প্রতি বছর প্রায় অর্ধলাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যান এবং ১৫ বছরে এ সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে। ২০২২ সালে ৪৯ হাজার ১৫১ শিক্ষার্থী ৫৮টি দেশে পড়াশোনার জন্য গিয়েছিলেন, যা ২০১৩ সালে ছিল ২৪ হাজার ১১২ এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৬ হাজার ৬০৯। এ প্রবণতা দেশের তরুণদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা লাভের আগ্রহের প্রতিচ্ছবি। তবে প্রশ্ন উঠছে, যারা উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত দেশে যাচ্ছেন, তারা কি দেশে ফিরে এসে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন?

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কিছু ব্যাচের তথ্য বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, এক সময়ের সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও কত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। একটি পত্রিকার তথ্যমতে, ১৯৮৬ সালের ব্যাচের ৩১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জন এখন বিদেশে অবস্থান করছেন, ১৯৯৪ সালের ব্যাচের ৪৫ জনের মধ্যে ৩৫ জন বিদেশে চলে গেছেন এবং ১৯৯৮ সালের ব্যাচের ৬৫ জনের মধ্যে ৩০ জন বিদেশে গেছেন। এ তথ্যগুলো বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আজকের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে এটি কেবল বাংলাদেশের ব্রেইন ড্রেনের ভয়াবহতারই একটি প্রতিচ্ছবি। এর মাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশ থেকে অভ্যন্তরীণ অগ্রগতির পাশাপাশি, মেধাবী তরুণদের বিদেশে চলে যাওয়ার প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি গভীর সংকেত।

শিক্ষার্থীরা বিদেশে চলে গেলে অনেক সময় তাদের দেশের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, যদিও সরকার তাদের জন্য প্রাইমারি থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। তবে বিষয়টি আরো গভীর, কারণ উচ্চশিক্ষা শেষে অনেক শিক্ষার্থী দেশে ফিরে আসেন না এবং এর পেছনে রয়েছে বেশকিছু কারণ। আজকের আলোচনার মূল বিষয় হলো কেন শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরতে চান না এবং এর সমাধান কী হতে পারে।

জুলাই বিপ্লবের পর অনেক দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থী দেশে ফিরে আসতে চাইলেও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়ে তারা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এ প্রতিবন্ধকতাগুলো হয়তো তাদের পেশাদারি জীবনের জন্য অগ্রগতির পথ বন্ধ করে দেয় অথবা সরকারি সহায়তা বা সুযোগের অভাব থাকে, যা তাদের দেশে ফিরে আসার প্রেরণা কমিয়ে দেয়। এর ফলে তারা বিদেশের উন্নত পরিসরে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন এবং দেশে ফিরতে চান না। প্রধানতম সমস্যাগুলো থেকে কিছু নিচে তুলে ধরা হলো :

১. এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফল: আমার জানা মতে, ইউজিসি আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ফলাফলকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আমার মতে, এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ করা মানে কখনো ভালো হতে না দেয়া। একজন শিক্ষার্থী এসব পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণী বা জিপিএ ৫ না-ও পেতে পারেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি বিদেশে গিয়ে বা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেকে উন্নত করে দক্ষ গবেষক বা শিক্ষক হয়ে উঠতে পারেন। তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফল বাদ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি।

২. কেবলমাত্র ‘লেকচারার’ হিসেবে নিয়োগ দেয়া: বাংলাদেশে শিক্ষক নিয়োগে একটি প্রচলিত প্রবণতা রয়েছে, যেখানে উচ্চ ডিগ্রি এবং বিদেশে অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রথমে লেকচারার পদে নিয়োগ পান। বিদেশে পিএইচডি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা, যারা সেখানে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শুরু করতে পারেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। উদাহরণস্বরূপ, তুরস্ক এবং ইউরোপে পিএইচডি ও প্রকাশনাকে অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনা করে সরাসরি সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ দেয়া হয়, কিন্তু বাংলাদেশে তাদের প্রথমে লেকচারার পদে কাজ করতে হয়। এমনকি একজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী, যিনি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা করেছেন, বাংলাদেশে লেকচারার পদে নিয়োগ পেয়ে হতাশ হয়েছেন। বিদেশে তার অভিজ্ঞতা মূল্যায়িত হলেও দেশে তা উপেক্ষিত হয়। এ পরিস্থিতিতে যারা বিদেশে উচ্চতর পদে পৌঁছেছেন, তারা কেন বাংলাদেশে ফিরে লেকচারার হিসেবে কাজ করবেন? তাদের অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত।

৩. আবেদনের ম্যানুয়াল পদ্ধতি: বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের প্রক্রিয়া এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে চলে, যেখানে ৮-১০ সেট আবেদনপত্র জমা দিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ এবং কষ্টকর। উদাহরণস্বরূপ, একজন শিক্ষার্থী যিনি ইস্তানবুলে পড়াশোনা করছেন, তাকে বাংলাদেশে আবেদন করতে হলে প্রথমে ঢাকা যেতে হয়, সব কাগজপত্র প্রস্তুত করে ডাকযোগে পাঠাতে হয়। তারপর যদি তিনি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন, তাকে পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের জন্য আবার ঢাকা ফিরে আসতে হয়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার বিমান ভাড়া খরচ হয়। যদি তিনি লেকচারার পদে চাকরি পান, তাকে দুই বছর সময় নিতে হবে সেই খরচ উপার্জন করতে। এর ফলে শিক্ষার্থী বিরাট অর্থনৈতিক ও সময়ের অপচয়ে পড়েন। অথচ যদি আবেদনগুলো অনলাইনে গ্রহণ করা হতো, তাহলে এ ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হতো। এ পরিস্থিতিতে বিদেশে উন্নত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একজন শিক্ষার্থী কেন দেশে ফিরে আসবেন, এটাই বড় প্রশ্ন।

৪. Equibalance-এর ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতার বিড়ম্বনা: বিদেশ থেকে অর্জিত সনদপত্র বাংলাদেশে ইউজিসি (University Grants Commission) থেকে সমতা করাতে হয়, যা একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এ নিয়ম রয়েছে, তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সমস্যা হলো এ সমতার দীর্ঘসূত্রতা। ইউজিসির সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ৯০ থেকে ১২০ কর্মদিবসের মধ্যে সমতা সনদ প্রদান করার কথা, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, বিভিন্ন জটিলতার কারণে সমতা সনদ হাতে পেতে প্রায় ছয় মাসেরও বেশি সময় লেগে যায়। যদিও এ সময়ের মধ্যে ইউজিসি একটি সত্যায়ন সার্টিফিকেট প্রদান করে, যেখানে বলা হয় যে শিক্ষার্থী এ সার্টিফিকেট দিয়েই আবেদন করতে পারবেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারবেন, তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনেক সময় এ সার্টিফিকেটকে গুরুত্ব দেয় না। তারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেয়া শিক্ষার্থীকে অনেক ক্ষেত্রেই সুযোগ দিতে চায় না বা তার আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত এগোয় না। এর ফলে শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রের দীর্ঘসূত্রতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় এবং তার শিক্ষা ও ক্যারিয়ার অগ্রসর হতে বিলম্বিত হয়।

৫. ‘তুমি প্রথম, তুমিই শিক্ষক’: বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি অঘোষিত নিয়ম রয়েছে, যেখানে ডিপার্টমেন্টে প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। পৃথিবীর অন্য কোথাও এ পদ্ধতি রয়েছে কিনা, তা জানা নেই। তবে আমি ২১টি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে দেখার এবং বিশেষ করে তুরস্ক ও পোল্যান্ডের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি অধ্যয়ন করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, সেখানে এমন কালচার নেই।

ডিপার্টমেন্টে প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হওয়ার জন্য অতিরিক্ত আগ্রহী হন, যা তাদের সহপাঠীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করে। এর ফলে প্রথম স্থান পাওয়া শিক্ষার্থী, শিক্ষকদের সঙ্গে সখ্য গড়ার চেষ্টা করেন, যা অবৈধ সুযোগ নেয়ার অভিযোগ সৃষ্টি করতে পারে। শুধু ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগে ওই শিক্ষার্থীর অন্য দেশের বা দেশের অভ্যন্তরীণ শিক্ষাব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে সীমিত জ্ঞান থাকে, ফলে তিনি শিক্ষায় বৈচিত্র্য আনতে সক্ষম হন না।

এ পদ্ধতি কোটা সিস্টেমের মতো হয়ে ওঠে, যেখানে শুধু ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয় এবং অন্য একাডেমিক ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এর ফলে বিদেশ থেকে আসতে চাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের সুযোগ দেয়া সম্ভব হয় না এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও বৈচিত্র্য প্রাপ্তির পথে বাধাগ্রস্ত হয়।

৬. ‘অপ্রত্যাশিত বেতননীতি’: বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে পুরনো সরকারি বেতননীতি। ২০১৫ সালে নির্ধারিত বেতন কাঠামো আজ পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়নি, যখন ডলারের মূল্য ছিল ৭৭ টাকা, কিন্তু বর্তমানে ডলারের মূল্য প্রায় ১২১ টাকা। এর ফলে ২২ হাজার টাকার বেতন আজকের বাজারে মাত্র ১৮১ ডলারের সমান, যা দ্রব্যমূল্যের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধিসহ ৯০ ডলারের সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অপ্রতুল বেতন শিক্ষকদের জীবিকা নির্বাহ এবং গবেষণার জন্য যথেষ্ট নয়।

ভারতসহ অন্যান্য এশীয় দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বেতন কাঠামো অনেক নাজুক, যেখানে বিসিএস কর্মকর্তাদের জীবনমানও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা জাতির শ্রেষ্ঠ মেধাবী, কিন্তু তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। দেশের জন্য স্থায়ী সংস্কারের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য একটি আলাদা এবং ন্যায্য বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা উচিত, যাতে করে আমাদের মেধাবীরা দেশে ফিরে আসার আগ্রহ দেখাতে পারেন। নতুবা ৪ বা ৫ হাজার ডলার বেতনের চাকরি ছেড়ে ১৮১ ডলারের চাকরি করতে খুব কম মেধাবীই দেশে ফিরে আসবেন।

একনজরে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো: বাংলাদেশী একাডেমিশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন, যারা বিদেশে অধ্যয়নরত এবং একাডেমিশিয়ানদের একটি সংগঠন, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু সংস্কারের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। তাদের মতে, এ সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে বিদেশে উচ্চশিক্ষিত নাগরিকরা বাংলাদেশে সহজে শিক্ষক পদে নিয়োগ পেতে পারবেন এবং দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান উন্নত হবে।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসির ফলকে বিবেচনায় না আনা উচিত, কারণ এসব ফল অনেক সময় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিভা এবং সক্ষমতা প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এ পর্যায়ে দুর্বল ফল পেয়েও পরবর্তী সময়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে উচ্চমানের একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করেন। বিদেশী মাস্টার্স, এমফিল বা পিএইচডি ডিগ্রি অথবা দেশী-বিদেশী স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য হওয়া উচিত, যা শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করবে এবং বিদেশে অর্জিত অভিজ্ঞতাকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকরভাবে সংযুক্ত করবে। একইভাবে পোস্টডক্টরাল গবেষণাকে গবেষণা অভিজ্ঞতা হিসেবে সরাসরি গণ্য করা উচিত, যা গবেষকদের জন্য একটি প্রেরণাদায়ী পদক্ষেপ হবে এবং দেশে ফিরে আসার জন্য উৎসাহিত করবে। পিএইচডি ডিগ্রিধারী প্রার্থীদের জন্য সহকারী অধ্যাপক পদের জন্য শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা শিথিলযোগ্য করা উচিত, যার ফলে বিদেশে উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হবে। স্বীকৃত দেশী বা বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাকে সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য করা উচিত।

এছাড়া শিক্ষক নিয়োগের জন্য অনলাইনে আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করা উচিত এবং বিদেশে অবস্থানরত প্রার্থীদের জন্য অনলাইনে সাক্ষাৎকার গ্রহণের ব্যবস্থা করা উচিত। এর ফলে প্রার্থীদের যাতায়াত খরচ এবং সময়ের অপচয় কমে যাবে এবং সারা বিশ্ব থেকে মেধাবী শিক্ষকের সুযোগ পাওয়া সহজ হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অর্জনকারীকে শুধু নিয়োগ দেয়ার প্রবণতা বন্ধ করা উচিত, কারণ এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা এবং খারাপ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণা অভিজ্ঞতা এবং কাজের চাপ কমানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নিয়োগ দেয়া উচিত, যাতে শিক্ষকদের গবেষণা এবং নতুন ধারণা সৃষ্টি করার সুযোগ বাড়ে। আন্তর্জাতিক ডিগ্রির সমতা প্রদান প্রক্রিয়া (Equibalance) সহজ করা এবং শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা উচিত, যা তাদের দক্ষতা এবং কাজের মান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। বিদেশ থেকে মেধাবীদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যা দেশের উন্নয়ন ও মেধাবী শিক্ষকদের কাজে লাগাতে সাহায্য করবে।

এ সংস্কারগুলো যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য, দক্ষতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত হবে। এছাড়া দেশের বাইরে শিক্ষার জন্য যাচ্ছিলেন এমন মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের নানা দিক থেকে সহযোগিতা এবং একটি কার্যকরী পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে, যা আমাদের উচ্চশিক্ষার মান এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অবদান রাখবে।

মশিউর রহমান: প্রভাষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়; পিএইচডি প্রার্থী, এরজিয়েজ বিশ্ববিদ্যালয়, তুরস্ক