘটলে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় যেটি শেখ হাসিনার আমলে হয়েছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় সুদের হার তো বাড়ানো হয়নিই, উল্টো আর্থিক খাতে ব্যয় কমানোর কোনো উদ্যোগ ছিল না। ফলে মূল্যস্ফীতির হার গত এক যুগে সর্বোচ্চ শতকরা ১৪ শতাংশে চলে যায়। সেই বিপর্যয়কর অবস্থা থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে সরকার ৭ শতাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হন।
এ সফলতা অর্থনীতির জটিল বা মারাত্মক কোনো উদ্ভাবনী উপায়ে হয়নি। অর্থনীতির খুবই মৌলিক এবং ভিত্তিগত বিষয় মেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পেশাদারি মনোভাব নিয়ে হাসিনার রেখে যাওয়া বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে সামলেছেন।
সেই শিক্ষা থেকে বলা যায় যে সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবেলার সাফল্য অনেকখানি নির্ভর করছে ‘ইম্পসিবল ট্রিনিটি’ বা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অসম্ভবের ত্রিমিতির নিয়ম কতটা মানছে তার ওপর। তাই এ নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়ে অর্থনীতিবিদ এবং সুশীল সমাজের উদ্বেগ অমূলক কিছু নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে সাধারণত অর্থনীতিবিদ বা অভিজ্ঞ ব্যাংকাররা থাকেন। সেখানে পোশাক শিল্পের একজন উদ্যোক্তা এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়বাহী ব্যক্তির নিয়োগ একটা বড় আস্থার সংকট তৈরি করছে। সেই সঙ্গে এখানে বড় ধরনের ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাতও রয়েছে। যখন আসন্ন অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে ব্যবসায়ীরা সুদের হার কমানো বা রফতানি প্রণোদনার জন্য চাপ দেবেন, তখন নিজে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নব্য নিয়োপ্রাপ্ত গভর্নর নিরপেক্ষ থাকতে পারবেন কিনা সেটি বড় প্রশ্ন। তবে গভর্নরকে এ চাপ থেকে মুক্ত রাখতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা যেতে পারে। এতে যেকোনো কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের চাপ গভর্নরের একার ওপর পড়ার সম্ভাবনা কমে আসবে। সেই সঙ্গে অর্থনীতির মূল নীতিপথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে আসবে।
তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ফলে অবশ্যম্ভাবীভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে এবং এরই মধ্যে বাড়ছে। তার ওপর এখন ঈদের বাজার চলছে। অতীতে আমরা দেখেছি পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেই এর পেছনে ব্যবসায়ীদের ষড়যন্ত্র, অধিক মুনাফার লোভে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠে। এটা ঠিক যে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী সব সময়ই থাকে, কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ না করে ঢালাওভাবে ব্যবসায়ীদের দোষারোপ করা, জেল-জরিমানা করা বাজার অর্থনীতির জন্য প্রচণ্ড ক্ষতিকারক। এর ফলে পণ্যের দাম অতীতে কখনই কমে আসেনি, উল্টো আরো বেড়েছে।
তাই বর্তমান সরকারকে দ্রব্যমূল্যের ক্ষেত্রেও ‘সিন্ডিকেট’ খোঁজার ভ্রান্ত জনতুষ্টিবাদী পথে না হেঁটে বাজারকে তার গতিতে চলতে দিতে হবে। তবে এটাও ঠিক অর্থনৈতিক সংকটের সময় বিশেষ করে পণ্যের সরবরাহ কমে গেলে বাজারে অবশ্যম্ভাবীভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে। সেক্ষেত্রে বাজারে বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানা না করে সরাসরি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি দেয়াটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। আর দাম কমিয়ে আনতে হলে পণ্যের আমদানি বাড়িয়ে বা উৎপাদন বৃদ্ধি করে বাজারে সরবরাহ বাড়াতে হবে। এছাড়া আর কোনো শর্টকাট নেই বাজারে জিনিসপত্রের দাম কমানোর। বাজারে রÅvব-পুলিশ পাঠিয়ে হয়তো সংবাদপত্রের হেডলাইন হওয়া যায় বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া যায়, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না, উল্টো আরো ক্ষতি হয়।
পরিশেষে এটাই বলব, সামনে অর্থনীতির জন্য কঠিন সময়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং রাজনৈতিক সরকারের সমন্বয় ও অর্থনীতির মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে বোঝাপড়া খুব জরুরি। সেই সঙ্গে এ ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে আমাদের দরকার দক্ষ ও দূরদর্শী ক্যাপ্টেন, যিনি অর্থনীতির জাহাজটিকে অতীতের মতো একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভরাডুবির উপক্রম না করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসবেন।
এ ধরনের আস্থা পাওয়ার মতো নেতৃত্ব আমরা পেয়েছি কিনা তা সময়ই বলে দেবে।
ড. রুশাদ ফরিদী: শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়










