অথচ এদের প্রায় প্রত্যেকেই ভীষণ আত্মবিশ্বাস ও আগ্রহ নিয়ে ব্যাংক খাতে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ নিজ দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়েও তারা সচেষ্ট ছিলেন। তবু টিকে থাকতে পারেনি অথবা পেশাগত চাপ থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছেন। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর এক ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর স্বল্প সময়ে আর্থিক খাতে সুশাসন ফিরে আসবে, এমন প্রত্যাশা নানা কারণেই অনেকের মধ্যে ছিল না। তবু গত দেড় বছরে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল প্রত্যেকের প্রচেষ্টায় ডুবন্ত এ খাতের লাগাম টানা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জনগণের নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায়। আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য পূর্ববর্তী সবার উদ্যোগের ধারাবাহিকতা অনুসারে কাজ করার পাশাপাশি এ খাতের উন্নয়নের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়া অত্যন্ত জরুরি। ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার কবে দায়িত্ব নেবে, সে অপেক্ষাই করছিলেন। প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্টরা এ খাতের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আশা করছেন। ক্ষমতাসীন বিএনপি জোট সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও জনস্বার্থরক্ষার জন্য বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ প্রতিশ্রুতি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ব্যাংক খাতকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিকল্প নেই।

দেশের অস্থির অর্থনৈতিক অবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে ব্যাংক খাতে বিশেষ মনোযোগী হওয়ার বিকল্প নেই। দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ব্যাংক খাত। আমাদের অর্থনীতির আকার তুলনামূলক ছোট হলেও গত কয়েক দশকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যাংকের সংখ্যা বেড়েছে। বহু ব্যাংককে অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাব্য সেটি কতটা অবদান রাখতে পারবে তার বদলে রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পেয়েছে। বহু ক্ষেত্রে জনআস্থাকে পুঁজি করে ব্যাংক খুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এ অর্থ দেশে থাকেনি। বরং বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ফলে দেশে ঋণখেলাপির সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। গত অর্থবছরে মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশই ছিল খেলাপি। তাছাড়া ব্যাংক পরিচালনার জন্যও দক্ষতাকে বিবেচনা করা হয়নি। অধিকাংশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারাই নিয়মের বাইরে গিয়ে অনেক অসাধু ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ ঋণ অনুমোদন বা পুনঃতফসিলীকরণে সহায়তা করেছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো রুগ্‌ণ হয়ে পড়েছে এবং তাদের নতুন ঋণ দেয়ার সামর্থ্য কমেছে। কিছু ব্যাংকের তারল্য সংকট প্রবল হয়েছে। সুশাসনের অভাবে এ খাত ক্রমে ‘ভঙ্গুর’ হয়ে পড়েছে। ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি এ খাতে জড়িত পেশাজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ ও হতাশা ক্রমান্বয়ে বাড়িয়েছে।

সবদিক বিবেচনায় অস্থির ও সংকটাপন্ন পরিবেশ থেকে ব্যাংকিং পেশায় জড়িতদের উদ্বেগ হ্রাস করা জরুরি। অনেক ব্যাংকার আকস্মিক চাকরি হারানোর ভয় ও নানাবিধ ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন। অনেক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান ঠিকঠাক মতো বেতন-ভাতা দিতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের সুযোগ-সুবিধাও কমানো হয়েছে। আবার এখন নাজুক ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার খবরও প্রায়ই শোনা যায়। ব্যাংক একীভূত করার পর কাঠামোগত যে পরিবর্তন হবে তাতে আদৌ ব্যাংকারদের অনেকের চাকরি থাকবে কিনা, এ নিশ্চয়তাও নেই। এ ধরনের মানসিক টানাপড়েন ও আর্থসামাজিক ঝুঁকি নিয়ে স্বাভাবিকভাবে কাজ করা কঠিন। অনেকে ঋণভারে জর্জরিত। ফলে নিজ কর্মক্ষেত্রে পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে পারছেন না। এতে সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আরো দুর্বল হয়ে পড়ছে।

নানা শঙ্কায় সাধারণ মানুষের ব্যাংক খাতের প্রতি আস্থা কমছে। মাঝেমধ্যে কিছু ব্যাংকে জামানতের টাকা ফেরত না পাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার কিংবা ম্যানেজারের আহাজারির তথ্য সামনে আসছে। সেগুলোর ভিত্তিতে নানারকম গুজব ডালপালা মেলছে। কিছু ব্যাংকে সাধারণ গ্রাহকদের গচ্ছিত অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে শঙ্কা বাড়ছে। আস্থাই হলো ব্যাংক ব্যবসার মূল পুঁজি। অংশীজনদের ‘আস্থা’ না থাকলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকা সম্ভব নয়। বর্তমানে ব্যাংক খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানই এমন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে অনুমান করা যায়। অন্যদিকে দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট ও ফিনটেকের যুগে ট্র্যাডিশনাল ব্যাংকিং কার্যক্রম আর কত দিন প্রাসঙ্গিক থাকবে, সেটাও ভাবনার বিষয়। শুধু গ্রাহকদের উদ্বৃত্ত অর্থ জমা রাখা আর যাদের অর্থ দরকার তাদের ঋণ দেয়ার মধ্যে ব্যাংকিং কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকলে দ্রুতই তা মুখ থুবড়ে পড়বে। ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে প্রতারণা ও হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে বাড়ছে। এতে সাধারণ গ্রাহকরা মাঝেমধ্যেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্তরা কার কাছে গেলে প্রতিকার পাবেন সেটাও স্পষ্ট নয়।

বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) আওতা ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে। অধিকাংশ ব্যাংক অ্যাপসনির্ভর ব্যাংকিং চালু করেছে। এভাবে গ্রাহকসেবা দেয়ার প্রচলিত ধারণায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তাছাড়া ইনস্যুরেন্স ও লিজিং কোম্পানির মতো নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যক্রমের আওতা ক্রমে বাড়াচ্ছে। এতে সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। সেখানে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য উন্নতির ফলে বিশ্বব্যাপী লেনদেনের পরিসর বাড়ছে। তাই নিজেদের ইচ্ছামতো নিয়ম-নীতি চালু করা ও সেগুলোর চর্চা করার সুযোগ হ্রাস পাচ্ছে। আন্তঃদেশীয় বা বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লেনদেন বাড়ছে। ফলে নিজেদের কার্যক্রমের মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা অবধারিত হয়ে উঠছে। এছাড়া আইএমএফের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলো নানা শর্ত আরোপ করছে। তার আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক নানা নির্দেশনা জারি করছে। সেক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য সফটওয়্যার ব্যবহার, সিকিউরিটি নিশ্চিতকরণ, হ্যাকিং রোধ করা ইত্যাদির জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। এতে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাড়ছে, বহু প্রতিষ্ঠানের মুনাফা হ্রাস পাচ্ছে।

সর্বোপরি ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। সেক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি কর্মীদের নৈতিক চর্চা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে সমস্যা হলো একক কোনো ইউনিট চাইলেও সেগুলোর পুরোপুরি চর্চা সম্ভব হয় না। একটি প্রতিষ্ঠানের টপ-টু-বটম এ ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং প্রণোদনা দেয়া দরকার। নইলে অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপে কর্মীদের নাভিশ্বাস অবস্থা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ব্যাংকিং বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত এক পেশা। তাই এ খাতের কর্মীদের পেশাদারত্ব বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সদা তৎপর থাকতে হবে। প্রচলিত কিছু পণ্য ও সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না। সেক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যাংকের শক্তিশালী গবেষণা সেল থাকতে হবে। তারা বাস্তবতার আলোকে ইনোভেটিভ প্রডাক্ট অফার করবে। তারা বিদ্যমান পণ্যকে গ্রহণযোগ্য করার পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে এবং তাদের সমস্যার সামগ্রিক সমাধান অফার করবে। নইলে তরুণ প্রজন্ম প্রচলিত ব্যাংক খাতের প্রতি আগ্রহ হারাবে। ক্রেতা ও কর্মী উভয় ক্ষেত্রে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা এ খাতের জন্য আগামীতে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

ব্যাংক খাতে কর্মরত বর্তমান জনশক্তিকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করা আরেকটা চ্যালেঞ্জ। অনেকেই ভাবছেন আর মাত্র কয়েক বছর চাকরি আছে, এখন এসব শিখে কী লাভ? কিন্তু সেই কয় বছরে আরো অনেক নতুন প্রযুক্তি চলে আসবে। তখন প্রতিষ্ঠান সেকেলে কর্মীদের টেনে নেয়ার সামর্থ্য রাখবে কিনা, সেটা ভাবা দরকার। বিশেষত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় এ সংকট প্রবল হবে। সেক্ষেত্রে তাদের কাস্টমার সার্ভিস থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ইস্যুগুলোতে ব্যাপক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তরুণ ও প্রমিজিং কর্মীদের ডেটা বিশ্লেষণ ও ফিনটেকের বিশেষ বিশেষ দিকে পারদর্শী করে তুলতে হবে। ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের ঝুঁকি বিষয়ে তাদের আস্থায় নিতে হবে। কারণ তারা নিজেরা আত্মবিশ্বাসী না হলে সেবাগ্রহীতাদের সমস্যার সমাধান অফার করবে কীভাবে?

সম্প্রতি আমার এক আত্মীয়ের অজ্ঞাতসারে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ টাকা অন্য একটি ব্যাংকে স্থানান্তরিত হয়। তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়ে উভয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহযোগিতা নিয়েও অর্থ উদ্ধার করা যায়নি। শুধু জানা গেছে, অ্যাকাউন্টটা মোবাইল ফোন অ্যাপসের মাধ্যমে খোলা। এটা ব্যাংক খাতের বড় এক দুর্বলতা। কোনো একটা ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা হবে অথচ কোনো ফরম পূরণ করা হবে না। গ্রাহক সম্পর্কে ব্যাংকের কাছে কোনো তথ্য থাকবে না, এমনটি বিস্ময়কর। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ প্রত্যেক ব্যাংকে এসব সমস্যা সামলানোর জন্য বিশেষ ইউনিট রাখতে হবে। এভাবে গ্রাহক যেকোনো অভিযোগ করে দ্রুত সমাধান পাবেন। বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো পান দোকানদারদের হাতেও ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। অথচ দেশের প্রায় ১০ হাজার পোস্ট অফিসের অবকাঠামোগত সব সুবিধা থাকার পরও অজ্ঞাত কারণে তাদের এমন কার্যক্রমে পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। সেদিকে নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ দেয়া জরুরি। পাশাপাশি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের তৎপরতা আরো বাড়ানো দরকার। কারণ অনলাইন লেনদেনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে নানা প্রতারণা ও অবৈধ লেনদেনের আওতা বাড়ছে। মানিল্ডারিং রোধ করতেও এ প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে।

আমাদের ব্যাংক খাত বর্তমানে এক ট্রানজিশন ফেজ অতিক্রম করছে। এখানে নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ আসবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু স্পর্শকাতর খাত হিসেবে নতুন সরকারের উচিত হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর দরকারি সংস্কারে মনোযোগী হওয়া। সেটা সম্ভব হলে জনস্বার্থ রক্ষা হবে, দেশের অর্থনীতিতে গতি আসবে এবং বিনিয়োগে আস্থা ফিরবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষ আর্থিক খাতে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে এগোতে থাকবে, যা কারো জন্যই কল্যাণকর হবে না।

ড. মো. আব্দুল হামিদ: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) অতিরিক্ত পরিচালক