বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। আমরা এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি সেই প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করা আরো বড় চ্যালেঞ্জ।

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৫৭ লাখে; এর মধ্যে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ১১ কোটি ৭১ লাখেরও বেশি যা মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। এটি ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশের জন্য একটি বড় সুযোগ। বাংলাদেশ এখন এই সুযোগের স্বর্ণযুগে আছে, যা ২০৪০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে পারে। তবে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের আশাবাদের বাস্তব রূপ নির্ভর করছে একটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর, আমরা আমাদের প্রতিটি নাগরিকের সক্ষমতার কতটুকু কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারছি। বিশেষ করে অটিজম স্পেকট্রামে থাকা মানুষদের মতো একটি বড় ও প্রায়ই উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীর সক্ষমতাকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো না যায়, তবে এ সম্ভাবনার একটি বড় অংশই অপূর্ণ থেকে যাবে। কারণ অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার কেবল স্বাস্থ্য বা সামাজিক কল্যাণের বিষয় নয়; বরং এটি সরাসরি মানবসম্পদ উন্নয়ন, শ্রমবাজার এবং জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

অটিজম বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার হলো একটি স্নায়ুবিক বিকাশজনিত অবস্থা, যা সাধারণত শৈশব থেকেই ধীরে ধীরে বোঝা যায়। এতে একজন মানুষের যোগাযোগের ধরন, আচরণ এবং অন্যদের সঙ্গে মেলামেশার পদ্ধতিতে স্বাভাবিক মানুষ থেকে কিছুটা ভিন্নতা দেখা দেয়। যেমন কেউ কথা বলতে দেরি করতে পারে, চোখে চোখ রেখে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করতে পারে, কিংবা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের প্রতি বেশি মনোযোগী হতে পারে। ‘স্পেকট্রাম’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় কারণ অটিজমের বৈশিষ্ট্য ও তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। অর্থাৎ অটিজমে থাকা প্রত্যেক মানুষের সক্ষমতা ও প্রয়োজন আলাদা। সঠিক সহায়তা ও পরিবেশ পেলে অটিজমে থাকা ব্যক্তিরাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারে। আমরা সাধারণত অটিজমকে শুধু একটি ‘‌সমস্যা’ হিসেবেই দেখি। কিন্তু বাস্তবতা হলো এটি একদিকে যেমন পরিবার ও দেশের জন্য বাড়তি খরচ তৈরি করে, ঠিক তেমনি অন্যদিকে সঠিক সুযোগ পেলে এটি একটি সম্ভাবনাও হয়ে উঠতে পারে। এ দুদিক একসঙ্গে বিবেচনা না করলে সিদ্ধান্তগুলো একপেশে হয়ে পড়ে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পুরো অর্থনীতিকেই বহন করতে হয়।

বিশ্বব্যাপী অটিজমের প্রাদুর্ভাব গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির তথ্যের ভিত্তিতে বণিক বার্তায় ২০২৩-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে প্রতি ৬৮ শিশুর মধ্যে একজনের মধ্যে অটিজমের বৈশিষ্ট্য পাওয়া যেত, যা বেড়ে প্রতি ৩৬ জনে একজন হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যও একই ইঙ্গিত দেয় বিশ্বে প্রায় প্রতি ১০০ শিশুর মধ্যে অন্তত একজন অটিজমে আক্রান্ত। বাংলাদেশের চিত্রও খুব আলাদা নয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জরিপ অনুযায়ী দেশে অটিজমসম্পন্ন শিশুর সংখ্যা প্রায় ৮৬ হাজার ১৪২। এর মধ্যে পুরুষ ৫২ হাজার ৮৩৮ এবং নারী ৩৩ হাজার ২৫০ জন। এছাড়া হিজড়া সম্প্রদায়েরও কিছু মানুষ অটিজমে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। আরো বলা হয়েছে, দেশে গড়ে প্রতি ১২৫ জন শিশুর মধ্যে একজন অটিজম নিয়ে জন্ম নেয়।

আজকের যেসব শিশু অটিজম স্পেকট্রামে রয়েছে, তারাই আগামী দিনের কর্মশক্তির অংশ হবে। তাদের যথাযথভাবে প্রস্তুত করা না গেলে, দেশের একটি অংশ আংশিক বা পুরোপুরি কাজের বাইরে থেকে যেতে পারে। এর ফলে যে উৎপাদনশীলতা হারায়, সেটিই শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। অটিজমের অর্থনৈতিক প্রভাব বুঝতে হলে আমাদের এর ব্যয়ের কাঠামোটি গভীরভাবে দেখা দরকার। এখানে ব্যয় মূলত দুই ধরনের হয় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ।

প্রত্যক্ষ ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিয়মিত স্পিচ ও অকুপেশনাল থেরাপি, বিহেভিয়ারাল বা আচরণগত সহায়তা, এবং বিশেষায়িত শিক্ষা যেগুলো অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি ও ধারাবাহিকভাবে নিতে হয়। ফলে এসব খরচ এককালীন নয়, বরং বছরের পর বছর পরিবারকে বহন করতে হয়।

অন্যদিকে পরোক্ষ ব্যয়টি অনেক সময় চোখে দেখা যায় না, কিন্তু এর প্রভাব আরো গভীর। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের একজন সদস্য, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মা বা অভিভাবক, সন্তানের যত্নের জন্য নিজের কাজের সময় কমিয়ে দেন বা পুরোপুরি কর্মজীবন ছেড়ে দেন। এতে পরিবারের আয় কমে যায়, আর দীর্ঘমেয়াদে সেই ব্যক্তি নিজেও কর্মজীবনে পিছিয়ে পড়েন। একই সঙ্গে যথাযথ সহায়তা না পেলে অটিজমে থাকা ব্যক্তিরাও তাদের সম্ভাব্য কর্মক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেন না। সব মিলিয়ে এ পরোক্ষ ব্যয়গুলো ধীরে ধীরে একটি বড় অর্থনৈতিক প্রভাব তৈরি করে, যা শুধু একটি পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে।

জ্যানেট ও তার গবেষক দলের ২০২০ সালে রিসার্চ ইন অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারস জার্নালে প্রকাশিত ‘দ্য লাইফটাইম সোশাল কস্ট অব অটিজম: ১৯৯০-২০২৯’ শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে একজন অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনব্যাপী গড় ব্যয় প্রায় ৩ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ প্রায় ২ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার যায় উৎপাদনশীলতা হ্রাসে। অর্থাৎ ব্যক্তি কর্মসংস্থানে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত হতে না পারা এবং আয় ক্ষমতা কমে যাওয়াই অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি তৈরি করে। এর পরেই রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও সহায়তা খরচ, যা প্রায় সাড়ে ৯ লাখ ডলার অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে ধারাবাহিক সহায়তা একটি বড় অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। বিপরীতে, চিকিৎসা খরচ ৩ লাখ ডলার এবং শিক্ষা খরচ ২ লাখ ডলার তুলনামূলকভাবে কম হলেও এগুলো জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে কাজ করে। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে অটিজমের মূল অর্থনৈতিক চাপ চিকিৎসা ব্যবস্থায় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতায়। ফলে নীতিনির্ধারণে শুধু চিকিৎসা বা শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং স্বাধীন জীবনযাপনের সুযোগ তৈরির ওপর জোর না দিলে এ ব্যয় ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাবে। এ ব্যক্তিগত ব্যয়ের চিত্র বৃহত্তর অর্থনীতিতেও প্রতিফলিত হয়। ১৯৯০-২০১৯ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০ লাখ নতুন অটিজম কেস যুক্ত হয়ে মোট সামাজিক ব্যয় ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০-২০২৯ সময়ে আরো ৪ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হতে পারে, আর প্রবণতা বাড়তে থাকলে মোট ব্যয় ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ফলে অটিজম এখন শুধু একটি স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়, বরং একটি ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশে এখনো এ ধরনের বড় পরিসরের ব্যয়ের হিসাব নেই। তবে বাস্তবতা হলো এখানে প্রায় পুরো ব্যয়ই পরিবারকে বহন করতে হয়। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারও চাপে পড়ে, আর নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো আরো ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অভিভাবকের কর্মজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি। কোনো অভিভাবক যদি সন্তান যত্নের কারণে কাজ কমিয়ে দেন বা পুরোপুরি ছেড়ে দেন, তখন ঘরোয়া আয় কমে যায়। এ আয়-ক্ষতি সরাসরি পরিবারকেই প্রভাবিত করে, কিন্তু এর প্রভাব বড় অর্থনীতিতেও প্রতিফলিত হয়, যা এক ধরনের নীরব অর্থনৈতিক ক্ষয়। এখন আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো এ জনগোষ্ঠী কি কেবল ব্যয়ের উৎস, নাকি সঠিক বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদেরও অর্থনীতির সম্পদে পরিণত করা সম্ভব?

গবেষণা বলছে, সঠিক সুযোগ পেলে অটিজমে থাকা অনেকেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা দেখাতে পারেন বিশেষ করে যেখানে মনোযোগ, নির্ভুলতা ও ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে এসব দক্ষতার চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউতে ২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে প্রফেসর আস্টিন ও প্রফেসর পিসানো আলোচনা করেছেন যে অটিজমসহ বিভিন্ন নিউরোডাইভার্স অবস্থার মানুষদের আমরা প্রায়ই প্রচলিত নিয়োগ ব্যবস্থার কারণে উপেক্ষা করি, যদিও তাদের অনেকেরই অসাধারণ বিশ্লেষণ ক্ষমতা, সূক্ষ্ম বিষয় ধরার দক্ষতা এবং গভীর মনোযোগ থাকে। বাস্তবে এ দক্ষতাগুলো সফটওয়্যার টেস্টিং, ডেটা অ্যানালাইসিস ও কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্সের মতো কাজে বিশেষভাবে কার্যকর। এসএপি, ফোর্ড ও মাইক্রোসফটের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান এ বাস্তবতাকে বুঝে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে এ ট্যালেন্টকে কাজে লাগাচ্ছে এবং এতে তাদের উৎপাদনশীলতা ও উদ্ভাবন দুটিই বেড়েছে। একইভাবে বিভিন্ন প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যা যে সঠিকভাবে কাঠামোবদ্ধ পরিবেশ এবং সহায়ক ব্যবস্থাপনা পেলে নিউরোডাইভার্স কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে উচ্চ উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম। হলিউডের চলচ্চিত্র ফরেস্ট গাম্প-এ অটিজমে আক্রান্ত চরিত্রের বিশেষ দক্ষতা ও প্রতিভা তুলে ধরা হয়েছে। তেমনই দ্য অ্যাকাউন্ট্যান্ট-এ অটিজমে আক্রান্ত নায়ক যে জটিল হিসাবরক্ষণ ও বিশ্লেষণ কাজ দক্ষতার সঙ্গে করে, তা দেখানো হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এখানেই একটি বড় কৌশলগত সুযোগ অপেক্ষা করছে। আইটি, এআই ট্রেনিং, সাইবার সিকিউরিটি, আর্ট, উৎপাদন খাতের কোয়ালিটি কন্ট্রোল, প্রিসিশন বা পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ, এমনকি অ্যাকাউন্টিং থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যন্ত এসব খাতে অটিজমসহ বিভিন্ন নিউরোডাইভার্স তরুণদের দক্ষ করে তোলা গেলে, এটি কেবল নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে না; একই সঙ্গে আমাদের রফতানিমুখী সেবা খাতকে আরো শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করবে। এটি দেশের জন্য এক দারুণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্ভাবনার পথ খুলে দেবে।

এ জায়গায় করপোরেট খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু আন্তর্জাতিকভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ‘নিউরোডাইভার্সিটি হায়ারিং প্রোগ্রাম’ চালু করে ইতিবাচক ফল পেয়েছে। সেহেতু বাংলাদেশেও যদি বড় করপোরেট ও আইটি প্রতিষ্ঠানগুলো পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়, তবে তা সিএসআরের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি ব্যবসায়িক সুবিধা তৈরি করতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে নীতিগত সমন্বয় অপরিহার্য। প্রথমত, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর জাতীয় স্ক্রিনিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাজারচাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিশেষায়িত ভোকেশনাল ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু করতে হবে। তৃতীয়ত, করপোরেট খাতকে উৎসাহিত করতে কর-প্রণোদনা এবং নীতিগত সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে।একই সঙ্গে একটি নির্ভরযোগ্য জাতীয় ডেটাবেইস তৈরি করা জরুরি—যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা, দক্ষতা এবং সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকবে। তথ্যভিত্তিক নীতি ছাড়া এ খাতে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব নয়।

সবশেষে বলা যায়, অটিজমকে শুধু ‘‌ব্যয়’ হিসেবে দেখার সময় এখন আর নেই। বরং এটিকে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখার সময় এসেছে। বাংলাদেশের সামনে এখন একটি স্পষ্ট পছন্দ রয়েছে। আমরা চাইলে অটিজমকে একটি ‘‌ব্যয়’ হিসেবে দেখেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারি যার ফলে এর অর্থনৈতিক চাপ ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকবে। অথবা আমরা এটিকে একটি ‘‌কৌশলগত বিনিয়োগ’ হিসেবে বিবেচনা করতে পারি যেখানে সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি সম্ভাবনাময় জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

এটিএম জান্নাতুল মোসনাজ: ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) সিসমার্ক লিমিটেড