এটি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ ও ক্ষণিক সিদ্ধান্তের ফল। বিশ্বকে একটি সুসংগঠিত ভূরাজনৈতিক ইকোসিস্টেম হিসেবে না দেখে প্রত্যেক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে পৃথক ‘লাভ-ক্ষতির চুক্তি’ বিচার করছেন ট্রাম্প। এ কৌশলগত শূন্যতার সুযোগে রাশিয়া ও চীন তাদের ভূরাজনৈতিক প্রভাব দ্বিগুণ গতিতে বিস্তার করছে। ক্রেমলিন আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করে সাবেক সোভিয়েত অঞ্চল ও ইউরেশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মরিয়া। আর চীন ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই), বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে নিজেকে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু করতে চায়।

বাস্তবতা হলো, কোনো দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া পদক্ষেপ দেশটিতে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে। ইউক্রেনের প্রভাব যেমন তাইওয়ানে পড়ে, তেমনি চীনের ওপর চড়া শুল্কারোপ করলে তারা বিরল খনিজ সরবরাহ আটকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে পাল্টা ধাক্কা দিতে পারে। ট্রাম্পের হাতে এখনো সময় রয়েছে নিজের মেয়াদের এ কৌশলগত ব্যর্থতা শুধরে নেয়ার। বর্তমানের জটিল ও বহুমাত্রিক বিশ্ব ব্যবস্থায় কেবল ‘চুক্তিভিত্তিক’ চিন্তাভাবনা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থান রক্ষা সম্ভব নয়।

মাইকেল মিকলুসিক: অধ্যাপক, স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ, ইউনিভার্সিটি অব সাও পাওলো

নিক্কেই এশিয়ায় প্রকাশিত নিবন্ধের সংক্ষেপিত ভাষান্তর